শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম, স্লাইডার

আইসোলেশন-কোয়ারেন্টাইন কী আসুন জেনে নেয়

ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ২২ মার্চ ২০২০ | পড়া হয়েছে 412 বার

আইসোলেশন-কোয়ারেন্টাইন কী আসুন জেনে নেয়

দেশে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বলা হচ্ছে যারা বিভিন্ন দেশ (বিদেশ) থেকে এসেছেন তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এখন জানার বিষয়, হোম কোয়ারেন্টাইন বলতে আসলে কী বুঝানো হচ্ছে! এবং কখন, কেন,কতদিন মেয়াদে এ ব্যবস্থা নিতে হবে তা অনেকের কাছে অজানা থাকায় সরকারি নির্দেশেও প্রবাস ফেরত ব্যক্তিদের এ সেবার আওতায় আনা যাচ্ছেনা।

শুধুমাত্র অজ্ঞতার কারনে প্রবাসীদের ভুলের খেশারত দিতে গিয়ে দেশের অপুরনীয় ক্ষতি হবে যা কিনা একটু সচেতনতার কারনে এ ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধ করা যেত।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এখন যে বিষয়টি সবচেয়ে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটি হলো- আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন এবং হোম কোয়ারেন্টাইন।
আসুন এগুলো মূলত কী বা এগুলোর মধ্যে কী পার্থক্য সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ভারতের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামী। তিনি বলেন, ‘আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন ও হোম কোয়ারেন্টাইনের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। নিয়ম মানার ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা।’


জেনে নিন আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন এবং হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পর্কে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত।

আইসোলেশন: কারও শরীরে যদি করোনা ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং নমুনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ হয় অর্থাৎ কারও যদি করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে তবে তাকে আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এসময় চিকিৎসক এবং নার্সদের তত্ত্বাবধানে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে থাকতে হবে। এর মেয়াদ ১৪ দিন। রোগীর অবস্থা দেখে বাড়ানো হয় মেয়াদ।

এসময়ের মধ্যে রোগীর সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেওয়া হয় না সাধারণত। এসময়ের মধ্যে রোগীকে কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেওয়া হয় যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তারা অনেকেই এ পদ্ধতিতে সুস্থ হন আবার যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের পক্ষে সুস্থ হয়ে ওঠা কঠিন হয়ে যায়।

কোয়ারেন্টাইন: করোনা ভাইরাসের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার পরপরই তার উপসর্গ দেখা দেয় না। তাই করোনা আক্রান্ত দেশ ঘুরে আসার পর বা আক্রান্ত রোগী সংস্পর্শে আসার পর হতে পারে সংক্রমণ। আসলেই কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত কি-না তা পরিষ্কার হতেই সময় লাগে সপ্তাহ খানেক। আর এজন্যই রাখা হয় কোয়ারেন্টাইনে।

অন্য রোগীদের কথা ভেবে এ ধরনের ব্যক্তিদের জন্য হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয় না। এখানেও সময়সীমা ১৪ দিন। এসময় বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়, রোগীর সঙ্গে কম যোগাযোগ করতে বলা হয়। মেনে চলতে হয় স্বাস্থ্যবিধি।

হোম কোয়ারেন্টাইন: কোনো ব্যক্তি যখন নিজের বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনের সব নিয়ম মেনে, বাইরের লোকজনের যোগাযোগ বন্ধ রাখেন সেটিই হোম কোয়ারেন্টাইন। সাধারণত, সম্প্রতি আক্রান্ত দেশ থেকে ঘুরে এলে রোগীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এর মেয়াদও ১৪ দিন। এটা মূলত করা হয় শরীরে কভিড-১৯ রোগ বাসা বেঁধেছে কি-না তা জানার জন্য।

এসময়ের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার খেতে হবে এবং সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।  সূত্র: আনন্দবাজার।

এ বিষয়ের উপর বিবিসি বাংলার বরাত দিয়ে কালের কন্ঠে বলা হয়েছে,

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ঠেকাতে করোনা আক্রান্ত দেশগুলো থেকে ফিরলে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যারা দেশে ফিরছেন তাদের এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তাদের স্পষ্ট করে কিছু জানানোও হয়নি। ফলে করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে তাদের মাধ্যমে।

