শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

অবশেষে.. তিনদিন মৃত্যুযন্ত্রনায় থেকে সেই পা কাটা রোগীর চির বিদায়

ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০ | পড়া হয়েছে 2761 বার

অবশেষে.. তিনদিন মৃত্যুযন্ত্রনায় থেকে সেই পা কাটা রোগীর চির বিদায়

নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে আধিপত্যের জেরে বিবাদ মান দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক ব্যক্তির পা কেটে প্রতিপক্ষের লোকজন কাটা পা নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আনন্দ উল্লাসের ঘটনাটি সারাদেশের মানুষকে স্তম্ভিত করে দেয়।

গত ১২ এপ্রিল দুপুরে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা,লুটপাট চালানো হয়। একই সময়ে উওর লক্ষিপুর হাজিরহাটির মৃত মধু মিয়ার ছেলে রিকশা চালক মোবারক মিয়ার (৪২) পায়ের গোড়ালি থেকে কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেয় প্রতিপক্ষের লোকজন। সাথেসাথে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। ঘটনার তিনদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাতের আনুমানিক দেড়টার দিকে তিনি মারা গেছে বলে জানিয়েছেন নিহতের ভাতিজা আলামিন ও শামিম মিয়া।
এ ঘটনার পর থেকে মোবারক মিয়ার স্ত্রী এক সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েন। এ ঘটনার তিন দিন পর স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে তিনি এখন বাকরুদ্ধ।


সাড়াগ্রামে এতো মানুষ থাকতে তাদের ক্ষোভ মোবারক মিয়ার উপরে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নিহতের স্ত্রী জানান, ‘আম্রা কোন কাইজ্জা টাইজ্জাত ছিলাম না। আম্রা সবসময় ঢাহাত থাহি। হেনো জাদু (মোবারক) রিশকা চালা। আম্রার বিয়া ঢাহাত অইছে আম্রা ঢাহাত অই থাহি। ভাইরাসের লেজ্ঞা আমডা এনো আইছি’।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দরিদ্র রিকশা চালক মোবারক মিয়া বহু বছর আগে থেকেই ঢাকায় বসবাস সহ সেখানেই রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঢাকা থেকে চার বছর আগে গ্রামে এসেও দাঙ্গাহাঙ্গামা দেখে দেড় বছরের মত স্ত্রীকে নিয়ে শুশুর বাড়িতে গিয়ে থাকেন। মাঝখানে করোনা ভাইরাসের কারনে আবারো এলাকায় ফিরে আসেন তিনি। এই আসা তার জীবনের কাল হয়ে দাড়ালো।

কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দিতে গত চার মাসে তিনবার ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রতিবারই এসব সংঘর্ষে একই ইউনিয়নের গৌরনগর, সাতঘরহাটি,গাজীরহাটি গ্রামবাসীর অংশগ্রহণ থাকে৷ প্রতিবারই একে অপরের বাড়িঘরের মালামাল লুট করে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরবর্তিতে মামলা হলে এলাকা পুরুষ শুন্য থাকে বেশ কয়েকদিন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামীর পা কাটার সময় সেখানে পুলিশের অবস্থান ছিলো। তিনি পুলিশের কাছে গিয়ে সহযোগিতা চেয়ে পাননি। উল্টো তাকে দৌড়ানি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান। মোবারকের স্ত্রী আরো জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে এলাকার বহু বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। ভয়ে অনেকে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। মোবারক মিয়া এসময়ে বাড়িতেই ছিলো। এলাকার আজর গুষ্টি, কালার বাড়ি, আনোয়ার গুষ্ঠি, মোস্লেম মেম্বারের গুষ্টি ও খাদ বাড়ির লোকেরা বিভিন্ন বাড়িতে হামলা, লুটপাট চালিয়ে আগুন লাগাতে থাকে। এদের কয়েকজন তার স্বামীর পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তিনি স্বামীকে বাচাতে দৌড়ে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাননি বলে প্রতিবেদককে জানান।

সংঘর্ষের পরদিন দুই দলের দলনেতা সহ ৪৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উল্যেখ্য, প্রায় তিন যুগের বেশী সময় ধরে দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির ইন্ধনে আবু মেম্বার ও মোসলেম মেম্বারের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এলাকার যে কোন ইস্যুতে ওই দুই গ্রুপের লোকজন সংঘর্ষে মেতে উঠে।
বর্তমানে ওই দুই ব্যক্তির স্থলে স্থানীয় চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ও কাউছার মোল্লা (আড়ালে সাবেক চেয়ারম্যান মাশুকুর রহমান) নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। এ ক’বছরে নানা ইস্যুতে সংঘঠিত সংঘর্ষে ৪টি খুন ও ২৫টি পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে নবীনগর থানায়।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25212 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১