শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

আলো ছড়াচ্ছে স্বপনের ‘গুঞ্জন পাঠাগার’

মাসুক হৃদয় | সোমবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1417 বার

আলো ছড়াচ্ছে স্বপনের ‘গুঞ্জন পাঠাগার’

হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান স্বপন। স্বপ্ন ‍ছিলো পাঠাগার তৈরি করার। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে তাকে।বয়স যখন মাত্র দেড় বছর তখন বাবাকে হারায় স্বপন। তিন ভাইসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে মা রাজিয়া খাতুন পড়েন বিপাকে। জীবিকার তাগিদে মাটি কাটার কাজে যোগ দেন স্বপনের মা। বড় দুই ভাই নেমে পড়েন রিকশা চালনায়

২০০৩ সালে পরিবারের এমন দুর্দিনের সময় স্বপন সবে মাত্র নবম শ্রেণীর ছাত্র। এরপর ২০০৬ সালের দিকে বড় দুই ভাই ও সংসার থেকে পৃথক হয়ে যান। তখন সংসারের দায়িত্ব স্বপনের কাঁধে এসে পড়ে। সকাল-সন্ধ্যায় পাঁচ ব্যাচে গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানো শুরু করেন তিনি। এ থেকে আয় করা চার হাজার টাকা দিয়ে সংসারের খরচসহ নিজের পড়ালেখার খরচ মেটায়। এতোটা অভাবের মধ্যেও তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে ২০০৩ সালে প্রথমে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিন সংগ্রহ শুরু করেন। পরের বছর ২০০৪ সালের মার্চ মাসে তিন শতক বাড়ির এক কোনে একচালা ঘরে বাঁশের বুকসেলফে অল্প কিছু বই আর পত্রপত্রিকা নিয়ে গড়ে তোলেন ‘গুঞ্জন পাঠাগার’
অদম্য জ্ঞান পিপাসু এই স্বপন বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সম্মান শ্রেণীর (বাংলা বিভাগ) চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র।


স্বপন মিয়া বাংলানিউজকে জানান, ২০০৬ সালের দিকে বড় দুই ভাই সংসার থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ায় পরিবার চালানোর দায়িত্ব পড়ে তার কাঁধে। তখন গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়িয়ে আয় করা চার হাজার টাকা দিয়ে বই কেনা ও সংসারের খরচ মেটায়। এভাবেই এখনো পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে নেবার পাশাপাশি পাঠাগারটিকেও টিকিয়ে রেখেছেন।
স্বপন আরও জানায়, ২০০৯ সালে একচালা পাঠাগারটিকে দোচালা করার জন্য অনুদান দেয় নবীনগর পৌরসভা ও জেলা পরিষদ। আয়তাকার ঘরের একটি কক্ষের চারপাশে এখন আটটি কাঠের বুক সেলফ, মাঝখানে একটি টেবিল আর টেবিলের চারপাশে পাঠকদের বসার জন্য কয়েকটি চেয়ার। অল্প কিছু বই নিয়ে শুরু করা স্বপনের পাঠাগারের সেলফগুলোতে এখন শোভা পাচ্ছে চার হাজারেরও বেশি বই।

প্রথম দিকে তেমন কেউ আসতো না জানিয়ে আক্ষেপ করে স্বপন বলেন, এখন গ্রামের স্কুল-কলেজের ৫০/৬০ জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন তার পাঠাগারে পড়তে আসে। তবে শুক্রবারে এ সংখ্যা আরও বাড়ে বলে জানায় স্বপন।
নবীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে পাঠাগার গড়ে ত‍ুলে ইতোমধ্যেই সুনাম কুড়িয়েছেন স্বপন। গ্রামের শিক্ষার্থীরা তাকে সম্মান করে। ছেলে-বুড়ো সবার কাছেই তার কদর আলাদা। দু’দিন আগেই সোহাতা গ্রামে আলো ছড়ানো স্বপনের এই গুঞ্জন পাঠাগারটি এক যুগ পার করেছে।

গর্বের সঙ্গে স্বপন বলেন, ১২ বছরে তার অর্জন অনেক। তার পাঠাগারে পড়ে গ্রামের অনেক ছেলেমেয়ে এখন মেডিকেল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, এতেই তার অনেক আনন্দ। এই আনন্দ দেবার কাজটুকু সারা জীবন করে যেতে চান স্বপন।

গ্রামের বইপ্রেমীদের মনের খোরাক জোগানো এই পাঠাগারটির এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (০৮ এপ্রিল) মলয়া সঙ্গীতে দেশের শীর্ষ শিল্পী জন্মান্ধ অজয় পালকে ‘গুঞ্জন সম্মাননা’’ দেওয়া হয়েছে। অনাড়ম্বর এক যুগ পূর্তি উৎসবের উদ্বোধন করেন স্থানীয় শ্রীকাইল কলেজের সাবেক অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ ভট্টাচার্য।
স্থানীয় ভোলাচং উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন- নবীনগর পৌরসভার মেয়র মাঈন উদ্দিন। স্কুল শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা কলেজ শিক্ষার্থী স্বপন মিয়া। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক নবীনগরের কথা’র সম্পাদক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু।

উৎসবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পাঠাগারের উপদেষ্টা দেবপ্রসাদ সরকার, বাঞ্ছারামপুর ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম কলেজের সহকারী অধ্যাপক অজয় ভূষণ চৌধুরী, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কলেজের প্রভাষক দেলোয়ার হোসেন, শাহাদৎ হোসেন, সাংবাদিক সমীর চক্রবর্তী, বাংলানিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মাসুক হৃদয় প্রমুখ।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 26143 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১