শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

অবলা গিটার !!

জোবায়েদ আহাম্মদ মোমেন | বুধবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | পড়া হয়েছে 1669 বার

অবলা গিটার !!

তারে লইয়া যে হারে বর্তমান নবীনগরে টানাহ্যাচরা শুরু হইছে ভাগ্যিস গিটারের চেতনা নাই, তা নাহলে কবেই অচেতন হইয়া যাইত। ভাগ্য ভালো গিটার বাবাজীর প্রান নাই ,তা নাহলে কবেই তাহার প্রানপাখি নবীনগরের ধরাধম থেকে উইরা যেত।

আমি একটা ক্ষ্যাতের ক্ষ্যাত, আনস্মার্ট, কারন আমি বাঙ্গালী হয়েও গিটার বাজাতে জানিনা। অথচ প্রত্যেক মডারেট নবীনগইরার জন্য গিটার জানাটা ফরয !হারমোনিয়াম ও দোতারা…..? ওটা তো রিকশাওয়ালাদের যন্ত্র !!


বর্তমান রিমিক্স নবীনগরের অনেকেরই ভাবটা এমন যে, আমাদের মতো স্ব-সংস্কৃতিমনা জাতি আর কোথাও নেই এই ধরণীতে। আমি প্রশ্ন করি সংস্কৃতি বলতে আপনি যে হাতির আণ্ডা বোঝেন সেটা কি গাছে ধরে, নাকি রান্না করে খেতে হয়?

ভাইসাব, গিটারের কোন হাত পা নেই যে সে সংস্কৃতি লালন করবে। সংস্কৃতি লালন করে মানুষ। আর সেই মানুষের নামে সংগীতের নাম হইতে পারে যেমন রবীন্দ্রসংগীত, নজরুল গীতি, লালনগীতি, মলয়া ইত্যাদি। কিন্তু সংস্কৃতি ও যে কোন ব্যাক্তির নামে হতে পারে এই পরথম শুনিলাম। মারহাবা !!

আমরা ‘সৌভাগ্যবান’ যে ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ ও মনমোহন দত্তের পর অধুনা নবীনগরবাসী কতিপয় সাধক-মহাসাধক/সংগীতজ্ঞ পেয়েছি যারা নবীনগরের সংগীত ও সংস্কৃতি কে অনেক “হাইটে” নিয়ে গেছেন, কিন্তু আফসোস তাদের চিন্তার লিমিট ড্রেন আর ডাস্টবিনেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

পাশাপাশি, গুরু ভক্তি পরুমান করতে ইদানিং কেউ কেউ আবার উইঠ্যা পইরা লাগছে, গুরু বন্দনাই গিটার হাতে নবীনগরের মাঠ-ঘাট স্টুডিও কাপাইয়া ফেলাইতেছে। টু বী অনেস্ট, গুরুদক্ষিনা পেলে গিটার হাতে পাঁচ আঙ্গুলী সেলুট কেন তবন অথবা কাছা খুললেও দোষের কিছু নাই। যদিও সভ্য সমাজে এটা অসম্ভব, আমরা ভুলে যায় অযোগ্যরা প্রশংসা করলে মাঝে মাঝে তা নিন্দাকেও ছাড়িয়ে যায়।

আমরা অথবা আমাদের যা কিছু আছে তাই আমাদের সংস্কৃতি। সংস্কৃতির মূল কথা নিজেকে সুন্দর করা, সভ্য করা। নৈতিকতা সংস্কৃতির মূল আশ্রয়। এ আশ্রয় থেকে বিচ্যুত হলে সংস্কৃতি ধ্বংস হয়। তাই শুদ্ধ সংগীত চর্চায় যন্ত্র কোন মূখ্য বিষয় নয়, যন্ত্রের পিছনের মানুষটার ভালবাসা, সাধনা আর নৈতিকতাই আসল বিষয়। হালাল জিনিস দিয়া বানানো রুটি বা পিঠার ধরন কি হবে, মিষ্টি হবে নাকি ঝাল হবে এ ব্যাপারে কোন বাধা নিষেধ নাই। তদরুপ শুদ্ধ সংগীত চর্চায় গিটার, সরোদ ও কিবোর্ড কোন মেটার না। উদ্দেশ্য ও নৈতিকতাই মূখ্য।

কবিরাজ (কেম্পাসার) সালেক ভাইয়ের কথা মনে আছে ? যিনি পোংডা সালেক নামে নবীনগরে অধিক পরিচিত। সরি টু সে, জনপ্রিয়তার বিচারে নবীনগরের ‘হাটে বাজারে’ সালেক ভাই কিন্তু কোন অংশেই কম নয়। বাজাতেন ও কিন্তু আমাদের লোকজ সংস্কৃতির যন্ত্র দোতারা, তাই বলে সংগীত ও সংস্কৃতির মূল্য বিচারে সালেক ভাইয়ের স্থান নিশ্চয় নবীনগরের গর্ব মহর্ষি মনমোহন দত্তের সমান নয়!!

