শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

এসিল্যান্ডের অভিযানে দুইটি ড্রেজার আগুনে ধ্বংস

নবীনগরে ফসলি জমি নষ্ট করে অবাধে বালি উত্তোলন

ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 781 বার

নবীনগরে ফসলি জমি নষ্ট করে অবাধে বালি উত্তোলন

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি নষ্ট করে অবাধে উত্তোলন করা হচ্ছে বালি। অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে প্রকাশ্যে এমন অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার খেশারত দিচ্ছে সাধারণ কৃষক। দেরিতে হলেও সাধারণ কৃষকের ফসলি জমি রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন কঠোর ভুমিকা নিয়েছে।

অবৈধ ড্রেজার সহ এর বালি উত্তোলনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে এসিল্যান্ডের আকস্মিক অভিযানে বালি উত্তোলনের সময় জিনোদপুর ইউনিয়ন এলাকার দুইটি ড্রেজার আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।


খোজ নিয়ে জানা যায়,বিভিন্ন সময়ে নদী, নালা, খাল, বিল থেকে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালি উত্তোলন করতো একটি চক্র। সম্প্রতি ভূমিখেকো চক্রের সদস্যরা কৌশল পাল্টিয়ে জমিকে বেছে নিয়েছে। তারা প্রথমে অল্প পরিসরে গ্রামাঞ্চলের ফসলি জমি কেনে। পরে ড্রেজার ইঞ্জিনের মাধ্যমে গভীর গর্ত করে বালি উত্তোলন শুরু করে। এক পর্যায়ে পাশের জমিটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রভাবশালীরা, নিরীহ কৃষকদেরকে মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে অল্প দামে জমিগুলো কিনে বালি উত্তোলন করছে। ফলে ফসলি জমিগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গভীর খাদে পরিণত হচ্ছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামের মানুষ।

নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে ফসলি জমির মাটি উত্তোলন করতে দেখা যায়। এতে করে ফসলি জমি নষ্ট সহ পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নতুন শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো.মুসলেম উদ্দিন তার বাড়ির পাশের একাটি ফসলি জমিতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে প্রায় ৩০-৪০ ফিট গভীর করে মাটি উত্তলন করে আরেকটি ফসলি জমি ভরাট করছে। ড্রেজিংয়ের ফলে পাশে থাকা ফসলি জমিগুলিও নষ্ট হচ্ছে। ফসলি জমির শ্রেণী পরিবর্তনের অনুমোদন না করেই এমন করে এলাকার বিভিন্ন স্থানে চলছে এমন অসংখ্য খনন কাজ। উক্ত বিষয়ে মো. মুসলেম উদ্দিন কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, আমার জমি আমি খনন ও ভরাট করছি এ নিয়ে আমি কাকে কি জিজ্ঞেস করব। পার্শ্ববর্তী ফসলি জমির মালিক হান্নান মিয়া ও কিবরিয়া আক্ষেপ করে বলেন,আমার জমি নষ্ট হইতাছে এইডা আমি কারে কমু,কেডা আমার কথা শুনব।
এছাড়াও রছুৃল্লাবাদ,কালঘড়া,দাল্লা,গোপালপুর গ্রাম গুলির পাশ্ববর্তী ফসলি মাঠে অসংখ্য মাটি কাটার ড্রেজার দেখা যায়। উপজলার রসুল্লাবাদ গ্রামের ড্রেজার মালিক বাছির মিয়া জানান,আমাদের কতা থানা-পুলিশ সবাই জানে। ড্রেজার আজকা চালাই না,গত চার বছর ধইরা চালাই। হুদা আমি একলা ড্রেজার চালাই না,এলাকার অনেকেই চালায়।
এসময় তার দেওয়া তথ্য মতে, উপজেলার যশাতুয়া গ্রামের ছাদির মিয়া ও ইব্রাহিমপুর গ্রামের সাদেক মিয়া নাম বলেন সে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম বলেন, ড্রেজিং করে ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি উত্তলনের বিষয়টি সম্পুর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে সরজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রুনায়েদ আমিন রেজা জানান, ফসলি জমির উপর ড্রেজিংয়ের বিষয়টি সম্পুন্ন অবৈধ। ফসলি জমি খননের ছাড়পত্র আমরা দেইনা।এছাড়াও নবীনগর উপজেলা জিনোদপুর এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলন করে ফসলি জমির ক্ষতি করে আসছে একটি মহল। এর সূত্র ধরে মঙ্গলবার (২১/১)বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ লংঘন করে অবৈধভাবে কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলন করার অভিযোগে দুইটি ড্রেজার আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করেছেন নবীনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হাসান। তবে অভিযান চলাকালীন সময় ঘটনাস্থলে অভিযুক্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি। কৃষিজমি রক্ষার জন্য এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 26293 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০