শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

আজ ভোলাচং সর্বধর্ম মিশনের ১০২ তম বার্ষিক উৎসব

ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 139 বার

আজ ভোলাচং সর্বধর্ম মিশনের ১০২ তম বার্ষিক উৎসব

দয়াময়’ নামের অন্যতম প্রচারক শ্রী শ্রী মৎ আচার্য লব চন্দ্র পালের প্রতিষ্ঠিত সর্ব্ব ধর্ম মিশনের ১০২ তম বার্ষিক উৎসব অনুষ্ঠান ২১ ডিসেম্বর সর্ব্ব ধর্ম মিশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ভারত থেকে ভক্তদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় আশ্রমে। তবে করোনার প্রভাবে জনসমাগম আগের বারের ন্যায় হবেনা বলেও জানা যায়।
উৎসব উপলক্ষে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দোকানপাট খেলনা সামগ্রী পসড়া সাজিয়ে বসে আছে দোকানীরা। ধর্মীয় আলোচনা, মলয়া গান পরিবেশন, বাৎসরিক হিসাব উপস্থাপন, আলোচনাসভা সহ প্রসাদ বিতরণের আয়োজন থাকছে।


আসুন জেনে নেই কে এই লব চন্দ্র পাল-

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভোলাচংয়ে প্রতিষ্ঠিত ‘সর্ব ধর্ম মিশন’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও ‘দয়াময়’ নামের অন্যতম প্রচারক শ্রী শ্রী মৎ আচার্য লবচন্দ্র পাল গুরু মহারাজের সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরলাম। লবচন্দ্র পাল নবীনগর উপজেলার ভোলাচং গ্রামের লব চন্দ্র পাল কোন এক পাল বংশে ১২৮৯ বাংলা সনের ১৭ই বৈশাখ শনিবার জন্ম গ্রহণ করেন।

তাহার পিতার নাম কাশীনাথ পাল, মাতার নাম মতিরানী পাল। এদেশের মুসলমান ও হিন্দুদের কাছে তিনি লব বাবু বলে খ্যাত ছিলেন। তাঁর পৃর্ব পুরুষ মুর্শিদাবাদের অধিবাসি ছিলেন। তাঁর পৈতিক বাড়ি দেবিদ্ধারের বেগমাবাদ গ্রামে। অল্প বয়সেই তাঁহার পিতা ও দুই বোন,এক ভাইয়ের মুত্যুর পর তাঁর মা মতিরানী পাল ৭/৮ বছরের ছোট্ট শিশু লবচন্দ্র পালকে নিয়ে তাঁর মামার বাড়ি নবীনগর উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামে চলে আসে। এখানে এসেই শিক্ষা জীবন শুরু হয়। গ্রামের পাঠশালা থেকে প্রাইমারী বৃওি লাভ করিয়া ইব্রাহিমপুর মধ্য বাংলা স্কুলে ভর্তি হয়ে তিনি মধ্য বাংলা পরীক্ষায়ও বৃওি লাভ করেন।এরপর নবীনগর উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে ভর্তি হইয়া ছাত্রাবাসে থাকিয়াই পড়িতে লাগিলেন। বৃওির টাকা দিয়েই তখন লেখা পড়ার খরচ চলিত্ ১৩০৯ বাংলা সনে এন্টাস পরীক্ষায় কৃুতত্বের সহিত উর্ওীণ হইয়া বৃওি লাভ করে ঢাকা জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। এই কলেজ হইতে তিনি সম্মানের সাথে আইএ পরীক্ষায় উওীর্ণন হইয়া ছিলেন। এই কলেজ হইতে বৃওি না পাইলেও কলেজের অধ্যাপকগন তাঁহার বিদ্যাবওার জন্য তাঁকে একটি স্বর্ণপদক পুরস্কার দেন। ২২ বছর বয়সে তিনি কৃষ্ণনগরের ডেঙ্গর চন্দ্র পালের অনুরোধে তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা শ্রী মতি চপলা সুন্দরী পালকে বিয়ে করেন লবচন্দ্র পাল। বিয়ের পরও লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি ধর্ম সাধনা নিয়ে অগ্রসর হইতে লাগলেন। তখন পাঠে তাঁহার মনোযোগ না থাকায় প্রথমবার বিএ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে বিএ পাশ করেন। শ্রী লবচন্দ্র পাল সাধক ছিলেন। সাধন করিয়াই তিনি ধর্মের তত্ব লাভ করিয়াছিলেন। তিনি সর্ব্ব ধর্মের সকল সত্য উপলদ্ধি করিবার জন্য সাধনা করিতেন।

তিনি নরসিংদীর সাটিরপাড়া হাইস্কুলে হেড মাষ্টার, নবীনগর উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষক ও ইব্রাহিপুরে হাইস্কুলে সহকারী হেড মাষ্টারের পদে শিক্ষকতা করেন। পরে কুমিল্লার উজান চর হাইস্কুলে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক হয়ে শিক্ষকতা করেন। উজানচরে শিক্ষকতা করার সময় বহু লোক তাকে মহাপুরুষ বলিয়া জানিতে পারে। কেহ ধর্ম লাভের আশায়, কেহ রোগ মুক্তির জন্য,কেহবা বিপদ হইতে রক্ষা পাইবার জন্য অসংখ্য লোক তাহার শরণাপন্ন হইত। তিনি মলয়া সংগীতের একজন রূপকার। সাধক ফকির(তাপস) আফতাবউদ্দিন, মহর্ষি মনোমোন ও সাধক লবচন্দ্র পাল ছির এক সুতায় বাঁধা। তিনি মলয়া সংগীতের একজন রূপকার।

সাধক ফকির(তাপস) আফতাবউদ্দিন, মহর্ষি মনোমোন ও সাধক লবচন্দ্র পাল ছির এক সুতায় বাঁধা। এক কথায় তিনি সাধক, লেখক, সংগীতজ্ঞ ছিলেন। তিনি একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা। মহান এই সাধক ১৩৭৩ বাংলা সনের ১৭জ্যৈষ্ঠ মঙ্গলবার রাত ১টা ৪৫মিনিটে পরলোক গমন করেন।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25751 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১