শিরোনাম

প্রচ্ছদ বিচিত্র, শিরোনাম, স্লাইডার

গুটা বিশ্বে আলোচিত যে কজন নিষ্ঠুর শাসক

অনলাইন ডেস্ক | শনিবার, ০৪ জুন ২০১৬ | পড়া হয়েছে 3240 বার

গুটা বিশ্বে আলোচিত যে কজন নিষ্ঠুর শাসক

মানুষের কর্ম তাকে পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখে। কেউ কেউ বেঁচে আছেন তাদের ভালো কাজের জন্য। আবার কাউকে কাউকে এই পৃথিবীর মানুষ তাদের খারাপ কাজের কারণে মনে করে চলেছে। তাদের নাম অবশ্য ভালো কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় না। সাধারণত মানুষ ‘গালি’ দেওয়ার কাজে তাদের নাম ব্যবহার করে। এমন কিছু মানুষকে আজ আমরা জানবো। তাদের সবাই ছিলেন শাসক। শাসন কাজে এতটা নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছিলেন যে, তাদের কারো কারো কর্মকাণ্ডের কথা জানলে ভয়ে আঁতকে উঠতে হয়।

জোসেফ স্টালিন

১৯৪১ সালের ৬ মে থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জোসেফ স্টালিন সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসক ছিলেন। নির্মমতার দিক থেকে যে সব শাসক ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন তাদের মধ্যো জোসেফ স্টালিন অন্যতম। যে সব শাসক ঐতিহাসিকভাবে খ্যাতি পেয়েছেন তাদের মধ্যেই স্টালিন রাজনৈতিক ক্ষমতা অপব্যবহারে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার আদেশ পালনে লাখ লাখ কৃষকে অভুক্ত রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে তিনি ২ কোটির বেশি মানুষকে হত্যা করেছিলেন।


অ্যাডলফ হিটলার

নির্দয় শাসক তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ায় জম্ম নেওয়া জার্মান রাজনীতিবিদ এবং ন্যাশনাল সোসিয়ালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা অ্যাডলফ হিটলার। ১৯৩৩ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি জার্মানর চ্যান্সেলর ছিলেন। নাৎসিবাদ প্রতিষ্ঠা, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ এবং হলোকাস্টের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের সময়ে হিটলারের জ্যাতাভিমানের কারণে লাখ লাখ লোককে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। হলোকাস্টে অন্তত ৬০ লাখ ইহুদিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমান জার্মানি জনসম্মুখে হলোকাস্ট নিয়ে আলোচনা অনুমোদন করে না। শুধু তাই নয়, তাদের এই নেতার অতীত নিয়ে আলোচনা করতে তারা লজ্জাবোধ করে। কুখ্যাত এই নায়ক ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল আত্যহত্যা করেন।

লিওপোল্ড টু বেলজিয়ামস

বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড কঙ্গোতে নির্দয় শোষণের কারণে অত্যাচারী শাসক হিসেবে পরিচিত। প্রথম লিওপোল্ড এবং লুইসি মেরির সন্তান ছিলেন তিনি। ব্রাসেলসে জম্ম নেওয়া দ্বিতীয় লিওপোল্ড ১৮৬৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর সিংহাসনে আরোহন করেন। তার শাসনামলে ১৮৮৫ সালে কঙ্গো ফ্রি স্টেট প্রতিষ্ঠিত করেন। এটি তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখান থেকে তিনি হাতির দাঁত, রাবার এবং অন্যান্য খনিজ দ্রব্য সংগ্রহ করতেন। এসব কারণে বিংশ শতাব্দীতে কঙ্গো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় একটা কেলেঙ্কারী হয়ে দেখা দেয়। এর ফলে সেখানে নিজ স্বার্থ উদ্ধারে কঙ্গোলিজের ওপর নির্দয় অত্যাচার শুরু করেন, যার ফলে সেখানে ৩০ লাখ লোকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কারো কারো মতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল এক কোটি, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ২০ ভাগ। এই অত্যাচারের কারণে দ্বিতীয় লিওপোল্ড তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

