শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

উপমহাদেশে ইসলামের বিজয় ও আমাদের নবীনগর

গ্রন্থনাঃ জোবায়েদ আহাম্মদ মোমেন | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ | পড়া হয়েছে 198 বার

উপমহাদেশে ইসলামের বিজয় ও আমাদের নবীনগর

নবীনগরের অসংখ্য নদী-নালা প্রাচীনকাল থেকেই বাণিজ্য উপযোগী সুবিধাজনক যাতায়তের পথ তৈরী করে দিয়েছিল। বহুসংখ্যক আরব বণিক এদেশে আগমন করেছিলেন। তারা হরহামেশা এ পথ দিয়ে অর্থাৎ মালাবারের (বর্তমান ভারতের কেরলা ও কর্ণাটক অঙ্গরাজ্যে বিস্তৃত) উপকূল হয়ে চট্টগ্রাম এবং সেখান থেকে আমাদের নবীনগর এলাকার উপর দিয়ে সিলেট ও কামরূপ হয়ে চীন দেশেও যাতায়াত করতেন। তারা শুধু এখানে বাণিজ্যই করেননি, পাশাপাশি ইসলামের সুমহান বাণীকে এখানে বিস্তারে দারুন ভূমিকা রেখেছিলেন। ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ মুস্তাফার (সা:) নবুওয়াত লাভের পর নিয়মিতভাবেই অনেক সুফি দরবেশও এ পথে যাতায়াত করেন ।

১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা জয় করেন যা ছিল তৎকালে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে উত্তর প্রান্ত। পরবর্তীতে ইয়েমেন থেকে ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত সুফি দরবেশ হযরত শাহজালাল (রাহ:) কর্তৃক উত্তর-পূর্ব বাংলা বিজয়ের পর উপমহাদেশে মুসলিম ধর্ম প্রচার ও শাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের নবীনগর অঞ্চলের গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।


হজরত শাহজালাল (রাহ:) সঙ্গে যে ১২ জন আউলিয়া এ দেশে আসেন, তাঁরা সবাই ধর্ম প্রচারে উত্তর-পূর্ব বাংলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ধারনা করা হয়- হজরত শাহপরাণ (র:) ও শাহরাস্তি বোগদাদি (রহ:)’সহ ১২ জন আউলিয়ার অনেকেই সিলেট থেকে নবীনগর অঞ্চলের উপর দিয়ে সুদূর কুমিল্লা-চাঁদপুর-নোয়াখালি অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। তাঁরা সে সময় যাত্রা বিরতি কালে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আমাদের নবীনগরের বিভিন্ন অঞ্চলেও অবস্থান করেন। নবীনগরের পূর্বাঞ্চলের বার আউলিয়ার বিল (বার আইল্লার বিল), তিনলাখ পীরের মাজার ও নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের ইসলামী নামকরনের প্রবনতা এই জনমতকে জোড়ালো করে।

সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ কল্লা শহীদ (রহ.) শাহজালাল (রহ.)-এর অন্যতম শিষ্য ছিলেন, আখাউড়ার খড়মপুর গ্রামে তাঁর মাজার শরিফ রয়েছে। শাহরাস্তি বোগদাদি (রহ.) ধর্ম প্রচারে চাঁদপুর অঞ্চলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। শাহরাস্তি উপজেলাধীন শ্রীপুর গ্রামে বিখ্যাত আউলিয়া হজরত রাস্তি শাহ (রহ.)-এর মাজার অবস্থিত।

