শিরোনাম

প্রচ্ছদ আলোকিত জন, নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

বিটঘর গ্রামের কৃতিসন্তান দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য কিংবদন্তী একজন

এস এ রুবেল | রবিবার, ১৭ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 92 বার

বিটঘর গ্রামের কৃতিসন্তান দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য কিংবদন্তী একজন

নবীনগর পূর্বাঞ্চলের মহেশ রোডের নাম শুনেছেন অনেকেই। উপজেলার বিটঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মহেশ চন্দ্র ভট্রাচার্য্য। মুলত উনার নামানুসারেই এ সড়কের নামকরণ করা হয়। একটা সময় ওই অঞ্চলে সড়ক বলতে কিছুই ছিলোনা। বর্তমানের চিত্রে এখনো চোখে পড়ার মতো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি ওই অঞ্চলে।

আনুমানিক একশত বছরেরও বহু আগে এলাকার সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে নিজের কেনা জায়গায় মহেশ সড়ক তৈরি করেন তিনি। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সেসময়ে লোহার পুল তৈরি করে মহেশ সড়ককে চলাচলের উপযোগী করে তুলা হয়।


নিজস্ব অর্থায়নে লোহার পুল তৈরি করে আশপাশের মানুষজনের যাতায়াতের সুবিধে করে দেন মহেশ চন্দ্র

ভাবা যায়! তখনকার সময়ে সড়ক তৈরি করাটা কত ব্যায়বহুল ও দুঃসাধ্য কাজ ছিলো। বিটঘর পর্যন্ত এই সড়ক ছিল আশপাশের মানুষজনের একমাত্র চলাচলের মাধ্যম।

প্রায় একশো বছরেরও আগে মহেশ চন্দ্র ভট্রাচার্য নিজের আয়ের টাকায় এ সড়ক নির্মাণ করেন। উনার নামানুসারেই এ সড়কের নাম মহেশ রোড রাখা হয়।

শুধুই কি তাই! এলাকার মানুষজনের জলের প্রয়োজন মেটাতে বাড়ির সামনে দীঘি কাটেন মহেশ চন্দ্র। গ্রামের মানুষজনের সেসময় টিউবওয়েল ব্যবহারের তেমন সুযোগ ছিলোনা। দীঘির জল বিশুদ্ধিকরণের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন তিনি। তবে গোসল, সাতার কাটা সহ কাপড়চোপড় পরিস্কার করতে মানা ছিলো দীঘিতে। একাজে মাসিক বেতনে একজন লোকও রাখেন মহেশ চন্দ্র। দানের হাত বড় ছিলো বলে আজ তিনি ইতিহাসে দানবীর হিসাবে খ্যতি পেয়েছে। তার ইনকামের সব টাকা বিলিয়েছে মানবকল্যাণে। যে কারনে আজ আমরা উনাকে দানবীর মহেশ চন্দ্র ভট্রাচার্য হিসেবে চিনি৷ শৈশবে মহেশ চন্দ্র ভট্রাচার্যর পরিবারে তেমন স্বচ্ছলতা ছিলোনা। তিনি ১২৮৬ সালে (বাংলা) কুমিল্লা জিলা স্কুলে দশম শ্রেণিতে ছাত্রাবস্থায় ব্যবসায়িক মনোবাসনায় কলকাতা চলে যান। প্রথমে শ্রমিকের কাজ পরে পাচক হিসাবে যোগ দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ধীরেধীরে তার ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকে। যেখানে হাত দেয় সেখানেই সফলতা। এরপর পিছু ফেরা লাগেনি। তিনি কলকাতায় এম ভট্টাচার্য এন্ড কোং নামে কোম্পানী করে নানাবিধ ব্যবসা শুরু করেন সারা ভারত জুড়ে। এমনকি নিজ জেলা কুমিল্লা শহরেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েতুলেন এবং বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী হন।

এতো এতো টাকা বিলিয়েছেন সব তার নিজের আয়ের টাকা। তিনি মহেশ চন্দ্র নিজের আয়ের অর্ধেক অংশ কয়েক লাখ টাকা নিয়মিতভাবে বছরের পর বছর দান করে গেছেন। তিনি দানকার্য খুবই গোপনীয়তার সঙ্গে করতেন।

এখনো তার দানের কিছু প্রতিষ্ঠান যেমন, কুমিল্লায় ঈশ্বর পাঠশালা, দাতব্য চিকিৎসালয়,মায়ের নামে গড়ে তোলা রামমালা গ্রন্থাগার, রামমালা ছাত্রাবাস, নিবেদিতা ছাত্রীনিবাস ইত্যাদি আজও আলো ছড়িয়ে চলেছে সরকারি-বেসরকারি কোনো রকম সহায়তা ছাড়াই। তাঁরই প্রতিষ্ঠা করা ট্রাস্টির বর্তমান সদস্যরাই এ সবকিছুর তত্ত্বাবধান করেন। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের যাবতীয় খরচ বহন করে ট্রাস্ট।

দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া না করতে পারা এই ব্যক্তি বৈষয়িক উন্নতির চেয়ে জ্ঞানচর্চার উন্নতিকেই তিনি মানুষের মুক্তির প্রকৃত উপায় হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। তাই নিজের আয়ের অর্ধেক নিয়মিতভাবে তিনি দান করে গেছেন প্রজন্মের শিক্ষাবিস্তারের পেছনে। লাউর ফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কাইতলা হাইস্কুল, কসবার অবেক স্কুল এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উনার দানের পরিমান ছিল ব্যাপক। এছাড়াও বিটঘর রাধানাথ হাইস্কুলে বেশিরভাগ অনুদান দিয়েছেন তিনি তারপরও সেসময়কার জমিদার তার আত্মীয় রাধানাথ রায় চৌধুরীর নামানুসারে নামকরণ করেন।

নিজের এই দানের কথা কাউকে জানাতেন না তিনি। প্রচারবিমুখ এ মানুষটি মৃত্যুর কয়েক বছর আগেও উনার দানে প্রতিষ্ঠিত সকল ট্রাষ্টি বোর্ডের পরিচালকদের ডেকে নির্দেশ দিয়ে যান, উনার মৃত্যুর পরে উনার মৃত্যুবার্ষিকীতে যেন শোকসভা না করা হয়। তবে অনুসারী যারা তারা যেন ঘরে বসে আমার সদগতীর জন্য নীরবে প্রার্থনা করেন।


একজন মানুষ কতটা মহান হলে নিজের আয়ের লক্ষলক্ষ টাকা দাতব্য প্রতিষ্ঠান সমুহে ব্যায় করেন। শিক্ষার প্রসার বিস্তারে শতবছর আগে করা মহেশ চন্দ্র ভট্রাচার্যের দানকৃত অর্থে প্রতিষ্ঠিত সকল স্থাপনা গুলো কালের স্বাক্ষী হয়ে ঠায় দাড়িয়ে আছে। (চলবে)

এস এ রুবেল
সম্পাদক
নবীনগর টুয়েন্টি ফোর ডটকম

তথ্যসুত্র- উইকিপিডিয়া, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগৃহীত

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ড.আকবর আলী খান

১২ মে ২০১৬ | 6728 বার

আমরা তোমাদের ভুলবনা

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 5999 বার

তুষার আব্দুল্লাহ

২৬ এপ্রিল ২০১৬ | 2821 বার

‘শেষ ব্যক্তি শেষ বুলেট’

২৯ নভেম্বর ২০১৮ | 1322 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০