আসলে লেজ যদি হয় খড়ের ভয় থাকে আগুনের।

গুরুর “তুকতাক” দিন দিন যেভাবে আলো ছড়াচ্ছে তাই শিষ্যরা আছেন আতংকে। কখন না জানি আবার গুরু কর্তৃক দানকৃত “গুরুদক্ষিণা”র কথা পাবলিকলী ফ্লাশ হয়ে যায়, পাবলিক আবার জাইগ্যা ওঠে। সুবিধাভোগীরা নিজেদের কুকর্ম আড়াল করতেই গিটারকে নিয়ে ছুতা বের করছেন, কোমলমতি যুবকদের মাঝে গিটারের ইস্যুটিকে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন। সরলমতি

টিনেজারদেরকে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গের মুখোমুখি দাড় করিয়েছেন। এটা ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই না।

এরা ভুলে যায় বিনোদনের মাধ্যম ফেসবুক এখন সিটিজেন্স জার্নালিজমের প্ল্যাটফর্মে রুপ নিয়েছে। ভাইসকল, নবীনগরের সিটিজেনদের বেক্কল ভাববেন না। সাধারন জনগন এখন কিঞ্চিৎ সচেতন, আপনাদের কাশি দিয়া কু-বায়ু ত্যাগের শব্দ ঢাকার ভনিতা সহজেই ধরা খাইয়া যায়।

বস্তুত সুবিধাভোগীরা নিজেদের দু-কান অনেক আগেই কেটে ফেলেছে, এদের হায়া-“শরম নেই। এখন দেখছি তাদের লজ্জায় ও ফরমালিন দেওয়া আছে। LOL !!

অনেক হয়েছে গুরুগম্ভীর আলোচনা চলুন একটু হালকা হয়, প্রচলিত একটি কৌতুক দিয়ে লিখাটি শেষ করি।

জঙ্গলে এক চিতা সিগারেট খাচ্ছিল। তখন এক ইঁদুর এসে বলল, ভাই নেশা ছেড়ে দাও, আমার সঙ্গে এসো। দেখ, জঙ্গল কত সুন্দর! চিতা ইঁদুরের সঙ্গে যেতে লাগল। সামনে গিয়ে দেখল, হাতি অলস সময় কাটাচ্ছে। ইঁদুর হাতিকেও একই কথা বলল। হাতিও তাদের সঙ্গে চলতে থাকল। কিছুদূর গিয়ে তারা দেখল, বাঘ হুইস্কি খাচ্ছে। ইঁদুর তাকেও উপদেশ দিয়ে বলল, ভাই হুইস্কি ছাড়, দেখ জঙ্গল কত সুন্দর!

বাঘ তার হাতের হুইস্কি পাশে রেখে ইঁদুরকে কষে একটি থাপ্পড় মারল। উপস্থিত চিতা ও হাতি প্রতিবাদ করে বলল, এটা কী হলো? ইঁদুর তো ভালো কথাই বলেছে। বাঘ বলল, এই ভন্ড ইঁদুরকে তোমরা চেন? গতকালকে সে গাঁজা খেয়ে এসে আমাকে তিন ঘণ্টা জঙ্গলে ঘুরিয়েছে !!

ভাবনার বিষয় হলো আমরাও যেন শেষ পর্যন্ত এই প্রচলিত ঘূর্ণিপাকে নিপতিত না হয়।

ভাল থাকুন।

পুনশ্চ: শুদ্ধ সংগীত চর্চায় একতারা, দোতারা, সরোধ, হারমোনিয়াম, কীবোর্ড ও গিটার কোন ফ্যাক্ট না।

এটা আমি জানি, আপনি জানেন, রাস্তার মোড়ের পাগলটাও জানে।

 

জোবায়েদ আহাম্মদ মোমেন ।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4807 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2963 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০