শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

অব্যক্ত আর্তনাদ

আল আমীন শাহীন | মঙ্গলবার, ০৭ মার্চ ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1232 বার

অব্যক্ত আর্তনাদ

আজ ৭ ই মার্চ আমার পিতা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশিস্ট ব্যবসায়ী লাখীবাজারস্থ শাহীন ফামের্সীর সত্বাধিকারী কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরাইল উপজেলার দেওড়া গ্রামের সন্তান মরহুম রফিকুল ইসলাম খন্দকার জানু মিয়ার ৩০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে উত্তর পৈরতলাস্থ বাসভবনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৮৭ সালের ৭ ই মার্চ রফিকুল ইসলাম জানু মিয়া সৌদি আরবের রিয়াদে ইন্তেকাল করেন( ইন্নালিল্লাহে- রাজেউন)। মরহুম রফিকুল ইসলাম জানু মিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া চাইছি।


বাবা আমায় ক্ষমা করো
————

৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। ৭ মার্চ ১৯৮৭ বাবা তুমি চলে গেছো দূরে । না ফেরার দেশে। বন্ধুর মতো ছিলে তুমি। বুঝে উঠার পর থেকে তুমিই ছিলে সবসময়ের বন্ধু, আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে দেখে তোমর কেটেছে বেলা, আর অমি অবুঝ অবচেতন শুধু করেছি অবহেলা। ৭ ম শ্রেনী পর্যন্ত তোমাকে পেয়েছি, ক্যাডেট কলেজে দিয়ে তুমি চলে গেলে, দেশপ্রেমিক সেনা হবো এমনই ইচ্ছে ছিল তোমার । সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি। পিতৃহীন জগত নাটকে অভিনয়ে অভিনয়ে আজও কাটছে বেলা। অব্যক্ত নানা কথা, শুধু একটি উচ্চারণই আজ, বাবা তোমার কাছে ঋনী, তুমি আমাকে ক্ষমা করো।

অব্যক্ত আর্তনাদ
———————————আল আমীন শাহীন-

তোমার ছবি দেখে, অব্যক্ত একটি আর্তনাদ
নিঃশব্দে কেঁদে উঠে বাবা–,
অনেক দিন পেরিয়ে গেছে, দিনগুলো আগের মতোই ,
তোমার ব্যবহারের চেয়ার, হাতের আংটি, চশমা
তোমার না ছোঁয়ায় ধুলার আবরণে ঠাঁই পড়ে আছে।
ঘরের এদিক সেদিক , বারান্দা- বাগান, শোবার ঘরটা
প্রতিদিন তোমার হাঁটা চলার স্থান ,
গোল টেবিল , হেলান দেয়ার সেই চেয়ারটা
সব সবই পড়ে আছে একই জায়গায় ,
তোমার অনিন্দ্য বাগানে
তুমি ছাড়াই দিন আসে দিন যায় ।
একাকী যখন হই , দেখি ভাবি নিজেরই মনে
হারিয়ে যাই ফেলে আসা সেই সোনালী দিনে ।
তুমি হাসছো – বসছো – হাটছো – ঘুরছো ,
আমরা সবাই যেন বিচরণে -আলাপনে ,
তোমার মুখে সবসময়ের সেই হাসি
স্পস্ট হয়ে উঠে, আমি হেসে উঠি আনমনে ।
হঠাৎ থমকে যাই , তোমাকে হাতড়ে বেড়াই
অব্যক্ত ব্যথা বুকে , আর্তনাদ নিঃশব্দে —
কেমন আছো – বাবা তুমি কোথায়?
আবার কি কোনদিন দেখা হবে ?
বাবা – বাবা বলে ছোট শিশুর মতো
তোমার দেখা আর ছোঁয়া পেতে
মনের ব্যাকুলতায়, অব্যক্ত ব্যথায়
দুঃসহ কস্টে সময় কেটে যায়।
কেউ শুনে না , শুধু প্রতিধ্বনি হয় নিজের বুকে ,
তাকিয়ে দেখি তোমার ছবি দীর্ঘ শ্বাসে ।
কালো ফ্রেমে বাঁধা তোমার মিস্টি মুখ
চোখের জল ভিজিয়ে দেয় বুক ।
হাড় মাংস সব সবই ভিজে যায় ,
জলের স্রোত রক্তে,ধাবিত হয় শিরায় উপ শিরায় ।
তোমার বন্ধুদের দেখি দূরে আর কাছে
তাঁদের অনেকে আজো বেঁচে আছে ।
তাদেরই মতো করে পেতে চাই তোমায়
না পয়ে দীঘশ্বাস আর অব্যক্ত ব্যথায় ,
চোখ বন্ধ করি খুঁজি আর ফিরি
তুমি ভেসে বেড়াও আমার অতৃপ্ত আত্মায়।
চোখ খুলে দেখি সময় বয়ে যায়,
সব কিছু আগেরই মতো , সব কিছুই রয়ে যায়
তোমাকে ছোঁয়ার অভাবটাই থেকেই যায় ।
————————————————

স্মৃতিতে অম্লান বাবার মুখ
—————-
৩০ বছর পাড় হলো আব্বা নেই। আব্বার কথা মনে পড়ে খুব। স্মৃতির এ্যালবামে আব্বাকে দেখি সময় পেলেই। এই ছবিটি ১৯৭৪ সালের বন্যার সময়ের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের লাখীবাজারের আমাদের শাহীন ফার্মেসীর সামনে সেই সময়ে তোলা এই ছবি। ছবিতে সর্বডানে নৌকার বৈঠা হাতে আমি (লাল চিহ্ন)। আমার পেছনে হাবির মামা, ছোটবোন শিপুকে কোলে নিয়ে চেয়ারে বসা আব্বা ( মরহুম রফিকুল ইসলাম জানু মিয়া),পাশে দাঁড়ানো মিনু খালা ( সাবেক উপমন্ত্রী এডভোকেট হুমায়ূন কবীরের সর্বকনিষ্ঠ বোন) সঙ্গে লাখী বাজারের তপন কাকু, হারুণ কাকু,মানিককাকু সহ কয়েকজন।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4632 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2667 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১