শিরোনাম

প্রচ্ছদ প্রবাসের পাতা, শিরোনাম, স্লাইডার

দেখে এলাম আরব সাগর

শাহাদাত হুসাইন | শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 2378 বার

দেখে এলাম আরব সাগর

জেদ্দা আরব সাগর দেখার ইচ্ছেটা অনেক দিনের। বেশ কবার জেদ্দায় গিয়েও সাগর পাড় যাওয়ার সময় হয়ে উঠেনী। প্রবল আগ্রহ থাকলেও স্বাধ আর সাধ্যের সমন্বয় হয়না। এবার ঈদের বন্ধ পেলাম নয় দিন। এত লম্বা ছুটি কখনো পাইনা। একটু বেশী ছুটি পেলে উমরা করতে চলে যায় মক্কায় কোরবানীর ঈদের বন্ধে তাও যাওয়া যায়না কারন হজ্বের সময় উমরা করতে যাওয়া নিষেধ হাজী সাহেবদের সুবিধার্তে।এত লম্বা ছুটি কোথায় যাওয়া যায়! রিয়াদ থেকে রাসেলও জাকির ভাই জানান দিলেন তারা এখন জেদ্দায় প্রিয় অলি ভাইয়ের বাসায়।জেদ্দার বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী অত্যন্ত সজ্জন প্রিয় মানুষ অলি ভাইও আস্ত গরুর ছবি দেখিয়ে বললেন এইটা এবার কোরবানী দিচ্ছেন। একদিকে অলি ভাইয়ের গরু খাওয়ার লোভ অন্যদিকে সাগড়ের আছরে পড়া ঢেউয়ের গর্জন যেন আমার কানে বেজে উঠলো। সবাইকে জানিয়ে দিলাম আমি আসছি সাগর পাড়ে আনন্দময় সময় কাটাতে।

ssss-copyমঙলবার সকাল নয়টায় প্রিয় নগরী মদীনা থেকে গাড়ীতে উঠলাম জেদ্দার উদ্দেশ্যে। মদীনা থেকে জেদ্দা চারশত কিলোমিটারের পথ। উইকিপিডিয়ার কল্যাণে আসুন জেদ্দা শহর সম্পর্কে একটু জেনে নেই।জেদ্দা বা জেদ্দাহ হল সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত তিহামাহ অঞ্চলেরএকটি গুরুত্বপূর্ন শহর। এটি মক্কা প্রদেশের সর্ববৃহৎ ও সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। লোহিত সাগরের উপর অবস্থিত সর্ববৃহৎ সমুদ্রবন্দর এই শহরেই অবস্থিত। ৪৩ লক্ষ জনসংখ্যা নিয়ে শহরটি সৌদি আরবের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
জেদ্দা হল মুসলিম উম্মাহর জন্য পবিত্রতম নগরী মক্কার প্রধান প্রবেশদ্বার। প্রত্যেক সক্ষম মুসলিমকে জীবনে অন্তত একবার মক্কায় হজ্ব পালন করতে যেতে হয়। মুসলিমদের জন্য দ্বিতীয় পবিত্রতম নগরী হল মদিনা। দেদ্দা মদিনা শহরেরও অন্যতম প্রবেশদ্বার।
অর্থনৈতীক ভাবে জেদ্দা সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সবচেয়ে বেশি অর্থ বিনিয়োগের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এছাড়া ২০০৯ সালের আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির মধ্যে উদ্ভাবনের শহর সূচক অনুযায়ী জেদ্দা চতুর্থ অবস্থান অর্জন করেছে।
দুপুরের খাবার খেলাম সবাই এক সাথে। আমাদের জাকির ভাইয়ের হাতের সু-স্বাধু রান্নার স্বাদ এখনো লেগে আছে জিহবায়।বিকেলে আমরা সবাই বের হলাম সাগর পাড়ের উদ্দেশ্যে । যেতে যেতেই সন্ধ্যা হয়ে গেল।
শাল্লাল পাকের্র পাশে গাড়ী রেখে আমরা সৈকতের পাড়ঘেঁষা পার্কে প্রবেশ করলাম।মাগরীবের নামাজ আদায় করলাম সৈকতের পাড়ে ।
নামাজের পর আমরা পার্কের ভেতর দিয়ে সৈকতের একদম পাড়ে চলে এলাম। পার্ক আর সৈকতের পাড়ে এসএস পাইপের বাউন্ডারি। সে বাউন্ডারি ধরে দাঁড়িয়ে আছে অনেক মানুষ। আর পার্কের ভেতর অসংখ্য মানুষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে আছে। কেউ চাদর বিছিয়ে, কেউ ঘাসের ওপর। অনেকেই এসেছেন পরিবারসহ। বাসা থেকে চা গাহওয়া (এরাবিয়ান কফি)বানিয়ে নিয়ে আসছেন। কেউ বসে হুক্কা টানছেন। বাচ্চারা কেউ ঘুড়ি উড়াচ্ছে, কেউ খেলছে বল।কিছু মানুষকে দেখলাম বরশি দিয়ে মাছ ধরছেন।
সৈকতঘেঁষা পার্ক, পার্কের পাশেই রাস্তা আর রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে বহুতল পাঁচতারকা হোটেলগুলো। পার্কে যারা বেড়াতে এসেছেন, তারা অধিকাংশ এসব হোটেলের অতিথি। সৈকতঘেঁষা এ পার্কটি চমৎকার। গাছের পাশাপাশি সুন্দর সুন্দর অনেক ভাস্কর্য আছে। আছে বসার স্থান ও রেস্টুরেন্ট। আমরা সৈকতের পাড় ধরে হাঁটছি। বিশাল জলরাশি মনে চায় জলে নেমে ভিজে উঠি কিন্তু সে সুযোগ নেই। ঢেউ ছুটে এসে তীরে আঘাত করে -উড়ে এসে বৃষ্টির মত ভিজিয়ে দেয়।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লোহিত সাগর সৈকতের রূপ দেখতে ভিড় করেন হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমিক মানুষ।অনেক দিনের প্রত্যাশা পুরন হওয়ায় শোকরিয়া আদায় করলাম মহান রব্বের আলহামদুল্লিাহ্।
দেখতে দেখতে রাত প্রায় ১০টা বেজে গেল। বড় ভাই মোসলেম উদ্দিন ( আমার ওয়াইফের মামাত ভাই)আমন্ত্রনে রাতের খাবারের জন্য হোটেলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম।
রাতের আলো আঁধারিতে তখনো রেলিংয়ের পাশে বসে সাগরের কাছাকাছি হাজারো পর্যটক পরিবার বসে আছেন, মুগ্ধ নয়নে দেখছেন আরব সাগরের অপরূপ রূপ। আমার রব্বের সৃষ্টিরাজি।
যেতে যেতে মনে পড়লো মরমী কবির একটি গানের কথা—‘আরব সাগর পাড়ি দেবো নাইকো আমার কড়ি। পানির সাথে লইয়া যাওরে আমার চোখের পানি… আমার সালাম পৌঁছে দিও মদীনার বাদশায়’ মনে বড় আশা ছিল যাবো মদীনায়।


লেখকঃ- শাহাদাত হুসাইন মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি, নবীনগর টুয়েন্টি ফোর ডট কম

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মধ্যপ্রাচ্যে মাহে রমজান

১২ জুন ২০১৬ | 2727 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১