মুঘল সম্রাট আকবর কতৃক রচিত আকবরনামা ও বাহারিস্তান-ই-গায়েবীতে প্রদত্ত যুদ্ধ বিগ্রহের বিস্তারিত বিবরণে আমাদের ভাটি অঞ্চলের উল্লেখ রয়েছে। নবীনগর থানার কুড়িঘর গ্রামের পূর্বে রয়েছে কুড়িঘর বিল, কুড়িঘরের ভৌগলিক অবস্থান থেকে অনেকে মনে করেন যে, ‘উপমহাদেশে মুসলিম রাজত্বকালে এখানে মোঘলদের একটি নৌঘাঁটি ছিল।’ উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের নবীনগরের ভূমিকা ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সুফি সাধকের পুণ্যপাদস্পর্শে ধন্য হয়েছে এখানকার মাটি ও মানুষ; সৃষ্টি হয় ইতিহাসের এক উল্লেখযোগ্য ধারা।

নবীনগরে ঐতিহাসিক ইসলামিক স্থাপনাসমূহ:

[ ] আহাম্মদ গ্রামের এক গম্বুজ বিশিষ্ট প্রাচীন মসজিদঃ চৌধুরী সালেহ আহমদ কর্তৃক প্রায় ৩৫০ বছর পূর্বে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য এই মসজিদটি উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ হিসাবে চিহ্নিত।
যাওয়ার রাস্তাঃ নবীনগরের যে কোন জায়গা থেকে সিএনজি যোগে বটতলি এবং সেখান থেকে রিক্সা অথবা অটো দিয়ে আহম্মদপুর গ্রামে। বর্ষায় নৌকাযোগেও আহাম্মদপুর গ্রামে যাওয়া যায়।

[ ] শাহপুর গ্রামের মসজিদঃ নবীনগর উপজেলার আরেকটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মসজিদ, এটি ইংরেজি ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি করা হয়। আজ থেকে প্রায় ২৫০ শত বছর পূর্বে ইরান থেকে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগত শেখ সাহাবুদ্দিন কর্তৃক হিজরী ১১৯৯ সনে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। ৫ গম্বুজ বিশিষ্ট পারস্য নকশার আদলে তৈরি মসজিদটির ভিতরের কারুকাজ খুবই আকর্ষনীয়।
যাওয়ার রাস্তাঃ সি.এন.জি যোগে নবীনগরের যে কোন প্রান্ত থেকে শাহপুর গ্রামে যাওয়া যায়। বর্ষায় বাংগরা বাজার থেকেও যাওয়ার পথ রয়েছে।

[ ] খাঁ পাড়া জামে মসজিদ শিবপুরঃ ১৮৯৮ সালের ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কর্তৃক নিজ হাতে নির্মিত শিবপুরের ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদ। আজ থেকে প্রায় ১২২ বছর পূর্বে উস্তাদজী মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের বিভিন্ন স্থান হতে অনেক দর্শনার্থী ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র স্মৃতিবাহক মসজিদটি পরিদর্শন করতে আসেন।

[ ] এছাড়াও খাগাতুয়া’র সুপ্রাচীন তিন গম্ভুজ বিশিষ্ট মসজিদ, রতনপুর ও কাদৈর জামে মসজিদ, নবীনগর সদরের শাহ সাহেব বাড়ি মসজিদ, উপজেলার বিভিন্ন খানকা শরীফ, মাদ্রাসা’ সহ অসংখ্য মুসলিম ঐতিহাসিক স্থাপনা আমাদের নবীনগরে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে আছে। যা এক সময়ের সমৃদ্ধশালী মুসলিম ঐতিহ্যের জানান দেয়।

তথ্য কৃতজ্ঞতাঃ
★ বাংলায় মুসলমানদের ইতিহাস- আব্বাস আলী খান।
★ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিবৃত্তি- মুহাম্মদ মুসা।
★ লোকজ সংস্কৃতি- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
★ মোঃ জালালউদ্দিন ভুইয়া।
★ এস এম শাহনুর।
★ উইকিপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া।
★ সোশ্যাল মিডিয়া।
লেখক-গ্রন্থনাঃ জোবায়েদ আহাম্মদ মোমেন

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভালো নেই : আকবর আলি খান

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | 6902 বার

স্বর্ণের দাম কমেছে

২৯ মে ২০১৬ | 3577 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০