শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

এই দু:সময়ে নবীনগরের অসহায় গরীবদের বাঁচান, প্লিজ…

| শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০ | পড়া হয়েছে 177 বার

এই দু:সময়ে নবীনগরের অসহায় গরীবদের বাঁচান, প্লিজ…

মাননীয় সাংসদ-
এবাদুল করিম বুলবুল সমীপে
খোলা চিঠি——-

এই দু:সময়ে নবীনগরের অসহায় গরীবদের বাঁচান, প্লিজ—————————————————


পরম শ্রদ্ধাভাজন
বুলবুল ভাই,
সশ্রদ্ধ সালাম নিবেন।

করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন ধরে নবীনগরের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আপনার নির্বাচনী এলাকায় (নবীনগর উপজেলা) বসবাসরত খেটে খাওয়া দিন মজুর ভাইবোনদের কষ্ট দেখে আপনার কাছে এই খোলা চিঠি লিখতে বাধ্য হলাম।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের উদ্ভুত পরিস্থিতির সবটুকই আপনি অবগত রয়েছেন। আমি তাই সারাদেশের দিকে যাবো না।
আমি শুধু নবীনগরের কথা বলতে চাই। আপনি জানেন, ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও, কার্যত গত ২৫ মার্চ থেকেই প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে নবীনগর উপজেলা অঘোষিতভাবে ‘লক ডাউন’ হয়ে গেছে।

এতে গত তিনদিন ধরে ঘর থেকে কাজ কর্মের জন্য বাইরে বের হতে না পেরে লোকজন কার্যত ‘গৃহবন্দী’ হয়ে পড়েছেন। এরমধ্যে নবীনগরের খেটে খাওয়া শ্রমজীবি দিন মজুর ভাইবোনেরা গত তিনদিন ধরে খেয়ে না খেয়ে একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছেন।
ইতিমধ্যে অনেক দুস্থ, গরীব, অসহায় মানুষগুলো সামনের দিনগুলো কিভাবে শুধু দুইবেলা ডাল ভাত খেয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকবেন, সেটি নিয়ে ভীষণ চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এসব দিন মজুর গরীব মানুষগুলো আইনশৃংখলা বাহিনীর ভয়ে গত তিনদিন ধরে রিক্সা, ঠেলাগাড়ী, অটো, সিএনজি নিয়ে একদিকে যেমন ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না, তেমনি অন্যদিকে শ্রমজীবি এসব মানুষগুলো অঘোষিত “লকডাউন” এর কারণে ঘর থেকে বের হতে না পেরে কোথাও “কামলা” দিতেও পারছেন না।

এমতাবস্থায় দরিদ্র এসব হাজার হাজার শ্রমজীবি মানুষ এখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মরার আগে মনে হচ্ছে কাজকর্ম করতে না পেরে খাবারের অভাবেই হয়তো মারা যাবেন।
যদিও ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নবীনগরের এসব খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ১ মে.টন চাল ও ১লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। যা ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন দু:স্থদের মাঝে বিতরণও শুরু করেছেন। কিন্তু সেটি চাহিদার তু্লনায় একেবারেই সামান্য।
তাই এ অবস্থায় এসব অসহায়, দু:স্থ, গরীব মানু্ষগুলোর ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (এমপি) তথা অভিভাবক হিসেবে আপনি ব্যক্তিগতভাবে এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে সাহায্যের হাত নিয়ে এক্ষুণি এসে দাঁড়ান, প্লিজ।

বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাঁর ভাষণে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরকে এ সময়ে গরীব এই মানুষগুলোর পাশে যার যার সামর্থ অনুয়ায়ি দাঁড়ানোর জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।
তাই এক্ষেত্রে আপনার কাছে আমার বিনীত প্রস্তাবনা হলো–

আপনি আপনার নির্বাচনী এলাকা নবীনগর উপজেলার এসব অসহায় গরীব লোকগুলোর জন্য কিছু একটা করুন। করোনার কারণে যেন এই কয়েকটা দিন গরীবেরা অন্তত দুই বেলা ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারেন, সেজন্য অাপনার নেতৃত্বে অবিলম্বে নবীনগরে একটি সর্বদলীয় “করোনা দরিদ্র কল্যাণ ফান্ড” গঠন করুন।

