শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

আজ বড়বেশী পিতা-মাতাকে মনে পরে

মোঃ নিয়াজুল হক কাজল | বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1467 বার

আজ বড়বেশী পিতা-মাতাকে মনে পরে

১৯৯০ সালের ১২ আগষ্ট  আমাদেরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে, সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাবা । রাত পোহালে ২৬ বৎসর পুর্ণ হবে। দুই যুগের অধিক সময় বাবাকে দেখিনা। বাবার কথা খুউব মনে পড়ে। মনে পরে বাবার রেখে যাওয়া আদর্শ। নীতিতে অটল ওই মানুষটি আমৃত্যু মানব সেবার মহান ব্রতে নিয়োজিত থাকার  রুপরেখা এঁকেছেন বেঁচে থাকাকালীন সময়ে জনসাধারণের ভালবাসাতে স্পষ্ট টের পেতাম।

তিনি ১৯৩৫ সালের ২  ফেব্রুয়ারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কিশোরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বীরগাঁও ইউনিয়ন কাউন্সিল ও পরিষদের যথাক্রমে ১বার বিডি মেম্বার,১বার প্রেসিডেন্ট, তিনবার চেয়ারম্যান হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।তিনি বাঈশমৌজা বাজারের রূপকার.কিশোরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।তিনি আমৃত্যু অসংখ্য জনহিতকর কাজ করে যাওয়ার কারনে আজও তাঁকে এলাকার মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
পিতার মৃত্যুর পর এলাকার জনগণ উনার শূন্যতা পূরনের জন্য আমাকে কলেজ থেকে ধরে নিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়ে দেন। সমূদ্রের শূন্যতা কি নদী দিয়ে পূরণ হয়? জনগনের চাহিদা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিশাল ব্যবধান।মানসম্মান নিয়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলাম।কিন্তু আজকের অবস্থা দেখে চোঁখদিয়ে অশ্রুর পরিবর্তে রক্ত ঝরে।তখন দেখতাম তেলে ঘিয়ে একদর !এখন দেখছি ঘি পানিতে একদর !!
দিন-মাস-বছর কালের গর্ভে লীন হয়ে যায়, থেকে যায় শুধু স্মৃতি।২৬টি বছর চলে গেল।মনে হয় সেদিন যেন পিতার হাত ধরে বিকেল বেলায় নদীর ধারে দাঁড়িয়ে ছিলাম।মা যেন মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পারিয়ে দিচ্ছেন।কত কথা,কত স্মৃতি মনের আয়নায় ভেসে উঠে।বুকের ভেতরটা কেমন করে যেন উঠে; পিতা-মাতার কথা মনে হলে।অনেক কষ্টে কান্না সংবরণ করি।সাত মাসের ব্যবধানে মমতাময়ী মাকে হারিয়েছি।তিনি আমাদেরকে ছেড়ে চলে যান ১৯৯১ সালের ৩১ মার্চ।দীর্ঘ এ পথ চলায় এক মুহুর্তের জন্যও ভুলতে পারিনি তাঁদের কথা।প্রতি মুহুর্তে মনে হয়, যদি আজ পর্যন্ত বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তোবা তাঁদের আদর ভালবাসা–স্নেহ পেতাম। বেশী-বেশী করে তাঁদের সেবা যত্ন করতে পারতাম। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে দো’আ করি মহান আল্লাহ পাক যেন উনাদের বেহেস্ত নসিব করেন।আমীন।
আজ যাঁদের পিতা-মাতা বেঁচে আছেন,তারা সৌভাগ্যবান। পিতা-মাতার মনে কষ্ট দেবেন না।কথাটি বল্লাম একারনে, অসংখ্য বিচার-আচারে দেখেছি,পিতা-মাতা সন্তানের প্রতি জঘন্য অভিযোগ আনছেন !বিচার চাইছেন !!তখন আমার কাছে মনে হয়েছে-তাঁদের এ ফরিয়াদে আকাশ-বাতাস যেন প্রকম্পিত হয়ে উঠছে।ন্যায্য বিচার করে দিয়েছি।যে দোষত্রুটি শোধরাতে পেরেছে সে ভাল আছে, আর যে হতভাগা শোধরাতে পারেনি সে করুন অবস্থায় দিন অতিবাহিত করছে।চোখের সামনে এমন অসংখ্য নজির রয়েছে।পিতা-মাতার মনে কষ্ট দিয়ে কোন সন্তান বেহেস্তে যেতে পারবেনা।পিতা-মাতার যত দোষত্রুটিই থাকুক না কেন, সন্তানের কাছে তা ধর্তব্যে আসবে না। যে সন্তান পিতা-মাতার মনে আঘাত দেবে, সে সন্তান ইহকাল-পরকাল দু’টোই হারাবে।অনেক কথা বলে ফেললাম।


ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন। সকলে আমার পিতা-মাতার জন্য দো’আ করবেন।

 

লেখকঃ- মোঃ নিয়াজুল হক কাজল, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক। লেখক ও গবেষক। নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4679 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2711 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১