শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগরের আলোচিত সেই কাঠের ব্রীজের অস্তিত্ব কি দু’বছরেই হারিয়ে যাবে…

ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 363 বার

নবীনগরের আলোচিত সেই কাঠের ব্রীজের অস্তিত্ব কি দু’বছরেই হারিয়ে যাবে…

নবীনগর উপজেলার রছুল্লাবাদ ও সাতমোড়া ইউনিয়নের ৬ গ্রামের মানুষজনের বিভিন্ন স্থানে আসাযাওয়া করতে একমাত্র ভরসা ছিলো বাশের সাঁকো। রছুল্লাবাদের যমুনা খালের উপর নির্মিত বাশের সাঁকো দিয়েই স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ প্রতিদিন শতশত গ্রামবাসী জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করতো।

সাতমোড়া ইউনিয়নের বড় শিকানিকা, ছোট শিকানিকা,পদ্ধনগর,কাজেল্লা সহ রছুল্লাবাদ ইউনিয়নের রছুল্লাবাদ পুর্বপাড়া  ও দক্ষিনপাড়ার শতাধিক পরিবারের লোকজন প্রতিদিনের কৃষি কাজ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে একটি মাত্র বাশ দিয়ে তৈরী বাশের সাঁকোটি ছিলো ভরসা। এক্ষেত্রে কোমলমতি শিশু কিশোর, শিক্ষার্থী ও  বৃদ্ধরা ভোগান্তি পোহাতো বেশি। দুঃখজনক হলে এটাই সত্য, তিক্ত অভিজ্ঞতা ও অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ছাড়াও এ সাঁকো পাড় হতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রান হারিয়েছেন অনেকে।


দুই বছর আগেও এই সাঁকো দিয়ে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা চলাচল করতো

বছরের পর বছর এভাবেই আনডিজিটাল পদ্ধতিতে চলে আসার পর স্থানীয় রছুল্লাবাদ ইউ এ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় ফলে ২০১৮ সালের শুরুর দিকে এলজি’র অর্থায়নে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর যায়গায় নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন একটি কাঠের ব্রিজ। যেটি ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে যাতায়াতে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। সেসময়ে এ উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসা পায়।

স্থানীয় হাইস্কুলের ৯৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন কাঠের ব্রীজটি নির্মিত হয়।

নিরাপদ যাতায়াত ছাড়াও চোখে পড়ার মতো কাঠের ব্রীজটি নির্মাণের পর স্থানীয় বিনোদন প্রেমীদের কাছে স্থানটি অবসর বিকালের আড্ডাস্থল হয়ে উঠে। অনেকেই আবার ঘুরতে বের হন ব্রীজটিকে দেখতে।

দু:খজনক হলো, মাত্র দেড় বছরের মাথায় আকস্মিক এক দুর্ঘটনায় ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ে। গত বছরের ১৬ আগষ্ট খরমপুরে কেল্লা শাহর মাজার জিয়ারত করতে যাচ্ছিলো ইঞ্জিনচালিত একটা বড় নৌকা। চলন্ত অবস্থায় নৌকার সাথে কাঠের ব্রীজটির সজোরে ধাক্কা লাগলে ব্রীজটি ভেঙ্গে নৌকাটিকে তলিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিন সন্তানের জননী (হোমনা উপজেলার বাসিন্দা) ঘটনাস্থলে মারা যান। এরপর থেকে স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ তুলে জোড়াতালি দিয়েই কোনরকমভাবে টিকিয়ে রাখা হয়েছে কাঠের ব্রীজটিকে।

নগত বছর দুর্ঘটনাকবলীত নৌকা। এটির সাথে ধাক্কায় ব্রীজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এভাবেই চলেছে কয়েকদিন। সম্প্রতি জোয়ারের পানির তোড়ে আর কুচুরিপানার কারনে আবারো ধ্বসে পড়ে মাঝখান থেকে। স্থানীয়দের প্রশ্ন,এভাবে আর কতো….!

পেছনের দিকে তাকানো যাক, ২০১১ সালের দিকে স্থানীয় হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় সে সময়ের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এবিএম তাজুল ইসলাম তাজ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়াকালে তিনি দুই ইউনিয়নের মাঝামাঝি যমুনা খালের উপর সেতু নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যা’কিনা ৯ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি।

রছুল্লাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর বছর তিনেক আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি উক্ত পরিষদের আগেরবারের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে সেতু নির্মাণের লক্ষে সয়েল টেস্ট করে এস্টিমেন্ট এলজিইডি দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন। তিনি সেসময়ে আরো জানিয়েছিলেন, সেতু নির্মানের বিষয়টি বাস্তবায়ন পক্রিয়াধীন রয়েছে। খুব দ্রুত এর বাস্তবায়ন হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

আশায় আশায় কেটে গেলো তিন বছর! কাজের কাজ কিছুই হলোনা। তবুও দুই ইউনিয়নের কয়েক গ্রামের মানুষ অপেক্ষায় আছে অচিরেই তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। বলে রাখা ভালো চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারী এলজিইডি থেকে ইঞ্জিয়ার এসে দুই পাড়ের মাপজোক নিয়ে যায়।

ইঞ্জিনিয়ার সেতু নির্মাণের লক্ষে দুইপাড়ের মাপজোক নিচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলী আকবর জানান, পাকা সেতু নির্মাণের সবরকম প্রস্তুতি গ্রহণ করা আছে। বর্তমান করোন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কিছু বলা যাচ্ছেনা।

 

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25539 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০