শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, টিপস, শিরোনাম, স্লাইডার

একজন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি জানালেন করোনাজয়ের গল্প

হাবিবুর রহমান স্বপন | সোমবার, ১৫ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 172 বার

একজন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি জানালেন করোনাজয়ের গল্প

একজন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠতে কি কি পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়, মাঝখানের এই অল্প সময়টুকুতে আক্রান্ত ব্যক্তির শারিরীক ও মানসিক অবস্থা কেমন থাকে, কিংবা আইসোলেশনে  থাকাবস্থায় সেখানকার নিঃসঙ্গ পরিবেশ, পরিস্থিতি সামাল দিতে কি কি বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছেন এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন হাবিবুর রহমান স্বপন।

করোনা! বিশ্ব আতংকের নাম! বাংলাদেশে তো মহাআতংক! বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে লকডাওন, কোয়ারেন্টাইন ছাড়াই সরকারের আহ্বানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বেচ্ছায় সচেতন হয়েছে এবং করোনামুক্ত হয়েছে, আমাদের দেশে পরিচিত এ শব্দ দুটি বেশ বিনোদন দিয়েছে জাতিকে! যার ফলে করোনা এখন সামজিক সংক্রমণ! আপনাকে ধরে নিতে হবে করোনা আসবেই, বাঁচতে চাইলে নিজের মতো করে বাঁচো!
.
তাই আমি চেষ্টা করেছি সদ্য সুস্থ্য হওয়া একজন রোগী থেকে তার সুস্থ্যতার পদ্ধতিগুলো জানা এবং আপনাদের জানানো!
.
আক্রান্ত ব্যক্তির অনুরোধে নাম উল্লেখ না করেই শুরু করি, ওনি প্রথমে জ্বর জ্বর অনুভব করেছিলেন! পর্যায়ক্রমে মাথা ব্যথা, হালকা ঠাণ্ডা। বয়সে তরুণ হওয়ায় তা নিয়েই অফিস করেছেন দুদিন পর্যন্ত! অদ্ভুত হলো অফিসে হাই লেভেলের এসি থাকলেও তিনি প্রচুর পরিমাণে ঘামতেন! এক পর্যায়ে আর শরীর চলছে না! কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের এক ডাক্তার বন্ধুর স্মরণাপন্ন হলেন! পরবর্তীতে তিনি ডাক্তারের পরামর্শে চলতে লাগলেন এবং কোভিড ১৯ নমুনা পরীক্ষাও করালেন! আক্রান্ত ব্যক্তি স্থানীয় বিশিষ্টজন হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লোক পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন! বলে রাখা ভালো,আপনার ক্ষেত্রে পরীক্ষা কপালে নাও জুটতে পারে! তবে সন্দেহ দুর করতে বেসরকারি পন্থায় সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচা করে আপনি সংক্রমিত কিনা যাচাই করতে পারবেন।
মুল কথায় আসি, নমুনা রিপোর্ট হাতে পৌছায়নি তখনো, তারপরেও স্বাস্থ্য বিধি মেনে অফিস করেছেন তিনি! যেদিন রিপোর্ট পজিটিভ আসলো ওইদিন বসকে বলে ছুটি নিয়েছিলেন! উল্লেখ্য, শুরু থেকে স্বাস্থ্য বিধি মানায় নিয়মিত অফিস করলেও অফিসের কেউ সংক্রমিত হননি! কথা বলার ফাকে তিনি জানালেন, আক্রান্ত হবার পর থেকে সুস্থ হবার মাঝখানের সময়টাতে ওনার দুইবার বড় ধরনের শ্বাসকষ্ট উঠে! দুইবারই ওনার বেঁচে থাকার বিশ্বাস নড়ে উঠেছিলো! চার রাত মোটেও ঘুমাতে পারেননি! নির্ঘুম থেকে শরীর মন উভয় ছিলো বিপর্যস্ত! খুব মনোবল চাঙা এই মানুষটি যতোটুকু নিজের জন্য অস্বস্তি ছিলেন, তারচে বেশি অস্বস্তি ছিলেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা প্রিয়জনদের মৃত্যু ও করোনা শনাক্তের খবরে!
তার ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগত দায়িত্বের কারণে লকডাওনের প্রথম দিকেই ছেলেমেয়ে পরিবারকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতে। নিরাপদে। নিজের কারণে পরিবারের কেউ সংক্রমিত হোক এই রিস্ক নিতে চাননি।


তবে তাঁর এই দুঃসময়ে তাঁকে সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট দিয়েছে তার এক ছোট ভাই! যে কিনা তাঁর জন্য ঈদে বাড়িতে যাননি! কখনো কিচেনে না যাওয়া ব্যক্তিটি নিয়মিত রান্না করে খাইয়েছেন তিনবেলা গরম গরম খাবার! যথাসময়ে দিয়েছেন ওষধপথ্য! তবে সবই ছিলো ব্যক্তিগত দূরত্ব মেনে! তিনি প্রচুর পরিমাণে ‘ভিটামিন সি’ জাতীয় ফলমূল   খেয়েছিলেন! তবে তাঁর ভাষ্যমতে তিনি সবচেয়ে বেশি সুফল পেয়েছেন গরম পানির ভাঁপ নিয়ে! এভাবে ডাক্তারের যাবতীয় নিয়ম নীতি মেনে মাত্র এক সপ্তাহেই হয়ে উঠেছেন সুস্থ্য! ডাক্তারের পরামর্শে ওনি যে ওষুধগুলো খেয়েছেন নামগুলো জেনে এসেছি। (বিঃদ্রঃ- ইদানিং অনেকেই ঠান্ডা জ্বর, কাশি হলেই করোনা মনে করে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই অনেকে ফার্মেসী থেকে ওষুদ এনে খাচ্ছেন। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে সেই জ্ঞান অবশ্যই প্রতিটি ব্যক্তির রাখা উচিত। তাই ওষুদের নাম উল্লেখ করলামনা।)

আরেকটা কথা, আক্রান্ত হওয়ার পরে শারিরীক বা মানসিক হতাশায় ভেঙ্গে পরবেন না।
সুস্থ হয়ে উঠবেন এ ভাবনায় প্রতিটা মহুর্তে মনোবল চাঙ্গা রাখাটাই আপনার সুস্থ হবার পেছনে বেশ কার্যকরী হবে। সুস্থ হয়ে উঠবেন নিজের প্রতি পুরোপুরি এই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে আপনার।
সবাই সাবধানে থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

লেখক
হাবিবুর রহমান স্বপন
.
কৃতজ্ঞতা: প্রিয় অভিভাবক ‘আব্দুল কাইয়ুম তুহিন'(বার্তা সম্পাদক, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর)। আপনি দীর্ঘজীবী হউন।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভালো নেই : আকবর আলি খান

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | 6702 বার

স্বর্ণের দাম কমেছে

২৯ মে ২০১৬ | 3232 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১