শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

চেয়ারম্যানের পকেটে হতদরিদ্রদের লাখ লাখ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০ | পড়া হয়েছে 283 বার

চেয়ারম্যানের পকেটে হতদরিদ্রদের লাখ লাখ টাকা

অতিদরিদ্রদের শ্রমের লাখ লাখ টাকা মজুরি পকেটে ঢুকিয়েছেন চেয়ারম্যান। নিজের স্বজনদের নাম দিয়েও আত্মসাৎ করেছেন এ টাকা। অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্যে সরকারের গৃহীত ৪০ দিনের কর্মসূচির এই টাকা আত্মসাতের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মুছার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়।

ওই ইউনিয়নের ৯৪ জনের নাম রয়েছে কর্মসূচিতে। তাদের ৫ জন জাফরপুর গ্রামের হেলন মিয়ার ছেলে আলাউদ্দিন, ফুল মিয়ার ছেলে আক্তার, আবদুল জব্বারের ছেলে রেজাউল করিম, হাবিবুর রহমানের ছেলে আবুল হোসেন এবং সুলেমান মিয়ার ছেলে এরশাদ লিখিত অভিযোগটি করেন।  তবে এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলেছেন চেয়ারম্যান আবু মোছা।


প্রাপ্ত ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওই ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে হতদরিদ্র তহবিল কর্মসূচির আওতায় সরকারের ৪০ দিনের কমর্সূচিতে মাটি কাটার কাজে অংশ নেওয়া ৯৪ জন শ্রমিক বছরে দুই বার (নভেম্বর ডিসেম্বর ও এপ্রিল মে) অংশ নেয়। সপ্তাহে পাঁচ দিন অংশ নিয়ে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে ৪০ দিনে একজন শ্রমিক ৮ হাজার টাকা করে সরকারি ওই টাকা পায়।
কিন্তু ওই ৯৪ জন শ্রমিকের অনেকেই ওই টাকা পাননি বলে দাবি করেন। জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগে তারা জানায়, চেয়ারম্যান আবু মোছা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে তার কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের নাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তাদের পুরো টাকা আত্মসাত করেন।

টাকা না পাওয়া তালিকায় নাম থাকা আবেদনকারী স্থানীয় মাটি কাটার শ্রমিক আলাউদ্দিন, আক্তার মিয়া, রেজাউল করিম, আবুল হোসেন, এরশাদ মিয়া জানান, চেয়ারম্যান মোছা পাশ্ববর্তী ভোলাচং জনতা ব্যাংক শাখা থেকে শ্রমিকদের একাউন্ট স্থানান্তর করে ইব্রাহিমপুর ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় প্রত্যেকের নামে নতুন করে ব্যাংক হিসাব খোলায়।

কিন্তু কাজ শেষে অনেক শ্রমিকই তাদের শ্রমের মজুরী এখনও পাননি। শ্রমিকদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাংক এশিয়ার লোকজনের যোগসাজশে তাদের সমুদয় টাকা আত্মসাত করেন। এ বিষয়ে ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে বারবার চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি।
তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আবু মোছা অভিযোগটিকে হাস্যকর ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে বলেন,”এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙ্গুলের ছাপ ব্যতীত একজনের টাকা অন্যজন কোনোভাবেই তুলতে পারে না। মূলত: সামনের নির্বাচনের আগে আমার ভাবমূর্তি এলাকায় ক্ষুন্ন করতেই একটি চিহ্নিত মহল কিছু শ্রমিক দিয়ে এমন জঘন্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিল করিয়েছে।”

এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার রাতে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ‘অভিযোগের অনুলিপি এখনও পাইনি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে তিনি জানান, ‘বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙ্গুলের ছাপ ছাড়া একজনের টাকা অন্যজন কিভাবে তুলে নিল, এটি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৯ ও ২০ মে নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নে বিত্তশালীদের নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ‘নবীনগর টুয়েন্টি ফোর ডটকম’এ পরপর দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত শেষে এর সত্যতা পাওয়ার পর বীরগাঁওয়ের চেয়ারম্যান কবির আহমেদ ও মেম্বার তাহের মিয়াকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর গত ২ জুন উপজেলার লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও একাধিক মেম্বারের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুরূপ সংবাদ প্রকাশিত হয়

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25298 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১