শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

একজন রত্নগর্ভা মা প্রিন্সিপাল প্রফেসর জোহরা আনিস

| বুধবার, ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 1829 বার

একজন রত্নগর্ভা মা প্রিন্সিপাল প্রফেসর জোহরা আনিস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী মিনুয়ারা বেগমকে জোর করে বিয়ে করতে চান এক আত্মীয়। মিনুয়ারার বাবা আবদুল হাই তাঁর খালাতো বোন জোহরা আনিসকে বিষয়টি জানান। জোহরা আনিস তখন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। তিনি উদ্যোগী হয়ে ওই বিয়ে বন্ধ করেন। এরপর ১৯৯১ সালে মিনুয়ারা এসএসসি পাস করে। পরে তাঁকে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি করান জোহরা। এরপর মিনুয়ারাকে নিজ বাসায় রাখেন। সেখান থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর পাস করেন মিনুয়ারা। তিনি এখন একটি সরকারি কলেজের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক। শুধু মিনুয়ারা নন, এ রকম বহু ছেলেমেয়েকে পড়াশোনার ব্যবস্থা ও খরচের জোগান দেন জোহরা আনিস। তাঁদের পাশে থেকে সাহস দেন। জোগান আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার অনুপ্রেরণা।

১৯৪৭ সালের ১৫ অক্টোবর অবিভক্ত কুমিল্লার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার নবীনগর উপজেলার গুড়িগ্রামে জোহরার জন্ম। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা আবদুল কুদ্দুস ও মা ফাতেমা বেগম শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন জোহরা। ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদে যোগ দেন। তিনি ২০০৪ সালের ১৩ অক্টোবর একই কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসরে যান।


নারীশিক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য জোহরা আনিসকে গত বছর সরকার বেগম রোকেয়া পদকে ভূষিত করে। ওই পদকের সম্মানীর ২ লাখ টাকাই তিনি নবীনগরের গুড়িগ্রাম ফাতেমা কুদ্দুস ফাউন্ডেশনকে দান করেন। তাঁর জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৫ অক্টোবর অবিভক্ত কুমিল্লার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার নবীনগর উপজেলার গুড়িগ্রামে। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা আবদুল কুদ্দুস ও মা ফাতেমা বেগম শিক্ষক ছিলেন। জোহরা আনিস ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদে যোগ দেন। তিনি ২০০৪ সালের ১৩ অক্টোবর একই কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসরে যান। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবসে নারীশিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রাখায় তাঁকে রাষ্ট্রীয় রোকেয়া পদক দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একজন মা হিসেবেও প্রিন্সিপাল প্রফেসর  জোহরা আনিস সফল। তাঁর বড় মেয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোবেদা কনক খান, ছোট মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান। ছেলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আরিফ মোর্শেদ খান (কুমিল্লা বোর্ডের ফার্স্ট বয়, ১৯৯০) ।
রত্নগর্ভা মা প্রিন্সিপাল প্রফেসর জোহরা আনিসের ছোট মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান বলেন, এই মায়ের গল্প বলে শেষ করা যাবে না…নিজের মা বলে নয়, যে আলোয় আমাদের তিনি আলোকিত করার চেষ্টা করেছেন, সেই আলোয় যদি প্রতিটি মা আলোকিত করতেন তাদের সন্তানদের, তাহলে এই দেশে থাকতো না কোন ধর্ষণ, নারী ও শিশু নিপীড়ন, দুর্নীতি, হিংসা, গীবত গাওয়া, অসুস্থ প্রতিযোগিতা সহ আরও যত খারাপ গুণ এই সমাজে আছে! তিনি ছোটবেলায় আমাদের বলতো, সবাই ভালো করুক ক্লাসে, পরিবারে, সমাজে- তাহলে দেশ সব ভালো মানুষ পাবে| অথচ বেশিরভাগ পরিবারেই প্রথম শিক্ষা হচ্ছে, “কাজিনরা ভালো করছে, তুমি কেন করছ না? পাশের বাসার ছেলেমেয়ে ফার্স্ট হচ্ছে, তুমি কেন হচ্ছ না?”

তিনি বলেন, ‘একজন মা-ই পারেন পুরো পরিবারকে বদলে দিতে। পুরো এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে। এ জন্য সততা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রম এবং ধৈর্য লাগবে। শর্টকাট করে জীবনে উন্নতি করা যায় না। যে মা তাঁর এবং আশপাশের সন্তানদের হাতে বই তুলে দেন। অসহায়দের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেন, তিনিই আলোকিত মা। আমি আমার সন্তানদের বাইরে অন্যদেরও নিজের সন্তান মনে করি। তাদের সাফল্যে গর্ববোধ করি।’

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25897 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০