শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ

হৃদম দেব | সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০ | পড়া হয়েছে 745 বার

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ

এই লেখাটি তাদের জন্য যারা এর যথার্থ গুরুত্ব অনুধাবন করবেন এবং সে মোতাবেক Action বা কর্ম সম্পাদনে তৎপর হবেন। কয়েকটা লাইক আর শেয়ার পাবার জন্য নয়!! অন্যথায়, অপ্রয়োজনীয় বাগাড়ম্বর হিসেবে শুরুতেই বাদ দিন, পড়ার প্রয়োজন নেই, কেন না এরকম অসংখ্যা আইডিয়া idea ফেসবুকে ঘুরছে-ফিরছে।

©করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ


করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশদ আলোচনার এখন সময় আর নেই. আমরা সে সময়টা হেলায় অতিক্রম করে ফেলেছি. এখন কেবল all out বা প্রাণপণে তা রোধে কি করা যায় সেটা করা উচিত (ভাবনা চিন্তা নয় বরং উদ্যোগ নেয়ার পালা). কেননা, যতই আমরা সরকার আর সিস্টেমের দোষ ধরতে থাকবো ততই পরিস্থিতি আরো সংকটাপন্ন হবে যা আর নিয়ন্ত্রন করা সম্ভবপর হয়ে উঠবে না. রাজধানী ঢাকাসহ প্রায় সমগ্র দেশ lockdown বা জনসাধারণের পরিবহন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে. এই বিচ্ছিন্নকরণের মানে এই নয় যে যিনি কাজ/পড়াশোনা/ব্যবসা/ অন্য যেকোন কাজের জন্য় তার স্থায়ী আবাসস্থল ছেড়ে ঢাকা বা অন্য কোথাও ভ্রমন করেছেন এবং সেখানেই থেকে যাবেন. তা কিন্তু হবে না। তিনি তার স্থায়ী আবাসস্থলে যে ভাবেই হোক, যে কোনও মূল্যেই হোক ফিরবেন। কিন্তু তিনি তার অজান্তে হয়ে যাবেন একজন ভাইরাস বাহক এবং এর super spreader বা বিস্তারকারী. এতে তার কোন দোষ নেই কেননা তিনি জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের এবং তার পরিবার ও এলাকাসীর বিপদের কারণ হবেন না. করোনা ভাইরাস এখন আর কেবল প্রবাসী বা বিদেশ ফেরতদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়. তাই এখন দোষারোপ নয় বরং সহযোগীতা দিয়ে এই সংকট মোকাবেলা করা প্রয়োজন।

©কি করণীয়?

করণীয় হচ্ছে Community-based surveillance বা ছোট ছোট পাড়া/মহল্লা/গ্রাম ভিত্তিক নজরদারি (নিজেদের দেখাশোনা নিজেরাই, কোন বাইরের মানুষ বা পাহারাদার বা এলাকার বাইরের কেউ নয়). একাজে এগিয়ে আসতে হবে youngsters বা তরুণদের এবং শুরুতেই এর ভয়াবহতা যারা উপলব্ধি; করছেন তারা সকলেই।

©কি করে হবে?

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখলে এমন কোন পাড়া/মহল্লা/গ্রাম পাওয়া যাবে না যেখানে তরুণরা যেকোন সোস্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে সম্পৃক্ত নয়। তাই আজ সময় এসেছে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ঢাল হিসেবে কাজে লাগানোর।

©কিভাবে হবে?

প্রত্যেক পাড়া/মহল্লা/গ্রামে যে কোন মানুষের প্রবেশ-প্রস্থান পর্যবেক্ষণ করার জন্য় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য়মে এলাকাভিত্তিক গ্রূপ তৈরীর মাধ্য়মে social distance বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রত্যেকের যথার্থ শ্রদ্ধা ও সম্মান বজায় রেখে এ (পর্যবেক্ষণ, খোজ খবর নেয়া বা তদারকি) কাজ করা. সর্বপ্রথমে এ গ্রূপের সদস্যবৃন্দকে অবশ্য়য়ই যেকোন ব্য়ক্তি বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের উর্ধে দল মত নির্বিশেষে একতাবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে.
শুরুতেই যেমনটা বললাম, ঢাকাসহ সমগ্র দেশ lockdown হতে চলেছে তাই যে যেখান থেকেই (বিদেশ ফেরত আর অন্য় শহর বা যে কোন এলাকা থেকে আগত) আসুক না কেন প্রত্যেকেই করোনা ভাইরাসের বাহক হতে পারেন. তাই কোন একটি ছোট এলাকায় যারা আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন তারা এই নতুন আগতদের সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণকে ত্বরান্বিত করবেন কোন রকম বিবাদ, অসন্তোষ বা অসহযোগিতা সৃষ্টি না করে.

©কেনই বা তরুণরা এ কাজ করবে?

এ সময়টাতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে. নিজের দৈনন্দিন কাজ এবং পড়াশোনা শেষেও পর্যাপ্ত সময় থাকবে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য়মে তারা ব্য়য় করবে. তারাই আমাদের মধ্য বয়সী থেকে বয়স্ক সবার মাঝে সচেতনতা গড়ে তোলতে পারে. প্রতিটি এলাকায় খেলার ক্লাব থেকে শুরু করে মসজিদ উন্নয়ন কমিটি, পূজা উদযাপন কমিটি, সমিতি, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের যারা যুক্ত তাদের সিংহভাগই তরুণ জনতা. এ সময়ে তাদের এই ভার্চুয়াল একত্রীকরণই এই মহামারীকে রুখে দিতে পারে একটি পাড়া, গ্রাম, বা মহল্লা থেকে সর্বোপরি এদেশের জনপদকে নিশ্চিন্নকরণের হাত থেকে.

©হৃদম দেব
পিএইচডি প্রার্থী
College of Materials and Textiles
Zhejiang Sci-Tech University, Hangzhou, China.

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4852 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 3031 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১