শিরোনাম

প্রচ্ছদ জেলা সংবাদ, শিরোনাম, স্লাইডার

বিজয়নগর মাদকের স্বর্গরাজ্য

আলোচিত ওসি প্রত্যাহার

ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০১৬ | পড়া হয়েছে 993 বার

আলোচিত ওসি প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার ওসি মোস্তফা কামাল পাশাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি হয়। মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকার কথা জানিয়েছেন জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা তাকে প্রত্যাহারের কারণ সমূহের অন্যতম। তা ছাড়া তার বিরুদ্ধে সীমান্তবর্তী এই উপজেলাকে মাদক চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করার অভিযোগ রয়েছে। থানা পরিচালনায় ব্যর্থতার কারণে জেলা পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা তার ওপর ছিলেন অসন্তুষ্ট। তার স্থলে নতুন ওসি নিয়োগ করা হয়েছে আলী আরশাদকে। আলী আরশাদ ইতিপূর্বে সরাইল থানার ওসি ছিলেন। মোস্তফা কামাল পাশা বিজয়নগর থানায় যোগ দেন ২০১৫ সালের ১৩ই আগস্ট। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ছিলেন তিনি। অভিযোগ উঠে, তার দায়িত্ব পালনকালীন এই ক’মাসে চোরাচালানের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি হয় বিজয়নগরে। বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে বেচাকেনা হয় মাদকদ্রব্য। বিপুল পরিমাণ মাদকসহ অন্যান্য চোরাচালানী পণ্য পাচার হয় নির্বিঘ্নে। সূত্র জানায়- চোরাচালানীর রাঘব বোয়ালদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা মাসোহারা পেতেন মোস্তফা কামাল। নোয়াগাঁওয়ের কালু, ইকবাল, জালালপুরের বজলু, আলাদাউদপুরের রহিম, কাশীনগরের মাতু, পাগলা বাচ্চু, কবির, আম্বর আলীসহ আরো কয়েক মাদক চোরাচালানী প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ একলাখ টাকা করে মাসোহারা দিতেন তাকে। চোরাচালানী বজলুর ছোটভাই মাসুক ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে শ্যামলীঘাট নামকস্থানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা বিক্রি করে অনেকটা প্রকাশ্যে। কালীসীমার সাদ্দাম ও আয়েত আলীও প্রকাশ্যে মাদক বেচাবিক্রি ও পাচার করে এই ওসির সময়ে। সূত্র জানায়, আলাদাউদপুরের রহিমের বাড়ি থেকে মিনি ট্রাক ও মাইক্রোবাসে করে নিয়মিত মাদক যায় দেশের বিভিন্নস্থানে। রহিমের বাড়ি থেকে প্রতিদিন ৩/৪ হাজার পিস ইয়াবা ও ৩/৪শ বোতল ফেনসিডিল বিক্রি হয় খুচরা। মোবারক ও মোবারকের ছেলে ও ছেলের বউ আলাদাউদপুরে পুলিশের নাকের ডগায় চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা। ব্যাপক চোরাচালানের সুযোগে অনেক মাদক চোরাচালানীর ভাগ্যও বদলে গেছে। ইকবাল এই সময়ে ৬টি মাইক্রোবাসের মালিক হয়েছে। বজলু আমতলী বাজারে ভিটি কিনেছে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে। বিজয়নগর উপজেলার অন্তত ২শ স্পটে চলে মাদক বেচাকেনা। বিজয়নগর উপজেলার অনেকেই বলেছেন ওসি মোস্তফা কামালের সময় মাদক চোরাচালান যে অবাধে হয়েছে তা আর কখনো হয়নি। ওসি মোস্তফা কামাল পাশা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের সময় এক চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হুমকি দিয়ে আলোচিত হয়ে উঠেন। তার কথামতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে না দাঁড়ানোয় পাহাড়পুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মাইন উদ্দিন চিশতীকে ফোনে হুমকি দেন। বলেন-‘৩ দিনের মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে আপনাকে দেশ ছাড়া করবো। আপনার অস্তিত্ব রাখবো না, বিলীন করে দেব’।
এ ছাড়াও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ইছাপুরা উত্তর ইউনিয়নের আড়িয়ল গ্রামের ৩০ সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে। ৭ই মে নির্বাচনের পর পরই ওই ইউনিয়নের নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মো. ইয়াকুব আলীর সমর্থকরা অন্তত ৩০টি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়। নির্বাচনী বিরোধের জেরে বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে গত ১৬ই মে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয় নূর চৌধুরী (৪৫) নামে এক ব্যক্তি।
ওসি মোস্তফা কামাল পাশা বলেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। জনস্বার্থে তাকে বদলি করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেছেন, নানা অভিযোগের কারণে ওসি মোস্তফা কামালকে প্রত্যাহার করে পুলিশ অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।


Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান

০৯ মার্চ ২০১৭ | 8219 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১