শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন স্মৃতির মাঝে দোল খায় যার ছবি

শাহাদাত হোসাইন | শুক্রবার, ০৫ মে ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1249 বার

কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন স্মৃতির মাঝে দোল খায় যার ছবি

স্মৃতিচারণ

আলহাজ কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন 


(সাবেক সংসদ সদস্য (ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৫ নবীনগর

প্রতিটা প্রানীই মরনশীল।জন্মিলে মরিতে হবে কথাটি সবারই জানা।তবে কিছু মানুষ মরেও তার কর্মও আদর্শের মধ্যে আমাদের মাঝে বেচে থাকেন আজীবন। 

হৃদয় থেকে হৃদয়ে,যুগ থেকে যুগান্তরে,প্রজন্ম থেকে বহু প্রজন্ম পর্যন্ত।

আলহাজ্ব কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন এমন জীবনই গঠন করেছিলেন যার মৃত্যুতে মানুষ এখনো কাঁদে।

তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নবীনগরের চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন।

গত ৩রা মার্চ ২০১৭ তিনি পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

নবীনগরবাসীর প্রিয় এই মানুষটির সাথে রয়েছে আমার কিছু মধুর স্মৃতি।নারায়ানপুরে চারগ্রাম ঈদগাহ মাঠে আয়োজিতে ঐতিহাসিক সীরাত মাহফিলে হামদ-নাত, ক্বেরাত প্রতিযোগীতায় ১৯৯৬/১৯৯৭ সালে অংশগ্রহন করে আমি দুইবার বিজয়ী হয়েছিলাম তার হাত থেকেই আমার জীবনের প্রথম পুরুস্কার গ্রহন করি।

আমি ক‘গ্রুপের ২য় হয়েছিলাম। প্রথম বিজয়ীর গাওয়া নাতে রাসুলের কথা গুলো ছিল “রাসুল (সা:) তুমি যে আমার হৃদয়েবাগের বুল বুল“হৃদয় উজার করে গাওয়া রাসুলের শানে এই গানটি তিনি পুরুস্কার প্রদান করার সময় মন দিয়ে শোনেছিলেন খোব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। ধর্মীয় যে কোন কাজে তিনি ছিলেন সবসময় অগ্রগামী। জীবনের শেষ মুহুর্তে এসে তিনি তার প্রমানও রেখেগেছেন। নিজ গ্রাম নবীনগরের যশাতোয়ায় মাদরাসায়ে আনোয়ারে মদীনা প্রতিষ্ঠা করে । যেখান থেকে  কোরআন-হাদীসের শিক্ষা গ্রহন করে আলোকিত মানুষ তৈরী হবে। যার সাওয়াব তিনি পাবেন সবসময়।

প্রিয় এই মানুষটির হাত থেকে ২০০৫ সালে সাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের সম্মাননা ক্রেষ্ট নিয়েছিলাম। আমাদের মাদরাসার ছাত্ররা অংশগ্রহন করেছিলেন সেদিন  আকাশী কালারের পান্জাবী-পায়জামা আর বুকে জাতীয় পতাকা ধারন করে। নবীনগর হাইস্কুল মাঠে সবার নজর কেড়েছিলেন আমাদের ছাত্ররা। সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করার সময় কাজী আনোয়ার সাহেব বলেছিলেন আজকের অনুষ্ঠানের তোমরাই সেরা।

২০১২ সালের কথা আমি তখন পবিত্র মদীনা শরীফ থাকি । তিনি গেলেন ওমরা হজ্ব আদায় করতে সাথে তার সন্তান নাজমুল হাসান তাপস। ঘটনাক্রমে আমার সাথে দেখা । আমিও মদীনার একটি মসজিদের ইমাম , আমি নবীনগরের এবং মসজিদের ইমাম এই পরিচিতি পেয়ে বুকে জড়িয়ে নিলেন কপালে চুমু খেলেন আর বললেন কোরআনের হাফেজ-আলেমদের আমার খুব ভাল লাগে। বহুদিন পর প্রবাসের মাটিতে নিজ দেশের নিজ এলাকার মানুষের স্পর্শ পেয়ে আমিও আবেগাপ্লোত হয়ে পড়লাম।মসজিদে নববীর পাশেই আমার ভাতিজা নাছিরের বাসা তার বাসায় রাতের খাবারের আয়োজন করলাম।নবীনগরের অনেক প্রবাসীরাই সেদিন মরহুম এই নেতার সহজ-সরল আলোচনায় মুগ্ধ হয়েছিল।

বার বার যেন মদীনায় যেতে পারেন এ প্রত্যাশা করতেন তিনি। প্রিয় এই মানুষটি আজ  নেই,  রয়েগেছে তার অনেক স্মৃতি।

 

বিএনপির চেয়ারপার্সনের সম্মানিত উপদেষ্টা নবীনগরবাসীর প্রিয় এই মানুষটির মৃত্যুর সংবাদ শোনে শোকে কাতর হয়েছিল নবীনগরবাসী।তার জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করেছে তিনি কত জনপ্রিয় ছিলেন । তার জানাজা পূর্ব আলোচনায় বিএনপি আওয়ামিলীগ,জাতীয় পার্টির নেতারা অকপটে স্বীকার করেছেন তার ভাল কাজগুলোর কথা।

একজন নেতার মৃত্যুতে তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা যে ভালবাসার নজির রেখেছেন আমাকেও আকৃষ্ট করেছে, উতসাহ যুগিয়েছে তার জন্য কলম ধরতে।

প্রিয় এই মানুষটিকে তার ভাল কাজগুলো কবুল করে আল্লাহ পাক  তাকে জান্নাতবাসী করুন এই কামনা করছি।

আমিন

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4630 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2664 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০