অ্যাডলফ আইচমান

ছোটো শিল্প শহর রাইনিল্যান্ডের সোলিনজেন শহরে ১৯০৬ সালের ১৯ মার্চ জম্ম গ্রহণ করেছিলেন অ্যাডলফ আইচমান। ১৯৩২ সালে তিনি নাৎসি দলে যোগ দেন, এতে দ্রুত তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। ইহুদি জনগন খুঁজে বের করার জন্য তিনি নাৎসি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলসমূহ ভ্রমণ করতেন। হলোকাস্টের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইহুদী নিধনে অংশ নেওয়ায় ইসরাইলে তার বিচার হয়। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি শুধু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ পালন করেছেন। তবে পঞ্চাশ লাখ ইহুদির মৃত্যু আমার বিবেককে, আমাকে অসাধারণ সন্তুষ্টি এনে দিয়েছে।’ তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৯৬২ সালে ইসরাইল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ইতিহাসে সবচেয়ে নির্দয় শাসক হিসেবে তিনি চার নম্বরে এসেছেন।

রাশিয়ার চতুর্থ ইভান

অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত ছিলেন রাশিয়ার চতুর্থ ইভান। ১৫৩৩ সাল থেকে ১৫৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি ছিলেন রাশিয়ার প্রথম ‘জার’। নৃশংসতার জন্য তাকে ‘ইভান দ্য টেরিবল’ বা ‘ইভান দ্য ফেয়ারসাম’ নামে পরিচিত ছিলেন। ধার্মিক এবং বুদ্ধিমান ছিলেন, সে সঙ্গে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মানুষের ওপর অত্যাচার করতে পছন্দ করতেন। হাজার হাজার মানুষকে গরম পাত্রের ওপর পোড়ানো উপভোগ করতেন। এ সব কারণে মানুষ জন যেনো পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য শহরের চারপাশে দেয়াল তৈরির আদেশ দিয়েছিলেন। তার নির্দেশে প্রতিদিন সেনারা ৫০০ থেকে ১০০০ সাধারণ মানুষ ধরে নিয়ে আসতো। এসব মানুষকে ইভান ও তার ছেলের সামনে সেনারা নির্মমভাবে অত্যাচার করতো এবং হত্যা করতো। এই নির্দয় রাজা দাবা খেলার সময় স্ট্রোক করে মারা যান।

ভ­াদ টেপেস

শত্রুদের শূলবিদ্ধ করে হত্যার জন্য খ্যাতিমান ছিলেন ভ­াদ টেপেস। তার সামাজ্যকে ১৪৫৬ থেকে ১৫৬২ সাল পর্যন্ত বলকানে অটোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়। নির্দয় সব শাস্তির জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। মানুষের রক্ত পরীক্ষা করতে পছন্দ করতেন। ড্রাকুলা হওয়ার ব্যাপারে উজ্জ্বীবিত করার ব্যাপারে তাকেই উৎস মনে করা হয়। যখন তার সামনে মানুষকে অত্যাচার করা হতো তখন তিনি তাদের মাংস খেতেন। খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছেন তিনি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, আমলাস শহরে এক সময় কোনো জীবিত মানুষ ছিল না। এমনকি কোনো জীবিত শিশুও ছিল না। মানুষের মলদ্বার এবং মুখে খোঁচাতেন, পেটে খুঁচিয়ে নাড়িভুড়ি বের করে ফেলতেন। তাদেরকে তিনি সিদ্ধ করতে, চামড়া ছিলে ফেলতে, শিরচ্ছেদ করতে এমনকি জীবন্ত সমাহিত করতে আদেশ দিতেন। এতটা নিষ্ঠুর ছিলেন যে, কাউকে কাউকে অঙ্গচ্ছেদ করারও আদেশ দিতেন। কারো নাক, কান, লিঙ্গ কেটে ফেলতেন তিনি।

