শিরোনাম

প্রচ্ছদ জেলা সংবাদ, শিরোনাম, স্লাইডার

ইউএনও-নির্বাচন কর্মকর্তা আশুগঞ্জ ছাড়া

ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ০৭ জুন ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1078 বার

ইউএনও-নির্বাচন কর্মকর্তা আশুগঞ্জ ছাড়া

ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের হাতে নাজেহাল হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা। তাদেরকে অস্ত্রের ভয় দেখানো এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এই দুই কর্মকর্তা বাকবিতণ্ডার কথা স্বীকার করেন। শনিবার রাতের এ ঘটনার পর দুই কর্মকর্তার কেউই গতকাল রোববার অফিসে যাননি। ঘটনার পরই তারা আশুগঞ্জ ছেড়ে চলে যান। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে- একটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হওয়ার পর সদর ইউনিয়ন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খ. ম আরিফুল ইসলাম বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা থেকে বিরত থাকেন। প্রার্থী আর তার সমর্থকরা চাইছিলেন  বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত ঘোষণা। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা চলে দুই পক্ষের মধ্যে। এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতা, প্রার্থী ও তার সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কয়েকজন সমর্থক ইউএনও ও নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারতে যান। এসময় সোহাগপুর গ্রামের এক সমর্থক তাদেরকে অস্ত্র প্রদর্শন করে বলে জানা গেছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সামছুল হকের সামনেই ঘটে  ঘটনা। ঘটনার সময় ঐ কক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন মঈন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু নাসের ও প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন। শনিবার সদর ইউনিয়নের ভোট চলাকালে নাওঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়ম হয়। একারণে নির্বাচন কমিশন ঐ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করে। বাকি ৯ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন বিজয়ী হন। এতে তিনি পান ৮ হাজার ৮৬৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম (আনারস) পান ৪ হাজার ২৬৮ ভোট । এক কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়ে যাওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বেসরকারিভাবে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা থেকে বিরত থাকেন। নির্বাচন অফিস জানায়, নির্বাচনে কোনো কেন্দ্র স্থগিত থাকলে নির্বাচনী ফলাফল দেয়া যায় না। ইউএনও’র কার্যালয়ে উপস্থিত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতারা  বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত ঘোষণা দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইউএনওকে। পরে নির্বাচন কর্মকর্তা বাধ্য হন ফলাফল ঘোষণা দিতে। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খ. ম আরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘একটি কেন্দ্র স্থগিত হলে ফলাফল ঘোষণার কোনো নিয়ম নেই। এ নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হলে আমি বাধ্য হই এগিয়ে থাকা প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা দিতে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল রোববার) ছুটিতে থাকায় অফিসে যাইনি’। ইউএনও সন্দ্বীপ কুমার সিংহ বলেন, ‘তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করতে দেরি হওয়ায় সামান্য হট্টগোল হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিশেষ প্রয়োজনে আজ (গতকাল) সকালে অফিসে কিছু সময় বসে অনুমতি নিয়ে আশুগঞ্জের বাইরে এসেছি। আশুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু নাসের বলেন- এ অভিযোগ সঠিক না। নির্বাচন কর্মকর্তা নতুন। তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। একটা কেন্দ্র নির্বাচন কমিশন স্থগিত করেছে। ওই কেন্দ্রের ভোট বাদ দিলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী এগিয়ে থাকেন। এই হিসাবে সবাই বলছিলেন বেসরকারিভাবে ঘোষণা করার জন্য। সবাই তো একরকম না। এনিয়ে কেউ কেউ হয়তো লাউডলি কথা বলেছে। এর বেশি কিছু হয়নি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সামছুল হক বলেন- শারীরিকভাবে কেউ লাঞ্ছিত হয়নি। একটু ঝামেলা হয়েছিলো।

সুত্র- মানবজমিন


Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান

০৯ মার্চ ২০১৭ | 8534 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১