শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

একজন সন্দ্বীপের চলে যাওয়া॥ বাধা গ্রস্থ হবে কি আশুগঞ্জের উন্নয়ন

ইসহাক সুমন | শনিবার, ১১ জুন ২০১৬ | পড়া হয়েছে 5621 বার

একজন সন্দ্বীপের চলে যাওয়া॥ বাধা গ্রস্থ হবে কি আশুগঞ্জের উন্নয়ন

মেঘনার তীর ঘেসা শিল্প ও বন্দর নগরী আশুগঞ্জ। ব্যবসা বানিজ্যে সম্মৃদ্ধ এ নগরটি সার-বিদ্যুৎ, ধান-চালের মোকাম হিসেবে খ্যতি রয়েছে সারা দেশে। তবে বড় বড় অর্টালিকা ও শিল্প কারখানা রয়েছে। কিন্তু গড়ে উঠেনি পরিকল্পিত নগরী ও সামাজিক উন্নয়নের। সাংসদ সদস্য থেকে জনপ্রতিনিধিদের এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা চোখে পড়ার মতো না। তাই সব ক্ষেত্রেই অবহেলিত ছিল আশুগঞ্জের উন্নয়ন। যে টুকু উন্নয়ন হয়েছে সয়ং প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে গড়ে উঠেছে বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেল সেতু, কম্প্রেসার টার্মিনাল। পাইল লাইনে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে আশুগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল, আভ্যন্তরীণ টার্মিনাল, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকেটি বড় বড় প্রকল্পের। ব্যবসা বানিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠায় আশুগঞ্জ উপজেলা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সম্মৃদ্ধ উপজেলা আশুগঞ্জ। তবে সামাজিক উন্নয়ন হয়নি আশানুরুপ। নেই কোন চিত্ত্ব বিনোদনের স্থান। ঠিক সে সময়েই ২০১৩ সালের ১১অক্টোবর একজন সন্দ্বীপ কুমার সিংহের আগমন ঘটে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা হিসেবে। যিনি প্রায় আড়াই বছরে পাল্টে দিয়েছেন আশুগঞ্জ উপজেলার চিত্র। সামাজিক উন্নয়ন ও চিত্র বিনোদনের জন্য বাস্তবায়ন করেছেন একের পর এক প্রকল্প। যা জনপ্রতিনিধিরা করতে পারে নাই। তা একজন সরকারী আমলা উন্নয়ন করে দেখিয়ে দিয়েছেন ইচ্ছা থাকলে যে কোন অবস্থানে থেকেও সাধারন মানুষের পার্শ্বে থেকে উন্নয়ন করা যায়। তার এ উন্নয়নের সুনাম আশুগঞ্জ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে। সরকারী আমলা হওয়ায় একজন উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তাকে একটি উপজেলায় ৩বছরের বেশি সময় থাকা যায় না। তাই ৩ বছর না হলেও আড়াই বছরের মাথায় তাকে বদলী করা হয়েছে সিলেট বিভাগে। যা আশুগঞ্জ বাসীর জন্য দুঃখের সংবাদ। এত অল্প সময়ে চলে যাওয়ায় আশুগঞ্জ বাসী আরো উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে আশুগঞ্জবাসী উনার এ অবদানের কথা স্বীকার করলেও সঠিক মূল্যয়ন করতে পারেনি। যা খুবই দুঃখ জনক।

