শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগরের দুই গুণী সঙ্গীতজ্ঞকে আজ সংবর্ধনা দেয়া হবে

ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ১১ মে ২০১৮ | পড়া হয়েছে 1189 বার

নবীনগরের দুই গুণী সঙ্গীতজ্ঞকে আজ সংবর্ধনা দেয়া হবে

নবীনগরের শিবপুর গ্রামের দুই সংগীত ব্যক্তিত্ব ওস্তাদ মতিউল হক খান ও সুরকার শেখ সাদী খান সম্প্রতি একুশে পদকে ভুষিত হওয়ায় এ দুই গুণীজনের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খা স্মৃতি ফাউন্ডেশন।

আজ শুক্রবার বেলা ১১ টায় রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ দুই সংগীতজ্ঞকে সংবর্ধনা দিবে ওই ফাউন্ডেশন।
উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সুরসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক কামাল হোসেন মাহমুদের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মোরাদ।
এছাড়াও সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নবীনগরের সাবেক সাংসদ শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন।
উপস্থিত থাকবেন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল।


সংক্ষিপ্ত পরিচিতি-
যন্ত্রসংগীত : ওস্তাদ মতিউল হক খান
ওস্তাদ মতিউল হক খান ১৯৩৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সেতার বাদক ওস্তাদ এরশাদ আলী খান। মতিউল হক খান আট বছর বয়সে পিতামহ ওস্তাদ মকসুদ আলী খানের কাছে তবলায় হাতেখড়ি গ্রহণ করেন। দাদার মৃত্যুর পর পিতা এরশাদ আলী খানের কাছে সেতারে তামিল নিতে শুরু করেন। এরশাদ আলী খান শুরুতে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুরসাধক এবং সুরবাহার শিল্পী ওস্তাদ আয়েত আলী খানের কাছে তালিম গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ঐতিহাসিক তানসেন ঘরানার প্রখ্যাত সেতার শিল্পী ওস্তাদ এনায়েত খানের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। খান সাহেবের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন রাজদরবারে সেতার পরিবেশন করেছেন। পিতার কাছে মতিউল হক খান দীর্ঘ বারো বছর সঙ্গীত শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি কোলকাতায় ‘আলী আকবর কলেজ অব মিউজিক’ এর চার বছরের কোর্স শেষ করেন। কোলকাতায় থাকাকালীন তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দুই শিল্পী ওস্তাদ আলী আকবর খান এবং ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খানের সান্নিধ্যে আসেন এবং তাদের কাছে তালিম গ্রহণ করেন। পরে ওস্তাদ আলী আকবর খানের কাছেও তিনি কিছুদিন সঙ্গীত শিক্ষা করেছেন।

সংগীত শিক্ষা শেষে মতিউল হক খান সংগীতকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং উচ্চাঙ্গ সংগীতের সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। কোলকাতায় থাকাকালীন ওস্তাদ আলী আকবর খানের সংগীত পরিচালনায় সত্যজিত রায় পরিচালিত ‘দেবী’ এবং তপন সিংহ পরিচালিত ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ চলচ্চিত্রে আবহ সংগীতে সেতার বাজিয়েছেন।

ষাটের দশকের শুরুতে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ‘বুলবুল ললিতকলা’ একাডেমী’তে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে নৃত্যশিল্পী গওহর জামিল প্রতিষ্ঠিত জাগো আর্ট সেন্টারে ১৯৯৫ সালে শিক্ষকতা করেন। এছাড়া দীর্ঘদিন তিনি বাংলাদেশ বেতারের নিজস্ব শিল্পী এবং সংগীত প্রযোজক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বেতারের সংগীত প্রযোজক পদ থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিশেষ মানের তালিকাভুক্ত উচ্চাঙ্গ সংগীত শিল্পী। এর বাইরে অসংখ্য সঙ্গীত সম্মেলন এবং উচ্চাঙ্গ সংগীতের আসরে তিনি সংগীত পরিবেশন করেছেন। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কোলকাতার কলেজ স্ট্রীটে অনুষ্ঠিত বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওস্তাদ আলী আহমেদ খান, ওস্তাদ আলী আকবর খান, পন্ডিত রবি শঙ্কর, পন্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, ওস্তাদ আমীর খান, ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান, ওস্তাদ আল্লারাখা খান, ওস্তাদ বিলায়েত খান প্রমুখ সঙ্গীত গুণীজন।

