শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

দেখার কেউ নেই

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ।। মেঘনার ভাঙ্গণে গ্রামের পর গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন

কামাল হোসেন মাহমুদ | শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 5120 বার

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ।। মেঘনার ভাঙ্গণে গ্রামের পর গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও নরসিংদী জেলার বিস্তীর্নাঞ্চল মেঘনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নরসিংদীর ইমামদির কান্দি ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার চরলাপাং গ্রাম দুটি সম্পূর্ণ বিলীন হওয়ায় অন্যত্র সরে গিয়ে বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছে মেঘনা পাড়ের বাসিন্দারা।

উল্লেখ্য, নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার চাঁনপুর, কালিকাপুর, সদাগর কান্দি, কুড়ের পাড়, মোহিনীপুর, মুজিবপুর, মির্জাচর, শান্তিপুর ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগর উপজেলার বাইশমৌজা, বীরগাঁও, নজরদৌলত (গাছতলা), দূর্গারামপুর, চরকেদেরখলা, চিত্রী, সাদবপুর, মানিকনগরসহ আরো অনেক গ্রাম, বাজার, স্কুল, মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মেঘনা নদীর ভাঙণে সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক বিলীনের পথে। ইতিমধ্যে নবীনগরের দাসকান্দি, কেদেরখলা, চিত্রীর দাসকান্দি, চরলাপাং গ্রাম, বাজার, স্কুল ও বিভিন্ন স্থাপনা এবং রায়পুরার ইমামদির কান্দি, গ্রাম, মাদ্রাসা, মসজিদ, স্কুলসহ সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ সকল গ্রাম ও স্থাপনা সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তরিত করে বসতি স্থাপন করে অত্র এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ জনসাধারণ অতি কষ্টে জীবন-যাপন করে আসছে। কিন্তু এলাকার চিহ্নিত দুস্কৃতিকারী, ভূমিদস্যু ও বালু সন্ত্রাসীরা প্রশাসনিক অনুমোদনের নামে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নদী ও নদীর তীর ঘেষে বালু উত্তোলন করার ফলে ২/৩ বছর যাবৎ আবার ভাঙ্গণের তীব্রতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গত ঈদের দিন কালিকাপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার ৬০/৬৫টি বসত ঘর-বাড়ীসহ একদিনে একইসাথে ডেবে নদীতে মিশে যায়। ড্রেজারর মাধ্যমে বালু উত্তোলণ করার ফলে নদীর তলদেশ প্রচুর গভীর হওয়ায় ব্যাপক ভাঙ্গণের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে অনাকাঙ্খীত এবং মারাত্বক ক্ষয়ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
প্রকাশ, চাঁনপুর ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোমেন সরকার ও তার ভাই যুবদল নেতা উজ্জল, বিএনপি নেতা সামছু মেম্বার, বরকত উল্লাহ, সফিক গংদের নেতৃতে¦ বালু উত্তোলনের এই হরিলুট চলছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সাহস দেখিয়ে কিছু বলতে পারছে না। কিছু বলতে গেলে তাদেরকে এলাকা ছাড়া করা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে শুরু থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত। তারা এও বলে থাকেন, আওয়ামীলীগের যমানায় স্থানীয় এমপিকে নিয়মিত কমিশন দিয়েই আমরা বালু উত্তোলন করছি। শুধু তাহাই নয়, থানা, প্রশাসন, নেতা পাতি-নেতাসহ অনেকেই আমাদের টাকা/কমিশন খাওয়ার জন্য চাতক পাখির মতো বসে থাকে। তাদের চাহিদা পুরণ করেই আমরা বালু উত্তোলন করছি। বৈধ-অবৈধ বুঝি না, বালু উত্তোলন কেউ ঠেকাইয়া রাখতে পারবে না।
সর্বশেষ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত (১৯/০৪/২০১১ইং) গেজেট অনুযায়ী বালু/মাটি উত্তোলন কতিপয় ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বালু উত্তোলন বিপননের উদ্দেশ্যে ড্রেজিংয়ের ফলে কোন নদীর তীর ভাঙ্গণের শিকার হইলে, ফসলী জমি, বসত-ভিটা বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হইবার আশংকা থাকিলে, নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশসহ মৎস, জলজ প্রাণী বা উদ্ভিদ বিনষ্ট হইলে বা আশংকা থাকিলে, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা যাবে না। সর্বোপরী বালু উত্তোলনের ফলে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হইলে বালু উত্তোলন করা যায়। অন্যথায় বিধি বিধান ও আইন-কানুনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে এই অঞ্চলের মেঘনায় এমন একটি কারণও খোঁজে পাওয়া যাবে না- যে কারণে বালু উত্তোলন করা যায়।
বালু সন্ত্রাসীদের দ্বারা বালু উত্তোলনের ফলে ভিটে মাটি, সহায় সম্পদ হারা ভুক্তভুগিরা ইতিমধ্যে আইনী ও গণতান্ত্রিক ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের চিন্তাভাবনা করছে।


এ বিষয়ে উভয় পাড়ের জনগণ বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে নিরব থাকার বিষয়টি সুশীল মহলকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4774 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2898 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১