শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

এসব দেখি নকলের হাট-বাজার

এইচ এম সিরাজ | শুক্রবার, ০৮ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 260 বার

এসব দেখি নকলের হাট-বাজার

ইদানিং কি একটা হয়েছে জানিনা। ফেসবুকে ছবি দেখলেই কেমন যেনো নকল নকল মনে হয়। আপনারাই না হয় বলুন, এমনটাও কি সম্ভব? এসবও কি হতে পারে? কি যে বলেন না, এসব আমার মটকায় কিছুতেই ঢুকছে না। মানুষ কি তাহলে ডিজিটালাইজডের উপরেও হস্তক্ষেপ করতে চায়? ভালোই, করবে নাই-বা কেন?

সুযোগ কি আর বারে বারে আসেনি? বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও তো কেউ একটিবারের জন্যও সুযোগ পায়না। সুযোগ আসলে অনেকটা যৌবনের মতোই। একথা সবাই জানে যে, যৌবন একবার আসবেই। কিন্তু কখন যে সেটি আসে কিংবা আসবে তা আবার অনেকেই জানেনা। পাশের গাঁয়ের বাবুর মতো। তার সঠিক নামটা আমার জানা নাই, অনেকেই জানেন না। সবাই তো তাকে বাবু নামেই ডাকে। নেহায়েত ছোট ছেলেদের মতোই জামাকাপড় পড়ে দিব্যি ঘুরে বেড়ায়। সাধারণ রিকশাঅলাও তার সাথে মজা করে নানান কথা বলে। বাবুর বয়স কতো হলো? নেহায়েত কম করেও যদি ধরি, আড়াই কুড়ি তো হবেই! তারপরও তার নাম বাবু! সবচে’ বড় কথা, এখনও তার যৌবন এলো না!


সেদিন একজনকে দেখলাম। গায়ে মুরুব্বীয়ানা টাইপের পাঞ্জাবী, মাথায় টুপি আর পড়নে সাদা লুঙ্গি। অনেকেই বলেন, এই রঙের লুঙ্গির নাকি একটা বিশেষ ধরণের গুণ আছে! সে হয়তো থাকতেই পারে। লুঙ্গির রঙটা বিশেষ হলেই তা নিয়ে কথা বলতে হবে কেন? সত্যি বলতে, নুষেরই-বা দোষ কি? এতো রঙ থাকতে বিশেষ রঙের লুঙ্গিটাই-বা ওই তিনারা কেন পছন্দ করেন? আসলে, সত্য প্রকাশ পাবার এটাই হয়তো একটা কারণ বটে। তো সেই যাই হোক, সবকিছু মিলিয়ে এক্কেবারে ধবল সাজা লোকটাকে আমি প্রথম চিনতেই পারিনি। আচমকা যখনই ওনার মুখনিঃসৃত বিশেষায়িত ‘বুলিগুলো’ শুনছিলাম, তখন আর বুঝতে কিংবা চিনতে একটুও বাকি রইলো না তিনার পরিচয়। এইতো ক’বছর আগেও রিকশা বাইতো। বউয়ের ভাই পাওনা টাকা দিতে চায়না বলে শালার নামে থানায় মামলা করে নকলটা নিয়ে আমার অফিসে আসছিলো পত্রিকায় লিখে বিষয়টি ফলাও করার জন্য। তিনিই সেই ফালাইন্যা। এখন অবশ্য এই নামটা কেউ ওনার সামনাসামনি উচ্চারণ করেনা। ওনিই আজকের হাজী ফালানুর রহমান ফালান! ওইতো পাশাপাশি একটি পাঁচতলা এবং একটি চারতলার তিনিই মালিক! রোজার মাসে নামাজেরর পর মসজিদ থেকে বের হয়েই অমন বুলিগুলো না আওড়ালে কি আমিই তাকে চিনতে পারতাম? তিনিই কিন্ত আবার এই মহল্লার মসজিদ কমিটির সভাপতি সাহেব!

করোনা শব্দটি নেহায়েত মায়াময় হলেও ‘কভিড-১৯’ ভাইরাসের কারণে এখন ভয়ার্ত। স্বাস্থ্য সহকারি পদটি যে এতোটাই মূল্যবান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ না হলে অনেকেই বুঝতো না। সেদিন একটি সংবাদ পড়ে হাসব নাকি কাঁদবো ঠিক বুঝে ওঠতে পারিনি। ‘নবজাতককে বাসায় রেখেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ইউএনও——–‘। তাহলে কি সদ্যজাত সন্তানকে ওনার অফিসেই নিয়ে আসার দরকার ছিলো? নাকি ওনারই অফিস কামাই করে সন্তানের পাশে বাসায় থাকাটাই বেশি দরকার ছিলো? তিনি চাকরি করেন, একজন সরকারি কর্মচারি। অফিস করা-কাজ করা-মানুষের সেবা করা, এসবই ওনার একমাত্র দায়িত্ব এবং অবশ্য কর্তব্য। সরকার এজন্যই ইনার গোটা সংসারটাকেই পোষছেন। তিনি ঠিকঠাকমতো তার উপর অর্পিত দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করছেন কি না, সেসবই মূখ্য বিষয়। তিনি সন্তানের পিতা হতে পারলেন কি না, এটি এমনিভাবে মোটেও কারোর জানার মত বিষয় নয়। অথচ, এসবই এখন আমাদের খুব বেশি করেই জানতে হচ্ছে বৈ কি। কেননা, আজকাল তো এসবই সংবাদে ‘বিশেষ মাত্রা’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে ওঠছে!

