শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

বেচে থেকেও হাসপাতালের বেডে নরক যন্ত্রনায় ছটফট করছে স্বামী স্ত্রী

গুড়িগ্রামে প্রবাসীর বাড়িতে নৃশংস হামলা – ডাকাতি না হত্যার উদ্যেশে জনমনে প্রশ্ন

এস এ রুবেল | সোমবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 5714 বার

গুড়িগ্রামে প্রবাসীর বাড়িতে নৃশংস হামলা – ডাকাতি না হত্যার উদ্যেশে জনমনে প্রশ্ন

বিটঘর ইউনিয়নের গুড়িগ্রামে ৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে প্রবাসী এনামূল হক ও তার স্ত্রী রুমা আক্তারের উপর নৃশংস হামলার ঘটনাটি আদৌ কি ডাকাতির উদ্যেশ্য ছিল! নাকি পরকল্পিত হত্যার চেষ্টায় এ হামলা চালানো হয়েছে তা এখন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় এনামুলের স্ত্রী বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আইনি পক্রিয়ার মাধ্যমে বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে সংশ্লীষ্ঠ থাকার অভিযোগে  তিন ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে গুড়িগ্রামের নসু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়াকে  আজ রবিবার (২৩/১০)  তার শুশুর বাড়ি কাইতলা ইউনিয়নের নারুই এলাকা থেকে গ্রেফতার করে শিবপুর ফাড়ি পুলিশ।  এর আগে  দানু মিয়ার ছেলে মাস্তু মিয়া ও  সেন্টু মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে।   আটককৃত তিনজন একই গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে এ মামলার তদন্তকারী শিবপুর অস্থায়ী ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই রেজাউল করিম  অত্যান্ত দক্ষতার সাথে ঘটনার সুত্র খুজে বের করতে  ও সংশ্লীষ্ঠ ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে স্বচ্ছ ভুমিকা ও আপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে স্বীকার করলেন এনামুলের পরিবারের লোকজন।
স্থানীয়রা মনে করেন, আটক ব্যক্তিদ্বয়ের স্বীকারোক্তিতে মুল ঘটনা বেড়িয়ে আসবে। তাই তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জোর দাবী তুলেন, দ্রুত এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার দোষীদের সাজা দেয়া হোক।

cv
সেলাইয়ের পরেও ঘা না শুকানোর তীব্র জ্বালা গত দেড় মাস ধরেই সয়ে যাচ্ছেন এনামুল ও তার স্ত্রী রুমা

