শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

একজন আবদু মিয়া’র গল্প

জোবায়েদ আহাম্মদ মোমেন | মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট ২০১৯ | পড়া হয়েছে 856 বার

একজন আবদু মিয়া’র গল্প

ভাবা যায়,
আজ থেকে একশ বছরেরও আগে ছোট্ট একটি মফস্বলে (নবীনগর) ডিবেটিং ক্লাব চালু ছিল।নিয়মিত বিতর্ক আয়োজন, তাও আবার ইংরেজীতে !

ছিল ‘সুনীতি সঞ্চারিণী’ সভা নামে নৈতিক ক্লাস। যার উদ্দেশ্য ছিল চিন্তা ও কর্মে উন্নত হওয়া, ক্লাস নিতেন মৌলানা সাহেব ও পন্ডিত মহাশয় !


১৯০৩ সাল। তৎকালীন এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করে পুরো ভারতবর্ষে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি উপেন্দ্র কিশোর !
আর স্বর্নকমল ভট্টাচার্যের কথা কি বলব, নবীনগরের অমর সৃষ্টি। শুধু নামে নয় গুণেও ছিলেন স্বর্নকমল। ইংরেজীতে সর্বোচ্চ নম্বরসহ মেধাতালিকায় ৭ম স্থান করে নিয়েছিলেন। কথিত আছে, স্বর্নকমল ভট্টাচার্যের পরীক্ষার ইংরেজী খাতা আলাদা করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত ছিল !

১৯২৮ সালে কলকাতার গড়ের মাঠে অনুষ্ঠিত বঙ্গ স্কাউট জাম্বুরীসহ করাচি ও লাহোরে কৃতিত্বের সহিত অংশগ্রহন করে নবীনগরের স্কাউট দল, যেটি ছিল জেলার প্রাচীনতম স্কাউট দল !
আহ ! কি অপূর্ব, শান্ত, শিক্ষিত এক জনপদ- পূন্যভুমি নবীনগর।

এ সব কিছুই সম্ভব হয়েছিল যে বিদ্যাপিঠকে ঘিরে তার নাম হল “নবীনগর হাই ইংলিশ স্কুল”।(বর্তমান নবীনগর সরকারি হাই স্কুল)। আর যাদের হাত ধরে এই নবজাগরণের সূচনা হয়েছিল তাঁরা হলেন, মৌলভী আব্দুস সোবহান (আবদু মিয়া), স্থানীয় জমিদার বাবু কৃষ্ণ মোহন রায় চৌধুরী, স্থানীয় আদালতের মুন্সেফ শ্রীযুক্ত কালীনাথ ধর উল্লেখযোগ্য ।
উচ্চ শিক্ষা যখন উচ্চবিত্তের ব্রেকেটে বন্দী, তখন ১৮ শতকের শেষ দিকে জ্ঞান বিতরনের দীপ শিখা হাতে এগিয়ে আসেন নবীনগরের মুন্সেফ কোর্টের উকিল সদালাপী আবদু মিয়া। কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা হয়েও হৃদয়ে ধারন করেছিলেন নবীনগরকে। প্রতিষ্ঠা করেন নবীনগর হাই ইংলিশ স্কুল। ১৮৯৬ সালে। উকিলাতী পেশা হতে উপার্জিত অর্থের সিংহভাগই ব্যয় করেছেন জনকল্যাণমূলক কাজে। শাহ-সাহেব বাড়ী মসজিদ, তৎকালীন নবীনগর দাতব্য চিকিৎসালয়(বর্তমান নবীনগর মহিলা কলেজ) তাঁর দানকৃত জায়গায় গড়ে ওঠে।

আমৃত্যু স্বপ্ন দেখেছেন এক সুন্দর নবীনগর বিনির্মাণে। পদ কিংবা ঠুনকো নামের মোহে নয়।(আমাদের ভাগ্য ভাল যে আজকের মত ডিজিটাল বাইটসের ‘নায়ক’ হবার সাধনা করেননি।যদি করতেন তাহলে এই থানার ইতিহাস ভিন্ন হত)। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হয়েও পরিচালনা বোর্ডের সাধারন সদস্য পদে থেকেই পালন করেছেন যাবতীয় গুরু দায়িত্ব। স্কুল প্রতিষ্ঠার শুরুতে মুসলমান শিক্ষকের প্রকট অভাব ছিল, তাইতো নিজের ওকালতী পেশার ক্ষতি স্বীকার করেও দীর্ঘদিন বিনাবেতনে খন্ডকালীন ফার্সী শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর বৈঠকঘরটি ছিল বলতে গেল ছিল মুসাফিরখানা। বর্ষাকালে নারায়নগঞ্জ-নবীনগর লাইনের গয়না নৌকা ও ষ্টিমারের যাত্রীরা অনেক সময় নিরাপত্তার কারণে রাতে তাঁর বাড়ীতেই অবস্থান করত।
যাদের ঋদ্ধ ভূমিকায় আত্মিক ভিত গড়ে ওঠে এবং রাজটিকা পড়ে এক অখ্যাত নবীনগরে, আবদু মিয়া তাঁদের অন্যতম। ১৩৪৪ বঙ্গাব্দে ৮ই মাঘ এই মহৎপ্রাণ মানুষটি ইন্তেকাল করেন। কিন্তু তাঁর স্মৃতি জড়িয়ে আছে নবীনগরের বহু কীর্তিতে।

গৌরবময় অতীত ভাবীকালের প্রেরণা যোগায়। মহাকালের স্বাক্ষী হয়ে থাকুক নবীনগর সরকারী হাই স্কুল। হাজারো মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকুক মৌলভী আব্দুস সোবহান (আবদু মিয়া)।

শতবর্ষের আলোকশিখা অনন্তকালের হাতে পৌছে দিতে প্রাণ খুঁজে পাক আমাদের নবীনগর।

গ্রন্থনা : জোবায়েদ আহাম্মদ মোমেন।

তথ্য ঋণ:
>> শহীদুল ইসলাম- প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
>>আবু কামাল খন্দকার- প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক, নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
>> শতবর্ষী স্মরণিকা- নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।

Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4703 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2737 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