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় সব জেলাতেই চলছে লকডাউন। তাছাড়া গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় অবশিষ্টাঞ্চলও লকডাউনের মতোই। এমনকি উপসানালয়েও এক ধরণের লকডাউন দশা বিদ্যমান। নিতান্ত প্রয়োজন ব্যতিরেকে ঘরের বাইরে যাওয়া মানা। সরকারি বিধি-বিধান কার্যকরে নিয়োজিতরা ছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। তদুপরি ব্যক্তি -পরিবার পর্যায়ে সচেতন মানুষজনেরা নিজ গরজেই দায়িত্বশীলতা বজায় রাখছেন। তবুও এক শ্রেণীর বদ মানুষ যে কাণ্ডজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিতে লিপ্ত নেই, এমনটিও কিন্তু নয়। ঐ যে, ‘কিছু মানুষকে বেহেশতে রাখার ব্যবস্থা করলেও তারা বিকেল বেলা একটু দোজখ পরিদর্শনে বের হবেনই’ প্রবাদটার মতোই। সেদিন একটা ছবিতে দেখলাম অভাবনীয় এক কাণ্ড। ছোট্ট এক শিশু, বয়স ৬/৭ বছর হবে। এক ধরণের সঙ সেজেই অটোরিকশায় করে মানুষকে ‘সচেতন’ করার প্রচারণা চালাচ্ছে। অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ তাকে সাধুবাদও জানাচ্ছেন। ঐ যে, ‘মসজিদের ভেতর কথা বলা বন্ধ করতে হুরন মিয়ার ‘এই — বাচ্চারা চুপ চুপ বলে চিৎকার-চেচামেচি’ কারবারের মতো দশা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক যেনো একটা ‘কইয়া দিমু’ টেলিভিশন চ্যানেলই বটে। এখানে অনেকেই এমন অনেক কথা অবলীলাতেই কইয়া দেয়। এর বদৌলতে বেবাকজনে দেখতে-শুনতে পারে। এইতো সেদিন ধানের ভার কাধে করে নিয়ে যাওয়া অবশ্য ভদ্রোচিত পোশাকধারী একজনের কয়েকখান ছবি তারই একজন শুভাকাঙ্ক্ষী নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে আপলোড করলেন। ছবির ক্যাপশনে লিখলেন,-“ভাই সেলুট আপনাকে। আপনি আজকে দেশের মানুষকে শিখিয়েই দিলেন যে, কি করে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হয়। এই মহামারী করোনা ভাইরাসের মধ্যেও রোদে পুড়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শুধু আপনিই না, আপনার অপর সহযোগীদেরও নিয়ে যেভাবে গরীব অসহায় কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়ালেন, এমনটা একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক ছাড়া কেউই করতে পারে না।” ঐ যে বলছিলাম, ‘কইয়া দিমু’ টেলিভিশন চ্যানেল’র কথা; এবার হিসেব পুুুরোটা একেবারে ঠিকঠাক মিললো তো? সবকিছু কইয়া দিতে আর কি কিচ্ছুটিও বাকি রাখলো?

পিতৃত্যাজ্য সম্পত্তি-ভিটেবাড়ি, ব্যাংক-ব্যালেন্স, দোকানপাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র দাবীদার রমিজ উদ্দিনকে এখনকার দিনের জমিদার বললে হবেনা মোটেও অত্যুক্তি। লকডাউন চলার কারণে নিজের পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তদ্দ্বারা
আমদানির হিসেব ঠিকই চালু রয়েছে। অথচ এতে কর্মরতরা দীর্ঘ সময় ধরে স্বগৃহে স্বেচ্ছাবন্দী অবস্থাতেই যাপন করছেন মানবেতর জীবন। লভ্যাংশ প্রাপ্তি যেহেতু থেমে নেই, প্রতিষ্ঠান চালু করলেই তো শ্রমিকদেরকে মাইনে দিতে হবে, মূলত এতদকারণেই ‘প্রতিষ্ঠান চালাতে বাধা নেই’ প্রশাসনের এমন নির্দেশন।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4458 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2442 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০