শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

কাজী আকবর উদ্দিন সিদ্দিকের ১২তম মৃত্যূবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী

মোঃ নিয়াজুল হক কাজল | মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০১৬ | পড়া হয়েছে 2187 বার

কাজী আকবর উদ্দিন সিদ্দিকের ১২তম মৃত্যূবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী

সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী আকবর উদ্দিন সিদ্দিক ১৯২৪ সালের ৭ জানুয়ারী শ্রীরামপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ২০০৪ সালের ৯ আগষ্ট শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
একটি যুগ পেরিয়ে যাচ্ছে আমরা তাঁকে হারিয়েছি।মনে হয় সেদিন যেন তাঁর সাথে ঢাকাতে লোকাল বাসে দাঁড়িয়ে ড. কামাল হোসেনের বাসায় যাচ্ছি। (১৯৯১ সালে)। ১৯৯২ সালের ৩১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আদেশে আমতুলি কেন্দ্রের উপ নির্বাচনের আদেশ হল।নির্বাচন কমিশন থেকে তথ্য পেলাম এপ্রিলে সবগুলি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একসাথে ঘোষণা হবে।হয়েছিলও তাই।আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিলাম।নেতা ঢাকায় অবস্থানের কারনে তাঁকে জানাতে পারিনি। তিনি তখন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি।আমি কেন্দ্রে যাইনি কিন্তু তিনি ঢাকা থেকে আমতুলি কেন্দ্রে এসে হাজির।
নেতা উপজেলা আওয়ামীলীগ থেকে ১৯৮৫ সালে উপজেলা নির্বাচন করেন।নির্বাচনী প্রচার শেষ করে বাঈশমৌজা বাজার থেকে নবীনগর আসার শেষ লঞ্চটি পেলাম না। নেতার পকেটে টাকা না থাকায় নৌকার পরিবর্তে পায়ে হেটে নবীনগর আসার সিদ্ধান্ত হল। নেতা পিঠ চাপড়িয়ে বল্লেন- চল রথ দেখা কলা বেঁচা দু’টোই হবে।আমতুলি-গাজিরকান্দি-কিশোরপুর-দঃলক্ষীপুর হয়ে কৃষ্ণনগর পৌছলাম রাত একটায়।সারাদিন চা-রুটি(উপাইস্যারুটি) খেয়ে কেটেছে।মরহুম ধন মিয়া চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ীতে রান্না শেষে খাওয়া-দাওয়া ও নির্বাচনী আলাপ-আলোচনার মধ্যে কোন সময় ভোর হয়ে গেল তা টেরই পেলাম না।ভোরবেলা কৃষ্ণনগর থেকে পায়ে হেটে আশ্রাবপুর-দৌলতপুর-সীতারামপর-মনতলী হয়ে নবীনগর দুপুরবেলা এসে পৌছলাম।এরকম আরও অসংখ্য রাজনৈতি ঘটনার স্মৃতি রয়েছে।পরে সময়-সুযোগ পেলে লিখব।
কাজী আকবর উদ্দিন সিদ্দিকের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। তিনি মাঠে ময়দানে নিশাচরের মত চষে বেড়িয়েছেন নবীনগরের প্রত্যেকটি গ্রামে গঞ্জে। তিনি ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা। দু’বার ক্ষমতায় থেকে অবৈধ পথে একটি পয়সাও কামায় করেননি। একবেলা চিড়া মাঠা খেয়ে গ্রামেগঞ্জে ঘুরে বেড়িয়েছেন চাতক পাখির মতন। তিনি তাঁর কর্মীদের অন্তরের কথা বুঝতে পারতেন।
তিনি বাংলাদেশ আওয়মীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। আগরতলা হাপানিয়া ক্যাম্পের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন তিনি। দেরাদূন থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে অনারারী মেজর জেনারেল পদে ভূষিত করা হয়। ১৯৭০ সালে তিনি গণপরিষদ সদস্য ও ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা ৬ আসন থেকে এম,পি,এ নির্বাচিত হন। নবীনগর থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে একাধিকবার সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য, কুমিল্লা জেলা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর এবং আজীবন প্রাথমিক সদস্য ছিলেন।

 


kajol

লেখক পরিচিতিঃ মোঃ নিয়াজুল হক কাজল সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক।

 

 

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25653 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০