শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগরের কৃতিসন্তান মরহুম প্রিন্সিপাল সাইদুর রহমানের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

| শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 291 বার

নবীনগরের কৃতিসন্তান মরহুম প্রিন্সিপাল সাইদুর রহমানের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

ব্রাহ্মনবাড়িয়ার কৃতিসন্তান মরহুম প্রিন্সিপাল সাইদুর রহমানের আজ ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিলো গতকাল। ১৯৮৭-র ২৮ আগস্ট ঢাকায় হলি ক্রিসেন্ট হসপিটালে নবীনগরের কৃতি সন্তান সাইদুর রহমান পরলোকগমন করেন।

১৯০৯ সালের ১৫ মে তৎকালীন কুমিল্লা জেলার নবীনগর থানার রসুল্লাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রিন্সিপ্যাল সাইদুর রহমান নামেই যিনি সর্বাধিক পরিচিত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন শাস্ত্রে বিএ অনার্স এবং এমএ উভয় পরীক্ষা ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হন। এরপর তিনি রাজশাহী কলেজ এবং কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে তাঁর বর্ণাঢ্যময় কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৪৭-এ দেশ বিভাগের পর বিভিন্ন কলেজসহ জগন্নাথ কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষকতা করেন। প্রতিষ্ঠা করেন তেজগাঁও মহিলা কলেজ ও বাংলাদেশ দর্শন সমিতি।


তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। প্রায়শ রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুরর রহমান গাড়ি পাঠিয়ে তাঁর প্রিয় শিক্ষককে অফিসে নিয়ে এসে গল্প করতেন।

প্রিন্সিপ্যাল সাইদুর রহমানের আরেকটি গৌরবময় ও মর্যাদার দিক হলো ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করা এবং তাঁর প্রগতিশীল কর্মকান্ডের জন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাঁকে মাওলানা ভাসানীর ‘এ্যান্টি স্টেট ব্রেইন ট্রাস্ট’ মনে করত।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও আন্দোলন ওই সময়ই শেষ হয়ে যায়নি। ছাত্রসমাজ সিদ্ধান্ত নেন যে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবরকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে এই আন্দোলনকে বেগবান করার।

প্রফেসর সাইদুর রহমান নিজ কলেজ থেকে একটি সাইক্লোস্টাইল মেশিন নিয়ে এসে বসান তাদের ৩৭ নম্বর বেচারাম দেউড়ির বাসায়। এ মেশিনের সাহায্যে ভাষা আন্দোলন বিষয়ে বান্ডেলের পর বান্ডেল লিফলেট, প্রচারপত্র তৈরি করে ছড়িয়ে দেয়া হয় ঢাকাসহ সারা দেশে। যা মাতৃভাষার আন্দোলনে ব্যাপক জনমত গঠনে সাহায্য করে। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদার আসনে বসাতে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যায় ছাত্রসমাজ। ফলশ্রুতিতে ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে পাকিস্তানের সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় উর্দুর সাথে।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তাই অতি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে সাইদুর রহমানের তখনকার ৩৭ নম্বর বেচারাম দেউড়ির বাসা। ভাষা আন্দোলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রম পরিচালিত হয় এ বাসা থেকে। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’ কবিতাটি আবদুল গাফফার চৌধুরী লিখেছেন এবাসা থেকে। আবদুল গাফফার চৌধুরীকে আহত অবস্থায় চার মাস সেবা করেন সাইদুর রহমানের সহধর্মিনী। ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনসহ অনেক নেতা হুলিয়া নিয়ে তখন আত্মগোপনে ছিলেন ওই বাসায়।

এক পরিবারে তিনজন ভাষাসৈনিক। পিতা, পুত্র ও পুত্রবধূ। তারা হলেন প্রফেসর সাইদুর রহমান,পুত্র শফিক রেহমান ও শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমান। সত্যি অনন্যসাধারণ ও অদ্বিতীয়।

প্রফেসর সাইদুর রহমানের স্ত্রী রওশন আরা রহমান ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তার প্রথম সন্তান শফিক রেহমান মৌচাকে ঢিল পত্রিকার সম্পাদক এবং বাংলাভিশনে প্রচারিত লাল গোলাপ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক। শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক সাইদুর রহমান মানুষের জন্য কাজ করতে ভালোবাসতেন। মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ও কথা বলতে পছন্দ করতেন। তিনি সব সময় নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দিতেন। তাই তিনি তার নাম Rahman-এর মধ্যে Man এবং তার ধর্মীয় পরিচয় Musalman-এর মধ্যে Man শব্দটিকে বড় করে লিখতেন এবং বলতেন ওটাই তার প্রকৃত পরিচয়। তার বন্ধু এবং স্বজনদের কাছে তিনি একজন রসিক এবং পরোপকারী ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত ছিলেন। সকল ধর্ম অনুসারীদের মধ্যে গোড়ামির বিরোধিতা এবং ধর্মনির্বিশেষে মানুষের সেবা তিনি করেছেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত। তার অগনিত ছাত্রের একজন হচ্ছেন দেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। সাইদুর রহমানের ইসলামী দর্শন বিষয়ে ইংরেজি বই ‘An Introduction to Islamic Culture and Philosophy’, ‘শতাব্দীর স্মৃতি’ নামে আত্মজীবনীমূলক বই এবং বিভিন্ন সময়ে লেখা তার কয়েকটি প্রবন্ধ নিয়ে ‘কল্যাণ দর্শন’ নামে বই রয়েছে। এই তিনটি বই-ই এখন দুষ্প্রাপ্য। স্বৈরাচারী শাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের আদেশে ছিয়াশির আগস্টে সাপ্তাহিক যায়যায়দিন দ্বিতীয়বার নিষিদ্ধ হয় এবং এর সম্পাদক শফিক রেহমানকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ৮৭-তে শফিক রেহমান দেশে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এয়ারপোর্ট থেকেই তিনি লন্ডন ফিরে যান। সে সময় এয়ারপোর্টে তার পিতা সাইদুর রহমান ছেলের সঙ্গে দেখা করেন।

উল্লেখ্য,প্রফেসর সাইদুর রহমানের বড়ভাই মাসুদ মাস্টার ( বাসু মাস্টার)এর ছোট ছেলে আবু তাহের, আবু তাহেরের ছোট ছেলে নাসির উদ্দীন বুলবুল। লেখাটি নাসির উদ্দিন বুলবুল এর ফেসবুক থেকে নেয়া।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25538 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০