sdfs


গত ৯ জুন বরিবার উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা হিসেবে আশুগঞ্জে উনার ছিল শেষ কর্মদিবস। কিন্তু শেষ দিবসে আশুগঞ্জ বাসীর পক্ষ থেকে তাকে বিদায় জানাতে কেউ যেতে দেখা যায়নি। তবে আশুগঞ্জ বাসীর উনার অবদানের স্বীকৃতি সরুপ নাগরিক বিদায় সংবধনা দেয়া উচিত হলেও কেউ তা উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। ১২জুন রবিবার তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে রিলিজ নিবেন বলেন জানা গেছে। আশুগঞ্জের উন্নয়নের জন্য একজন নিবেদিত কর্মকর্তাকে আমার হারিয়েছি। যা তিনি চলে গেলে আমরা উপলদ্ধি করতে পারবো। এবং আগামীদিন আশুগঞ্জের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন হলেও সামাজিক উন্নয়ন অনেকটা বাধা গ্রস্থ হবে বলে মনে করি। বিশেষ করে উনার অবদানের মধ্যে অন্যতম হলো আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন। এক সময় উপজেলা শীত কালীন প্রতিযোগীতা, গ্রীষ্মকালীন প্রতিযোগী বা যে কোন ক্রিড়া প্রতিযোগী, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস উপজেলা পরিষদে স্থান না থাকায় নানা অনুষ্ঠান করতে হতো উপজেলা শহরের হাজী আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অথবা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাঠে। এতে করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের দূর দূড়ান্ত থেকে আসা এলাকাবাসী ও অনুষ্ঠানে যোগকারীদের দূর্ভোগ পুহাতে হতো। কিন্তু উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা চেষ্টা উপজেলা পরিষদের ভিতরে ও কিছু জমি অধিগ্রহন করে ছোট একটি মাঠের ব্যবস্থা করা হয়। একই ভাবে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠান উপজেলা পরিষদে স্মৃতি স্থম্ভ না থাকায় অনুষ্টান করতে হতো হাজী আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ে। কিন্তু একই ভাবে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গড়ে তোলেছেন স্মৃতি স্থম্ভ, শহীদ মিনার। এতে করে উপজেলা পরিষদে এখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় দিবস গুলো। ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিকাশের লক্ষ্যে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগীতায় উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনের পার্শ্বে গড়ে তোলেছেন ইনডোর কমপ্লেক্স। যা উপজেলা পর্যায়ে দুরের কথা জেলা পর্যায়েও গড়ে উঠেনি। একই ও উপজেলায় কর্মরত কর্মকতাদের জন্য গড়ে তোলেছেন অফিসার্স ক্লাব। এ ছাড়া এক সময় আশুগঞ্জ শহরের কাচারী পুকুরের চার পাশ্ব দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা স্থাপনা গড়ে তুলে ছিল এবং ময়লা আর্বজনার বাগার বানিয়ে ছিল এ পুকুরকে। আর স্থাপনা উচ্ছেদ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের একান্ত চেষ্টার পুকুরের চার পাশ উদ্ধার করে ও আবর্জনার বাগার পরিস্কার করে পুকুরের চার পার্শ্বে দিয়ে “কাচারী বিথীকা নামে” পায়ে হাটার জন্য গড়ে তুলেছেন পায়ে হাটার রাস্তা। রোপন করেছেন কয়েকশত ভেষজ গাছ। মুক্ত হাওয়ায় জনসাধারনের নিশ্বাস ফেলার জন্য কারাচী বিথীকায় শহরবাসীর জন্য গড়ে তোলেছেন কফি হাউজ ও পার্ক। আর এ উদ্যোগ আশুগঞ্জবাসীর জন্য নিয়ামত শরুপ হয়ে দাড়িয়েছে। একজন হিন্দু ধর্মালম্বী লোক হয়েও তিনি আশুগঞ্জ কাচারী জামে মসজিদের মুসল্লীদের জন্য তৃত্বীয় তলা বিশিষ্ট ভভনে গড়ে তোলেছেন আধুনিক ওজু খানা, ঈমামের জন্য বাসস্থান, লাইব্রেরী। বিশেষ করে চলতি বছরে বাল্য বিবাহ মুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে উনার যে চেষ্ঠা খুবই প্রশংশনিয়। ইতিমধ্যে উনার চেষ্টায় গত ৬মাসে অন্তত ৫০টিরও অধিক বাল্য বিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে মেয়েরা। উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা চেষ্ঠায় বাল্য বিবাহ রোধে নিজেকে ভূমিকা রাখার শপথ করেছেন উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধি, ঈমাম, মুয়াজ্জেম, শিক্ষক , কাজী সহ নানা পেশার লোকজন। আর উনার এ চেষ্টায় পাল্টে গেছে আশুগঞ্জের চিত্র। যা এ আগে এর আগে কেউ আমলা অল্প সময়ে উন্নয়ন করতে পারেনি।

লেখক আশুগঞ্জ প্রতিনিধি, এটিএন বাংলা

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4805 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2961 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০