শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম

একজন সাহসী মানুষের নির্ভীক প্রতিবাদ!

অনলাইন ডেস্ক | শুক্রবার, ২০ মে ২০১৬ | পড়া হয়েছে 954 বার

একজন সাহসী মানুষের নির্ভীক প্রতিবাদ!

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলছে। চারদলীয় জোট তখন ক্ষমতায়।অধিবেশেনে উপস্থিত হয়েছেন জোট সরকারের সিনিয়র মন্ত্রীও সংসদ সদস্যগন।
বক্তৃতা করছেন বাংলাদেশের ইতিহাস গড়া তৎকালীন মাননীয় অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান।
যিনি আজ আর বেচেঁ নেই। পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।
অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বক্তৃতার কোন এক প্রসঙে বলে ফেললেন “আজকের আধুনিক অর্থনিতীর পৃথিবীতে সুদ খুব বড় দোষের কিছু নয়। সুদ ছাড়া অচল বিশ্ব অর্থনিতী। প্রায় সব যায়গা এখন সুদের ছড়াছড়ি”
তিনি অর্থমন্ত্রী। সুদ এবং লেনদেনের নানা বিষয়ে কথা তিনি বলতেই পারেন। তার এসব কথায় অন্য সংসদ সদস্যরা ভিন্ন কিছু দেখলেননা। ইসলামে নিষিদ্ধ ঘোষিত হারাম সুদের পক্ষে অর্থমন্ত্রীর সাফাই বক্তব্য শুনে কেউ নড়ে চড়ে বসলেননা।
সংসদের একই সারিতে আছেন একজন সংসদসদস্য। সরকারী জোটের তিনিও শীর্ষনেতাদের একজন।
এরচেয়েও বড় পরিচয় তিনি একজন আলেম। তার বজ্রকন্ঠ দেশের সর্বত্র প্রসিদ্ধ।তার নাম মুফতী ফজলুল হক আমিনী। তিনিও আজ বেচেঁ নেই, আল্লাহর মেহমান হয়ে তিনিও পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।
নিজেদের চারদলীয় জোটের সিনিয়র নেতা এবং অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্য শুনে সচকিত হলেন মুফতী আমিনী। তিনি ফ্লোর চাইলেন স্পিকারের কাছে।হাত তুলে জানালেন তিনি কিছু বলতে চান।মাননীয অর্থমন্ত্রী এম, সাইফুর রহমানের বক্তব্য শেষ হলে সংসদের স্পীকার মুফতী আমিনীকে সময় দিলেন। সুযোগ পেয়ে তিনি বলতে লাগলেন, “মাননীয় অর্থমন্ত্রী সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার এবং ব্যাপকতার যে যুক্তি-প্রমাণে সুদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন, তা-ই যদি গ্রহনযোগ্য হয়-তবে আমিও বলতে চাই, চুরি-ডাকাতিও আজকাল অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা নয়। কারন, পৃথিবীর সব দেশে এখন চুরি-ডাকাতি হচ্ছে। চোর-ডাকাতরা সবযায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। সুতরাং বিস্তৃতিও ব্যাপকতার দলীলে কি চুরি-ডাকাতি বৈধ ঘোষিত হবে? তা যদি না হয় তবে সুদের ব্যাপকতাও কখনো যুক্তি হতে পারেনা।
আল্লাহ পাক তার কুরআনে সুদকে যেভাবে হারাম বলেছেন, তা চিরকাল হারাম। কাজেই আথুনিক কোন ইস্যু দাঁড় করিয়ে তা হালাল কিংবা বৈধ অথবা ঝামেলামুক্ত করার কোন সুযোগ অথবা অবকাশ নেই” ।তিনি বসে পড়লেন।
সংসদসদস্যরা অবাক। মাননীয় স্পীকারও তাকিয়ে আছেন নির্বাক। ভরা সংসদে নিজেদের অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন বজ্র প্রতিবাদ! ততক্ষনে সংসদে উপস্থিত সবারা কৌতূহলী চোখের বিস্ময়ভরা দৃষ্টি আটকে আছে মুফতী আমিনীর অবয়বে।
এমন নির্ভীক সময়োপযোগী মানুষকেই তো আলেম বলে। সিনিয়র মন্ত্রী কিংবা প্রভাবশালী এমপিদের যাবতীয় হম্বিতম্বি নিতান্তই তুচ্ছ যার ইলমও ইখলাসের কাছে।
সংসদ থেকে বের হওয়ার অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মুখোমুখি পড়ে গেলেন মুফতী আমিনী। মাননীয মন্ত্রী তাকে বললেন, ‘হুজুর!আপনী এভাবে দাড়িয়ে গেলেন! কথাগুলো তো আমাকে একাকী পড়েও বলতে পারতেন”।
মুফতী আমিনীর মুখে সরল হাসি । তিনি বললেন “মন্ত্রী সাহেব!আমি আপনাকে সবসময় সম্মান করি। কিন্তু আপনী তো কথাটা সংসদে বলেছেন, কাজেই প্রতিবাদ তো সংসদেই হওয়া দরকার। তাই বলে দিলাম।
আপনাকে একা বললে তো ওই ভুল যুক্তি সবার মনে রয়ে যেত’।
একজন প্রতিভাবান সাহসী আলেমের দূরদর্শী নির্ভিকতায় অর্থমন্ত্রী সেদিন অবাক হয়েছিলেন । নিজের দল কিংবা জোটের চেয়েও যিনি ইসলামকে বেশী ভালবাসতে পারেন-তাকেই তো আলেম বলা হয়।

তরুন আলেম,সাংবাদিক তামীম রায়হান অনূদিত ইতিহাসের হাসি-কান্না । বই থেকে সংগ্রহিত।


Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4630 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2664 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০