শিরোনাম

প্রচ্ছদ ধর্ম দর্শন, শিরোনাম

আলোকিত মানুষের কথা

কা’বা শরীফের প্রধান ইমাম শায়খ ডঃ আব্দুর রহমান আস-সুদাইসের জীবন কথা

হাফেজ মোহাম্মদ শাহাদাত হুসাইন | রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 2784 বার

কা’বা শরীফের প্রধান ইমাম শায়খ ডঃ আব্দুর রহমান আস-সুদাইসের জীবন কথা

সঊদি আরবের আল-ক্বাসীম এলাকার বুকাইরিয়া শহরে তার জন্ম হয় ১৩৮২ হিজরীতে। তার মানে ২০১৪ সালে তাঁর বয়স হলো মাত্র ৫৩ বছর। তিনি ছোট বেলা থেকেই খুব মেধাবী ছিলেন। প্রায় ১২ বছর বয়েসে তিনি পবিত্র কোরআনের হাফিয হন। লেখাপড়া করেছেন রিয়াদে। ১৯৯৫ সালে মক্কার উম্মুল ক্বুরা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শরিয়া ফ্যাকাল্টি থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ছোট বেলার একটা ঘটনা বলতে গিয়ে খুব আবেগী হয়ে যান। ছোট বেলায় কি একটা দুষ্টুমি করেছিলেন ফলে তার মা তার ওপর রেগে যান। রেগে গিয়ে বলেনঃ তুই বের হয়ে যা, গিয়ে হারামাইনের ‘ইমাম’ হ। আল্লাহ সুবহানাহু ও তায়ালা তার আম্মার এই দোয়া কবুল করেছেন। তিনি কা’বা শরীফের ইমাম হওয়ার আগে অনেক ছোটবড় মসজিদের ইমামতিও করেছেন। তিনি উম্মুল ক্বুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর। তিনি শরীয়া কোর্টের বিচারপতিও ছিলেন। তাঁর এই গুরু দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সব সময় শিক্ষকতার পেশাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে কাছে টেনে নিয়েছেন। সৌদি সরকারের অনুমোদিত জামেয়াতুল মা’রেফা আল-আলামিয়্যাহ (নলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর) যার শিক্ষকতায় আছেন সৌদি গ্রান্ড মুফতি, ধর্মমন্ত্রী সহ অনেক উচ্চ পদস্থ উলামায়ে কেরাম। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা হলো ৯টা এবং আরো ৬ টি গ্রন্থ ও গবেষনা পত্র প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। তিনি খুবই বিনয়ী। সব সময় সাধারণ মানুষদের কাছে থাকতে ও সাথে থাকতে ভালোবাসেন। তিনি এখন কা’বা শরীফ ও মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম। কিন্তু এখনও তিনি ক্লিনারদের সাথে বসে ইফতার করতে ও খাবার খেতে পছন্দ করেন। তিনি সব সময় হাস্যোজ্জ্বল থাকেন। সবার সাথে হাসি মুখে মন খুলে কথা বলেন। খুব বিনয়ের সাথে নরম ও মিষ্টিস্বরে কথা বলেন। তিনি হাল্কা কৌতুক করতে ও চুটকি বলতে পছন্দ করেন। তবে, নামাযে দাড়ালেই কেঁদে ফেলেন। শেখ সুদাইস একবার এক টিভি অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক মহিলা ফোন করে বলেনঃ আমি স্বপ্নে দেখেছি যে এক বড় বিখ্যাত শায়খ কা’বা শরীফে উলংগ হয়ে কা’বা শরীফ তাওয়াফ করছেন। তিনি আমার কোন আত্মীয় নন, বা কাছের কেউ নন। কিন্তু আমি তাকে খুব ভালো করেই চিনি। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি? তখন শেখ সুদাইস বললেনঃ সেই লোকের জন্যে সুসংবাদ, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট আছেন এবং তিনি গুনাহ থেকে মুক্ত হয়েছেন। তখন প্রশ্নকারী মহিলা বললেনঃ আমি যে শায়খকে স্বপ্ন দেখেছি তিনি হলেন ‘আপনি’ (শায়খ সুদাইস)। এ কথা শুনার সাথে সাথেই শায়খ সুদাইস অঝোর ধারায় কেঁদে দিলেন। #বিঃদ্রঃ সপ্নব্যাখ্যা একমাত্র তারাই দেয়ার যোগ্য যাদের হাদীস ও এলেমের ওপর বিশেষ জ্ঞান রয়েছে। মুহাদ্দীস ও মুফতী। তাই এখানে শায়েখ নিজেই সপ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, ‘উলঙ্গ দেখার মানে গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়া’। তাই কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। আল্লাহ্ হজরতকে হায়াতান তায়্যিবা দান করুন। এবং দুনীয়া ও আখিরাতে আরও সম্মানীত করুন। আমিন।। #বিঃদ্রঃ অনেক মায়েরা সন্তানকে অভিষাপ দেন, মনে রাখবেন আপনার এই অভিষাপ আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে গেলে পরে কিন্তু সন্তানের জন্য আপনীই সবার আগে কাঁদেন। সন্তানের ভুলের জন্য তাকে অভিষাপ নয় ভাল হওয়ার দোয়া করুন মহান রব্বের কাছে।


Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রসঙ্গঃ মাহে রমজান

০৩ জুন ২০১৬ | 3678 বার

রমজানের আমল সমূহ

০৯ জুন ২০১৬ | 3343 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০