শিরোনাম

প্রচ্ছদ শিরোনাম, সাহিত্য পাতা, স্লাইডার

তবুও ফেলে আসা দিনগুলি মনে পরে যায়

কামরুল হুদা পথিক | শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1826 বার

তবুও ফেলে আসা দিনগুলি মনে পরে যায়

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নবীনগর উপজেলার আলীয়াবাদ গ্রামের এ আমাদের বাবার ভিটে মাটি ঘর বাড়ি যা-ই বলি। আমাদের সবারই বেড়ে ওঠা থেকে পড়াশুনা আর সুখ দুঃখের স্মৃতিঘেরা নিজের বাড়ি। যেখানে জন্ম আমার সেখানেই যেনো ফিরে যাই। কিছুদিন আগে বাড়ি গিয়ে পুরো বাড়িটাকে ধরতে পেরেছিলাম। সামনেই পুকুর। আর বা দিকে আমাদের চাচার বাড়ি। প্রাকৃতিক এক সৌন্দর্য ঘেরা বাড়িটার ভেতর দাঁড়াতেই সামনে আসতে শুরু করে পেছনের বহুস্মৃতি। বা পাশের ঘরটিই ( বড়;দার হাতে সংস্কারকৃত ) মূল স্মৃতির আধার। ডান পাশেরটি নতুন করেছেন ছোড়দাঁ। বা পাশের ঘরটিতেই বাবা ১৯৬৬ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন। সামনের বড়ুই গাছটি বাবার হাতেই লাগানো। ওটার নিচেই বাবা চেয়ার পেতে বসতেন আর পড়াশুনা করতেন। ১৯৬০ এ জামশেদপুর টাটা নগর থেকে অবসর গ্রহণ করে ফিরে এসে এখানেই তার শেষ সময় কেটেছে। আর ১৯৬০ তে এয়ার ফোর্সে চাকরী নিয়ে লাহোরে ১৯৬৫ এ একসিডেন্টে পঙ্গু হয়ে ১৯৭১ সালে হুইল চেয়ারে করে দেশে এলেন আমাদের বড় ভাই বড়;দা। ১৯৮১ পর্যন্ত হুইল চেয়ারের চাকা ঘুরিয়ে ঘুরিএ পুকুর পাড় পর্যন্ত জীবনের ইতি হয়েছিলো ১৯৮৪ সালে ।বড়ুই গাছটার পাশেই আমি বাগান করতাম। বাবার হাতে লাগানো একটা বাতাবী লেবুর ফুলের ঘ্রাণ আর আমার লাগানো গন্ধরাজ ফুলের গন্ধে ভরে থাকতো পুরো সকাল। আমার পড়ার টেবিল ছিলো দেখা যায় যে জানালা সেটার পাশে। পড়তে বসলে সামনে ফুলের বাগান আর গাছ গাছালীর সবুজ, তার সামনে পুকুরের জল ছুয়ে আসা বাতাস।

pothiktv আমি ১৯৮১ পর্যন্ত লেখাপড়া আর ১৯৮৭ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া পর্যন্ত এখানেই স্থায়ী বসবাস ছিলো মা আর আমাদের। তারপর মা আমার সাথে কিন্তু বাড়ি ফিরে মা নিজের এই বাড়ি আর ঠিক পুকুরের ঐ পাড়ে এক মেয়ের শশুর বাড়িতে মার অবস্থান ছিলো। আমার প্রথম ও ১০ বছরের চাকরী জীবন বগুড়াতে ছিলো বিধায় মা আমার সাথেই ছিলো। মা প্রায়ই আসতেন তার নিজের বাড়িতে। এসেই উঠানের ধুলোবালি ঝেড়ে ঝুড়েই পুনঃ ব্রঙ্কাইটিসের আক্রমণে কাবু হয়ে যেতেন। মা মারা গেলেন সাভারে ১৯৯৯ এ এই নভেম্বরে। খুব বলতেন তোরা কবে ফিরে যাবি এ দিকে। ফিরে এসেছিলাম ১৯৯৮ এ এ। মায়ের মন ভরে গিয়েছিলো আনন্দে, তা আমি খুব দেখতে পেয়েছি। কিন্তু মা ৬ মাস দেখতে দেন নি। চলে গেলেন। মাকে নামানো হয়েছিলো প্রথম তার স্বামীর ভিটিতেই, তারপর তার খুব প্রিয় মেয়ে পুকুরের ওপাড়ে হোসনে আরার স্বামী মিজানুর রহমানের ঘরের সামনে। বা পাশের ঘরটিতেই বাবা গত হলেন। আমাদের ছোটোবোন আলম আরা বেগম এখনো ভালো করে এ ঘরটিতে ঢুকতে পারে না সেই স্মৃতি মনে করে। আমি কিছুদিন আগে বাড়িতে গিয়ে এসব মনে করে করেই কিছু ছবি তুলেছিলাম। কিছু ঘর, কিছুটা উঠান, কিছু গাছ পালা, পুকুরের চার পাড় আর জল মিলে কতোকিছু জড়িয়ে থাকে পেছনের সময়! আমি কতোক্ষণ ছিলাম? বড়োজোর ৩০ মিনিট। কিন্তু আমি যেনো ৩০ মিনিটে ৩০ বছরের স্মৃতির শহর ঘুরে বেড়িয়েছি। সৈয়দ মুজতবা আলীর সেই দেখাশুনা করার লোকটির কথা মনে হয়ে গেলো, বলেছিলো, ইনহাস্ত ওয়াতেনাম, এই তো আমার জন্মভূমি…
কিসে তৃপ্ত আমি তৃষিত নয়ন
কিসে মর্ম স্পর্ষ করিবে স্মরণ
সেতো পূন্য ভূমি সেতো পিতৃভূমি
জন্মে মৃত্যু সপি তারে পূন্যভূমি নমি।।


Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25653 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০