ওস্তাদ মতিউল হক খান সরকারী ও বেসকারী উদ্যোগে সংগীত পরিবেশনের জন্য এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। বি.বি.সি লন্ডন স্টুডিও থেকে তিনি সেতার পরিবেশন করেছেন। ওস্তাদ মতিউল হক খান একজন সফল সংগীত শিক্ষক। দীর্ঘদিনের পেশাগত সঙ্গীত জীবনে তিনি বহু ছাত্রছাত্রীকে তালিম দিয়েছেন। শুধু দেশে নয় বিদেশেও তার ছাত্রছাত্রী রয়েছে। জাপানী ছাত্রী মতয়া এবং ব্রিটিশ ছাত্রী শার্লি সাফল্যের সঙ্গে তার সংগীত শিক্ষাকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরেছেন। তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ‘মেন্টর ফেলোশিপ ইন মিউজিক’ শীর্ষক প্রকল্পে সেতার শিক্ষক হিসেবে ১ ডিসেম্বর ১৯৯৬ পর্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ পর্যন্ত তার দু’টি অ্যালবাম প্রাকশিত হয়েছে। প্রথমটি ক্যাসেট। এতে তিনি অর্কেস্ট্রেশনের সঙ্গে সেতার পরিবেশন করেছেন। দ্বিতীয়টি সিডি। এতে তিনি সেতারে উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং ধুন পরিবেশন করেছেন।

বৈবাহিক সূত্রে মতিউল হক খান বিশিষ্ট সংগীত পরিবার ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান এবং ওস্তাদ আয়েত আলী খানের ভ্রাতুস্পুত্র বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ সেতারশিল্পী ওস্তাদ খাদেম হোসেন খানের কন্যা জোহরা খানমের সঙ্গে বিয়ে হয়।
সংগীত এবং সুরের সান্নিধ্যে তিনি বর্তমান অতিবাহিত করছেন।

##
শেখ সাদী খান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুর গ্রামের এক সঙ্গীত সমৃদ্ধশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা উপমহাদেশের বিখ্যাত সুর সাধক ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ। সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ তার জ্যাঠা। প্রথম সঙ্গীতের তালিম নেন বাবার কাছ থেকে। তার বাবার কাছ থেকেই তবলা ও তারপর বেহালা শেখেন। তার শৈশব কাটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশুনার শুরু। ঢাকার ধানমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাশ করেন। এরপর আইমিউজ ও বিমিউজ করেন ঢাকা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় থেকে। ১৯৬৩ সালে মেজভাই সরোদ বাদক ওস্তাদ বাহাদুর খানের সাথে ভারতে যান বেহালায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শেখার জন্য। তিন বছর তার অধীনে তালিম নিয়ে ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
১৯৬৫ সালে রেডিও পাকিস্তানে বেহালা বাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে বেহালা বাদক হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্ত হন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের সঙ্গে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশ বেতারে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৭ সালের মার্চে প্রধান সঙ্গীত প্রযোজক হিসেবে বাংলাদেশ বেতার থেকে অবসর নেন।

শেখ সাদী খান সত্তরের দশকে সঙ্গীত পরিচালক খন্দকার নুরুল আলমের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। ১৯৭৭ সালে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সারাদেশে খ্যাতি লাভ করেন।
প্রথম চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করার সুযোগ পান ১৯৮০ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত এখনই সময় চলচ্চিত্রে। এ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার পান।
১৯৮৫ সালে তার সঙ্গীত পরিচালনায় সুখের সন্ধানে চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মান্না দে।
এছাড়া তিনি আশা ভোঁসলে, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর, রুনা লায়লা সহ দেশী বিদেশী অনেক শিল্পীর সাথে কাজ করেন।

Facebook Comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভালো নেই : আকবর আলি খান

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | 7009 বার

স্বর্ণের দাম কমেছে

২৯ মে ২০১৬ | 3743 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