শিরোনাম

প্রচ্ছদ ধর্ম দর্শন

অতপর: একটি নতুন বর্ষের সূচনা

শাহাদা্ত হুসাইন | বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1057 বার

অতপর: একটি নতুন বর্ষের সূচনা

আসসালামু আলাইকুম ১৪২৩ বাংলা নব বর্ষের শুভেচ্ছা সবাইকে ১৪২২ বাংলা সাল শেষের লগ্নে আগামীকালের পূর্ব আকাশে যে লাল সূর্যটি উদয় হবে তা হবে ১৪২৩বাংলা সনের । এর মানে হল আমাদের জীবন থেকে বিদায় নিল আরো একটি বছর , সেকেন্ড ,মিনিট-ঘন্টা ,দিন-রাত, সপ্তাহ-মাস পেরিয়ে একটি বছর । অতপর: একটি নতুন বর্ষের সূচনা। একটি নতুন বর্ষের সূচনা শুধু আগমন নয়, বিদায়ও। জীবনের সময়-সম্পদ থেকে একটি পূর্ণ বছর ব্যয় হয়ে গেল। তাই নতুন বছরের আগমন বিদায়েরই বার্তাবাহক। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বহু সম্পদে সম্পদশালী করেছেন। অর্থ-সম্পদ, জ্ঞান-সম্পদ ও সময়-সম্পদ এই সব আল্লাহর দান। তবে একটি প্রকাশ্য পার্থক্য এই যে, অর্থ-সম্পদ, জ্ঞান-সম্পদ ও অন্য সকল সম্পদে বিয়োগ যেমন হয় তেমনি যোগও হয়। মানুষ যেমন অর্থ ব্যয় করে তেমনি উপার্জনও করে। তদ্রূপ প্রতিনিয়ত আমরা যেমন বিস্মৃত হই তেমনি নতুন নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধও হই। পক্ষান্তরে সময়-সম্পদে শুধু বিয়োগ, কোনো যোগ নেই। আমাদের জীবন থেকে দিন-রাত, সপ্তাহ, মাস ও বছর শুধু বিয়োগই হচ্ছে, যোগ হচ্ছে না। এভাবে প্রত্যেকের জীবনে সেই অমোঘ মুহূর্ত উপস্থিত হবে, যা আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন। একটি নতুন বছরের আগমনের তাৎপর্য হল জীবনের নির্ধারিত সময় থেকে একটি পূর্ণ বছর বিয়োগ হয়ে যাওয়া। প্রশ্ন এই যে, বিয়োগ কি ফূর্তি ও উৎসবের বার্তা বহন করে? তাই একজন মুমিনের জন্য এ মুহূর্তটি উৎসবের নয়, ভাবনা ও হিসাব মেলানোর। সময়-সম্পদের যে অংশ ব্যয় হয়ে গেল তা কি প্রয়োজনীয় ও লাভজনক ক্ষেত্রে ব্যয় হয়েছে না অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর খাতে? জীবনের মূলধন খরচ করে জীবনকে আমরা কতটুকু সমৃদ্ধ করেছি? মূলত জীবনের প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত, প্রতিটি সপ্তাহ, মাস, বছর এই হিসাবের বার্তা নিয়ে আসে। আরেকটি বিষয় এই যে, পার্থিব সকল সম্পদের মতো সময়-সম্পদও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দান। এর প্রকৃত মালিক আল্লাহ তাআলা। তিনিই সময়ের সৃষ্টিকর্তা। মানুষকে এই সম্পদ তিনি দান করেছেন তার আদেশ মোতাবেক ব্যয় করার জন্য। তাই প্রদত্ত সময়-সম্পদ ব্যয় করে মানুষ যখন তাঁর কাছে ফিরে যাবে তখন প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। তাই একটি নতুন দিন, নতুন রাত, একটি নতুন সপ্তাহ, মাস ও বছরের আগমন আমাদেরকে সেই হিসাব-দিবস সম্পর্কে সচেতন করে। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনিই রাত ও দিনকে একে অপরের অনুগামী করেছেন, তাদের জন্য যারা উপদেশ গ্রহণ করতে চায় অথবা শোকর গোযারী করতে চায়।’ তাই দিবস ও রজনীর আগমন ও নির্গমন একটি বিশেষ বার্তা বহন করে। যা অনুধাবন করাই হল প্রকৃত বুদ্ধিমানের পরিচয়। হাদীস শরীফে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বিচক্ষণ ওই ব্যক্তি যে নিজের হিসাব গ্রহণ করে এবং মৃত্যুর পরের জন্য কর্মব্যস্ত থাকে। আর অক্ষম ওই ব্যক্তি, যে নিজেকে প্রবৃত্তির অনুগামী করে আর আল্লাহর নিকট অমূলক বাসনা পোষণ করে। তাই নতুন বছরের আগমনে ফূর্তি ও উৎসবের অবকাশ নেই; বরং এটা বিগত সময়ের কর্ম পর্যালোচনা করে আগামীর জন্য নতুন সংকল্প ও প্রেরণায় উজ্জীবিত হওয়ার সময়।

শাহাদা্ত হুসাইন, মদীনা মুনাওয়ারাহ্, সৌদী আরব।


Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রসঙ্গঃ মাহে রমজান

০৩ জুন ২০১৬ | 3925 বার

রমজানের আমল সমূহ

০৯ জুন ২০১৬ | 3597 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১