শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগরে সেতুর অভাবে সাত গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1338 বার

নবীনগরে সেতুর অভাবে সাত গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

সেতুর অভাবে হাজার হাজার মানুষকে বছরের পর বছর ধরে চরম দুর্ভোগ ও কষ্টভোগ করতে হচ্ছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মিটার দীর্ঘ দুটি সেতুর অভাবে উপজেলা সদরের সাথে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের (উত্তরাঞ্চলের) সাতটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে বছরের পর বছর ধরে চরম দুর্ভোগ ও কষ্টভোগ করতে হচ্ছে। ওই দুটি সেতু নির্মাণে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে অদ্যাবধি সেতু দুটি নির্মিত হয়নি। ওই দুটি সেতু অবিলম্বে নির্মাণের জোর দাবি জানিয়ে সংশিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর দেওয়া আবেদনের অনুলিপি ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা সদরের উত্তর দিকে অবস্থিত নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেপুর ও নরসিংহপুরে তিতাসের একটি ছোট শাখা নদীর উপরে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মিটার দীর্ঘ দুটি সেতু পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেপুর, নরসিংহপুর, লাপাং, নবীপুর, চিত্রি, দরিলাপাং ও চরলাপাং এ সাত গ্রামের বাসিন্দাদেরকে প্রতিদিন উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে গিয়ে এক অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসি জানান, নবীনগর সদরের পশ্চিম পাড়ার শেষ মাথার (মালিক ভরসা মাজার সংলগ্ন ‘আলগা হাটি’) সঙ্গে পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেপুরের এবং সদরের গোপীনাথপুরের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নরসিংহপুরের মধ্যে তিতাস নদীতে এলাকাবাসি দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট দুটি সেতু নির্মাণের দাবি করে আসছিল। ইতিমধ্যে তিতাস নদীর ওই দুটি স্থলে যাতায়াতের জন্য পৌরসভার উদ্যোগে বহু আগেই পাকা সড়ক নির্মিত হলেও, সেতু দুটি এখনও নির্মিত না হওয়ায় সাত গ্রামের স্কুল কলেজের শিার্থীসহ সাধারণ মানুষকে দুটি বাঁশের সাকোর উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। এলাকারইউপি সদস্য মোহান মিয়া, প্রাক্তন ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়া, প্রাক্তন ইউপি মেম্বার হানিফ মিয়া ও লিটন মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, ‘দুটি সেতুর কারণে পশ্চিম ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম উপজেলা সদরের সঙ্গে অনেকটা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অতীব জনগুরুত্ব এ দুটি সেতু স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও নির্মিত না হওয়ায় এই ডিজিটাল যুগে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের সাত গ্রামের বাসিন্দাদের এখনও বাঁশের বড় বড় দুটি সাকোর উপর দিয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আমরা এলাকাবাসির পক্ষে বহুবার আবেদন করেও এর কোন প্রতিকার পাচ্ছিনা। তাই এ সরকারের আমলে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ করার জন্য সংসদ সদস্যসহ  সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’ সাকো সংলগ্ন ফতেপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুর রহমান কাজল ও ফতেপুর আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেনের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাসিম বলেন,‘সেতু না থাকায় বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছোট ছোট শিার্থীদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ বাঁশের সাকোর উপর দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটছে।’ আরিফ ও অলি বলেন, ‘বিগত মহাজোট সরকারের আমলে তৎকালীন সাংসদ জিকরুল আহমেদ জনগুরুত্বপূর্ণ এ দুটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে সংশিষ্ট মন্ত্রনালয়ে ডিও লেটার দিয়ে কাজটি এগিয়েও নিয়েছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেতু দুটি নির্মাণের উদ্যোগটিও ভেস্তে যায়। সাবেক সংসদ সদস্য শাহ জিকরুল আহমেদ বলেন, ‘সেতু দুটি এলাকাবাসীর জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আমি সংসদ  সদস্য থাকাকালে দুটি সেতু নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নিয়ে সব ঠিকঠাক করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা যায়নি।’ নবীনগরের পৌর মেয়র মাঈন উদ্দিন সম্প্রতি ওই এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানান, ‘এলাকাবাসীর অতীব প্রয়োজনীয় এ দুটি সেতুর বিষয়ে সংসদ সদস্য মহোদয় অবগত আছেন। বিষয়টি নিয়ে কাজও চলছে। আশা করছি, খুব সহসাই এলাকাবাসী সেতু দুটির বাস্তবায়ন দেখতে পাবেন।’


Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25653 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০