শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা!

মাসুম মির্জা | রবিবার, ১১ জুন ২০১৭ | পড়া হয়েছে 5216 বার

গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা!

নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের গুড়িগ্রামে অসহায় এক কৃষকের সবজি বাগানের সব গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার(১০/৬) দিবাগত রাতের কোন এক সময়ে ক্ষেতের সব গাছ উপড়ে ফেলায় ওই কৃষকের লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মিন্টু ভুইয়া।

সরজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে মিন্টু ভুইয়া ৩৭ শতাংশ জায়গার উপরে করা সবজি বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির লাউগাছ, শষা,জালি কুমড়া সহ দুই শতাধিক গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে দরিদ্র মিন্টু ভুইয়ার পথে বসার উপক্রম হয়েছে।


খবর শুনে এলাকার মানুষজন সবজি বাগানে এসে এ দৃষ্য দেখে বিষয়টিকে অমানবিক আখ্যায়িত করে বলেন, এ কেমন শত্রুতা! যার খেশারতে বাগানের গাছ কেটে ফেলা হল।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার দরিদ্র মিন্টু ভুইয়া একই এলাকার গুড়িগ্রাম মার্কেট সংলগ্ন প্রকৌশলী কবির মিয়ার বাড়ির পাশে ৩৭ শতাংশ জায়গার উপর দীর্ঘদিন ধরে সবজি বাগানের চাষ করে আসছে।তার এ বাগানের সবজি গ্রামের নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে বলে জানালেন এখানকার বাসিন্দারা।

মিন্টু ভুইয়ার মা বয়সের ভারে হাটা চলা করতে পারেন না, তারপরেও তিনি নিয়মিত বাগানে এসে চারপাশটা ঘুরে দেখে যান বলে জানিয়েছেন অনেকে। মিন্টু ভুইয়ার মায়ের সাথে কথা বললে তিনি এ প্রতিবেদককে জানালেন, প্রতিদিনের মত আজও (রবিবার) সকালে বাগানে এসে একটি গাছ উপড়ানো দেখে ভাবতে থাকেন হয়তোবা মিন্টুর কাজ এটা। পরক্ষনে সামনে এগুতেই সব গাছ উপড়ানো দেখে মাথায় হাত দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি, আর বলতে থাকেন, আমার পোলার কে অত্তবড় সর্বনাশ করলো। 

এলাকার সালাম সর্দার,ফারুক মোল্লা বলেন, মানুষের সাথে শত্রুতা থাকতে পারে তাই বলে এমন কাজ করা অমানবিকতা, এরা অমানুষ।

গ্রামের আরেক সর্দার নুরু মিয়া বলেন, মানুষের সাথে শত্রুতা থাকতে পারে,তাই বলে রাতের আধারে গাছ কেটে ফেলা হবে এ কেমন কথা! তিনি দোষীদের খোজে আইনের আওতায় আনার পরামর্শ চান পুলিশ প্রশাষনের।

মিন্টু ভুইয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে জানায়, কয়েকমাস ধরে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিশ্রম করার পর এখন ফলন দেওয়ার সময় হয়েছে। এসময় আমার গাছগুলি নষ্ট করে দিয়েছে। আমি এখন ছেলে মেয়ে নিয়ে কিভাবে চলবো।

তিনি প্রতিবেদককে বলেন, গ্রামের (নাম প্রকাশ করা হলোনা)এক ব্যক্তিকে গতকাল রাতে বাগানের আশেপাশে ঘুরতে দেখেছেন। তিনি ধারনা করছেন এ অমানবিক কাজটি তার হাত দিয়েই হয়েছে। বিষয়টি তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবুল হোসেনকে অবগত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান হাজী আবুল হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনার পর আমি অভিযুক্ত ব্যক্তির বড় ভাইকে ডেকে এনে তার ছোট ভাইকে হাজির হতে বলি। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি না আসায় বিষয়টির সুরাহা হয়নি।তবে উক্ত বিষয়টি সুরাহার লক্ষে আগামী ১৪ জুন এলাকায় শালিশ বসবে বলে জানালেন তিনি।

উল্যেখ্য, মিন্টু মিয়ার অভিযোগে যে ব্যক্তির নাম উঠেছে তার সাথে মিন্টুর আগে কোন শত্রুতা ছিল কিনা এ প্রশ্নের খুঁজে প্রতিবেদক বিভিন্ন স্থানে খুজ লাগিয়ে গোপন এক মাধ্যমে জানতে পারেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিটি এলাকায় এক নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পরলে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল একটি ঘরে। এলাকাবাসী ওই ঘরের দরজায় পাহারা দিতে বলেছিল মিন্টু মিয়াকে। ধারণা করা হচ্ছে, মিন্টু মিয়ার কারনে সেদিন পালাতে না পেরে এ ঘটনা সে ঘটাতে পারে। এছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তিটি কয়েকমাস আগে জনৈক ব্যক্তির খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়েছিল। পরে শালিশে আর্থিক জরিমানা রায় দেয়া হলেও প্রভাব দেখিয়ে সে ওই রায় অমান্য করে। 

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25762 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১