সেদিন কি ঘটেছিলঃ
কিছু কিছু ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা কতটা হিংস্র হতে পারি। আমাদের মনুষ্যত্য লোপ পেলে আমরা যে লাশকাটা ঘরের ডোমের চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে একটা সাজানো বাগান তছনছ করে বীরদর্পে পথ চলতে পারি তার নজির ছিল এই ঘটনাটি।
ডাকাতি কিংবা পরিকল্পিত হত্যার উদ্যেশ্যে হোক এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ঠদের সাজা হোক বা না হোক এ দম্পত্তির যে অপুরনীয় ক্ষতি হল তা পুরন হবার নয়। পুরুপুরি সুস্থ হবার এখনো বহু সময় বাকী। এরই মাঝে এনামুলের বাম হাত অকেজো বলে চিকিতসকগন জানিয়ে দিয়েছেন।
হামলার ঘটনার দেড় মাস পেরুলেও চিকিতসাধিন অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে নরক যন্ত্রনায় ছটফট করছে স্বামী স্ত্রী। কাটা দেহে শতাধিকের উপরে সেলাইগুলোর ক্ষত এখনো শুকায়নি। দিনরাত অসহ্য যন্ত্রনায়  হাসপাতালের বিছানায় একপাশ হয়ে শুয়ে থাকা তা যেন নরক যন্ত্রনাকেও হার মানায়। এনামুলের ফ্যাল ফ্যাল চোখের চাহনি বলে দেয় সুন্দর পৃথিবীতে বাচার স্বাধ যেন পানসে হয়ে গেছে। তারপরেও বাড়িতে থাকা তিন বছরের ছেলে ইমরান ও ৭ বছরের মেয়ে হাফসা আকতার (ইসা) হাসপাতালের বিছানায় যখন মায়াময় চাহনিতে বাবা মায়ের করুন এ পরিণতি দেখে তখন এনামুলের অবাক দৃষ্টি বলে দেয় আমি বাচতে চাই তোদের জন্য হলেও আমার বাচার স্বাদ জাগে। এনামুলের এ আকুতি স্রষ্ঠা শুনবেন ঠিকই তবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নিশ্চয়তা হয়তো পাবেনা। হয়তোবা এ বেচে থাকার কোন অর্থই থাকবেনা।
গুটা পাচেক মানুষ শুধু তাদের কুপিয়েছে তা কিন্তু নয়! তারা এনামুলের সাজানো বাগান পায়ের নিচে ফেলে পিষ্ট করে দিয়েছে। রুমা অন্তসত্তা ছিল, তার দেহের বেশির ভাগ অংশে ছিল আঘাতের চিহ্ন, শেষ পর্যন্ত তাকে বাচাতে গিয়ে তার অনাগত সন্তান ভুমিষ্ঠ হবার আগেই………।
এনামুলের বাবা আজিজুল হক কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, তিনি জানামতে কারো ২ টাকার ক্ষতি করেছেন বলে মনে পরেনা। কোন শত্রুতায় তার ছেলে ও ছেলের বউয়ের উপরে এ হামলা তিনি ভেবে পাননা।  তিনি  জানান, চলতি বছর স্ত্রীকে নিয়ে হজ্বে যাবার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতেই এনামুল  ডুবাই থেকে ছুটি কাটাতে দেশে আসেন। বাবা মায়ের হজ্ব গমনের বার দিনের মাথায় ঘটে এ নৃশংশ ঘটনা। এনামুলের স্ত্রী রুমা দাবী করেন, তাদের চিনতে পারার কারনে তারা আরো হিংস্র হয়ে উঠে। রামদা, চাপাতি দিয়ে এলোপাথারী কুপানোর ফলে তাদের আর্ত চিতকারে পাশের রুমে থাকা এনামুলের বড় ভাইয়ের (ডুবাই প্রবাসী) স্ত্রী ছুটে আসলে তাকেও বেধে কোপানো হয়।  এরই মধ্যে আশপাশের মানুষ জন ছুটে আসলে তারা চম্পট দেয়।


fg
ওই মহুর্তে বাবা মা দেশে না থাকায় পুরু বাড়িতে পুরুষ বলতে ছিল এনামুল। অন্য দুইজন বর্তমানে ডুবাই আছেন। হামলার পর পাড়াপ্রতিবেশি এনামুলের রুমে ডুকেই  হতভম্ব হয়ে যায়। আকস্মিক তারা কি সিদ্ধান্ত নিবে এ ভাবনায় কেটে যায় বহুটা সময়। ততক্ষন নিস্তেজ দুটি দেহ মেঝেতে পরে রয়েছে। এক সময় এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চলে চিকিতসা। দীর্ঘদিন ঢাকায় চিকিতসা নেয়ার পর তাদের আবারো ভর্তি করানো হয় কুমিল্লা ট্রমাতে। এখান থেকে সপ্তাহ পার হলেই তাদের ঢাকায় নিয়ে ধাপে ধাপে ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে হয়।  এখন পর্যন্ত ছয় লাখ টাকার মত চিকিতসায় খরচ হয়েছে বলে জানালেন এনামুলের বাবা।
তারপরেও তিনি চান, এনামুল, রুমা আগের মত সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসুক। তিনি কথা বলার এক পর্যায়ে বললেন, আমি এনামুলের হাসিমুখ খানা দেখে বিদায় নিয়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে গেলাম, সেখান থেকে এসে এ চিত্র দেখব কখনো ভাবিনি। তিনি চোখের পানি মুছেন আর  মনে মনে বলেন, তবুও অপরাধী চিহ্নিত হয়ে শাস্তি পাক এতেই শান্তনা।

এ ঘটনায় পুলিশের হাতে তিনজন আটকের খবরে এলাকাবাসী স্বস্থি ফিরে পেয়েছে। তবে মামলায় উল্ল্যেখিত মুল আসামী এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে বলে এনামুলের পরিবারের অভিযোগ। তারা জানান, ওই আসামীকে ধরলেই আসল ঘটনা বেড়িয়ে আসবে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 26293 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০