আপনি কি হোম-কোয়ারেন্টিনে থাকছেন? টেলিফোনে এই প্রশ্নে তিনি যেন আকাশ থেকে পড়লেন। কথায় কথায় বেরুলো হোম-কোয়ারেন্টিন কী তা নিয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণাই তার নেই। আর দশটা মানুষের মতই চলাফেরা করছেন, বাইরে যাচ্ছেন। সপ্তাহখানেক আগে ওমরাহ করে দেশে ফিরেছেন ঢাকার পাশের একটি জেলার এক বাসিন্দা।

হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা তিনি বলেন, “ওইভাবে আসলে কোথাও আমাকে ডিরেকশন দেয়া হয়নি।” কিভাবে, কোথায় থাকতে হবে, না থাকলে কী হবে সে বিষয়ে তাকে তেমন কিছু জানানো হয়নি বলেই তিনি এ নিয়ে ভাবছেন না।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ থেকে দুই সপ্তাহ আগে ফিরেছেন এক প্রবাসী শ্রমিক। তার সাথে যখন কথা হচ্ছিল তখন স্থানীয় একটি বাজারে ছিলেন তিনি। তিনি জানান, সপ্তাহ খানেক ধরে বাড়ি নির্মাণের কাজ করছেন তিনি। ইট, বালুর মতো নির্মাণ সামগ্রী তিনি মিস্ত্রির সাথে গিয়ে নিজেই কিনেছেন। হোম-কোয়ারেন্টিন সম্পর্কে তার যে কোনো ধারণা রয়েছে, বোঝা গেল না।

৬ মার্চ প্রতিবেশী একটি দেশ থেকে বন্ধুদের সাথে স্থলপথে দেশে ফিরেছেন এক শিক্ষার্থী। হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা মেনে চলছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে মাত্র এ বিষয়ে জেনেছেন তিনি। ফলে দেশের বাইরে থেকে ফিরলেও সে নির্দেশনা মেনে চলতে পারেননি।

তিনি বলেন, “এখন টিভিতে দেখি যে বাইরে থেকে আসলে ১৪ দিন ঘরে থাকতে হবে। এর আগে জানতাম না।”

যে তিনজন বিদেশ ফেরত মানুষের সাথে বিবিসির কথা হয়েছে, তাদের কেউই বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকছেন না। তাদের দুজনের হোম-কোয়ারেন্টিন সম্পর্কে কার্যত কোনো ধারণা নেই। তাদের অনুরোধে এবং তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে নাম দেওয়া হলোনা।

বাংলাদেশে সরকারিভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, বিদেশ থেকে ফেরা মানুষদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এই নির্দেশ না মানলে জেল-জরিমানার কথাও বলা হয়েছে।

রবিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে হোম কোয়ারেন্টিনের নির্দেশনা যে অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না সে বিষয়টি তুলে ধরেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, অনেকেই যেহেতু হোম কোয়ারেন্টাইন সঠিকভাবে মেনে চলছেন না তাই বিদেশ থেকে কেউ আসলে তাকে আগে হজ ক্যাম্পে নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পাঁচজনের মধ্যে চার জনই বিদেশ থেকে আসা। এমন অবস্থায়, চীনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত দেশ ইটালি থেকে গত দুই দিনেই বাংলাদেশে ফিরেছে সাড়ে তিনশর বেশি মানুষ। এদের মধ্যে ১৪২ জনকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

বাড়িতে তাদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেয়া হচ্ছে।

“এবার হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে। যাতে তারা জানতে পারেন যে কে কোথায় গেল যাতে করে ফলোআপ করা যায়।”

এখন থেকে যাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে তারা বাড়িতে থাকলেও সরকারি নজরদারিতে থাকবেন বলে তিনি বলেন।

বাংলাদেশে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৩১৪ জন মানুষকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কতজন বাস্তবে কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন তা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভালো নেই : আকবর আলি খান

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | 7146 বার

স্বর্ণের দাম কমেছে

২৯ মে ২০১৬ | 3991 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০