পল পট

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী পল পট ১০২৫ সালের ১৯ মে জম্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি কম্বোডিয়ার নেতা নির্বাচিত হন। তার সেনাবাহিনী শহরে গণহত্যা চালায়। লাখ লাখ লোক ভিটেবাড়ি ছাড়া হয়। তার সরকার মানুষকে ক্ষুধা এবং রোগ উপহার দিয়েছিল। তার সরকারের আমালে ক্ষুধা, অত্যাচার, শ্রমে বাধ্য করে ১০ লাখের বেশি মানুষকে মৃত্যুতে ঠেলে দিয়েছিল। কম্বোডিয়ার মানুষ কোনো রকম স্বাস্থ্য সুবিধা পেতো না। কাউকে বিশেষ করে বুদ্ধিজীবি এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ হলে তাকে হত্যা করার আদেশ দিতেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগের সময় ১৯৯৮ সালে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তিনি।

চেঙ্গিস খান

সব যাযাবর জাতিকে চেঙ্গিস খান তার শাসনে নিয়ে এসেছিলেন। তার পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দারুণ সুশৃঙ্খল এক সেনাবাহিনী গঠনে সমর্থ হয়েছিলেন তিনি। এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত সেনাবাহিনী গঠন করেছিলেন চেঙ্গিস খান। চরিত্রগত ভাবে প্রচণ্ডরকম নির্দয় শাসক ছিলেন, সে সঙ্গে নির্দয় এক যোদ্ধাও ছিলেন তিনি। ১১৬২ সালে মঙ্গোলিয়াতে জম্ম নেওয়া চেঙ্গিস খান মঙ্গল সাম্রাজ্য তৈরি করেন। মঙ্গল আক্রমণে ইউরোশিয়া জয় করেন তিনি। তার সেনাবাহিনী এত নিষ্ঠুর ছিল বিশ্ব জনসংখ্যার ১১ ভাগ পৃথিবী থেকে মুছে দিয়েছিল। তাদের হত্যার শিকার হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি মানুষ। কোনো প্রাণী জীবিত রাখার পক্ষে ছিল না তার বাহিনী। মানুষ তো নয় কোনো প্রাণীকে তারা জীবিত রাখতো না। চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। কথিত আছে তার অন্তোস্টিক্রিয়ার বিষয়টি গোপন রাখার জন্য ২০০০ অতিথিকে হত্যা করা হয়েছিল।

আতিলা দ্য হুন

দানুব থেকে বালটিক সাগর, উরাল নদী থেকে রাইন নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল আতিলা দা হুনের শাসন। ৪৩৪ সাল থেকে ৪৫৩ সাল পর্যন্ত শাসন ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। ইতিহাসের অন্যতম খলনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে। পশ্চিম ইউরোপে লালসা ও নৃশংসতার জন্য তাকে মনে করা হয়। দানুব নদী দুইবার পার হয়ে এসে তিনি বলকানে দস্যুতা চালান। তবে কনস্টাটিনোপল জয় করতে ব্যর্থ হন। রোম জয়ের উদ্দেশ্যে তিনি ইতালি আক্রমণ করেছিলেন এবং উত্তর প্রদেশের অনেক অঞ্চল ধ্বংস করেছিলেন। পরে তিনি রোম জয় করেন।

ইদি আমিন দাদা

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইদি আমিন দাদা সবচেয়ে নির্দয় শাসকদের তালিকায় দশম স্থানে। এই সেনা শাসক ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ব্রিটিশ কলোনিয়াল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার পর আমিন মেজর জেনারেল র‌্যাংক লাভ করেন। ১৯৭১ সালে সেনা অভূত্থানে ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে কমান্ডার হন তিনি। এরপর ফিল্ড মার্শাল হয়ে রাষ্ট্রের প্রধান হয়েছিলেন। তার শাসনের মূল ভিত্তি ছিল রাজনৈতিক দমন, মানবাধিকার ক্ষুণœ, হত্যা ও বিতাড়ন। তার শাসনামলে ৫ লাখেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ইউরোপিয়ানদের বড্ড অপছন্দ ছিল তার। ইউরোপিয়ানদের ওপর শাসনের লক্ষ্য ছিল এই আফ্রিকান নেতার। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও উগান্ডার জন্য তাকে প্রয়োজন বলে মনে করতেন তিনি। যে কারণে তিনি কখনো অনুতাপ করেননি। কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে সৌদি আরবের হাসপাতালে মারা যান তিনি।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নেশা তার চুল খাওয়া

১৮ মে ২০১৬ | 2309 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০