আপনার কাছে এসব দরিদ্র মানুষের পক্ষে আমার কড়োজোরে দাবি, গঠিত এই দরিদ্র ফান্ডে আপনি ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা প্রদান করে ফান্ডটি চালু করুন।

এরপর সেই দরিদ্র ফান্ডে নবীনগরের সর্বদলীয় বিত্তবানেরা তাঁদের সামর্থ অনুযায়ি অর্থ প্রদান করবেন।
নবীনগরের ৬ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র ৬ হাজার মানুষও যদি ৫ হাজার করে টাকা প্রদান করেন, তাহলে সেই ফান্ডে ৩ কোটি টাকা জমা হবে। এছাড়া বিত্তবানদের বাইরে থাকা যার যার সামর্থ অনুযায়ি সাধারণ মমানুষেরা এই ফান্ডে টাকা জমাতো করবেনই। আমি বিশ্বাস করি, নবীনগরে দানশীল ও মহানুভব এমন শত শত দানবীর খ্যাত গরীবের বন্ধু আছেন, যাঁদের মাত্র কয়েকজনই ইচ্ছে করলে ৩ কোটি টাকা এই দরিদ্র ফান্ডে প্রদান করতে পারেন।

শুধু দরকার একটি শুভ উদ্যোগ ও একটি সময়োপযোগি মানবিক আহবান।

আর আমি মনে করি, সেটি নবীনগরের অভিভাবক হিসেবে গরীবদের এই দু:সময়ে একমাত্র আপনিই হতে পারেন এর প্রধান উদ্যোক্তা।

তবে গঠিত এই দরিদ্র ফান্ডটি যেন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষভাবে সত্যিকারের দরিদ্র মানুষগুলোর মাঝে দুবেলা খাবারের টাকা প্রতিদিন পৌঁছে দিতে পারে, সেজন্য সমাজের গ্রহণযোগ্য, নির্লোভ ও কর্মঠ মানুষগুলোকেও আপনি খুঁজে বের করে এই মহাকর্মযজ্ঞে কাজে লাগান, প্লিজ……..

শ্রদ্ধেয় বুলবুল ভাই,
আমি আপনার কোন রাজনৈতিক কর্মী নই। একজন সমাজের সচেতন নাগরিক মাত্র। তবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন প্রাক্তন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে (শফিক-বিপুলের নেতৃত্বাধীন নবীনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলাম) আমি একজন খুব অাশাবাদী মানুষও। আপনি সাংসদ হওয়ার পরই আপনার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। ইতিমধ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নবীনগরে আপনাকে নিয়ে বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রোগ্রাম করতে গিয়েও আপনার কাছে আমি কিছুই চাইনি এবং পাইনি।

তাই এই প্রথম এমন জাতীয় দূর্যোগের সময় নবীনগরের অসহায় দরিদ্র মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে আপনার কাছে সবিনয়ে ” সর্বদলীয় করোনা দরিদ্র ফান্ড” গঠনের সবিনয়ে প্রস্তাব করলাম।

আশা করি, আপনি আমার এই বিনীত প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করে নবীনগরের ভবিষ্যত ইতিহাসে “অমর” হয়ে থাকার ব্যবস্থা করবেন, প্লিজ।

আর আপনার নেতৃত্বে গঠিত এই দরিদ্র তহবিলে নিদেন পক্ষে যেই ৬ হাজার মানুষের কাছ থেকে আমরা ৫ হাজার টাকা সাহায্য পাওয়ার সবিনয় নিবেদন করেছি, সেই ৬ হাজার মানুষের প্রথমজন হয়ে আমি গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু ৫ হাজার টাকা আপনার সেই দরিদ্র ফান্ডে প্রদান করলাম।

পরিশেষে, নবীনগরের দরিদ্র মানুষগুলো এই দু:সময়ে আপনার একটি ভালো উদ্যোগে বেঁচে থাকুক, এ প্রত্যাশা করছি।

ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন।
জয় বাংলা। জয়তু বুলবুল ভাই।

বিনীত–
আপনার গুণমুগ্ধ-
গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু
সাংবাদিক,
দৈনিক কালের কণ্ঠ
নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
০১৭১১-৪৪৫৭৯১.

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4449 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2435 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১