শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম

নবীনগরে বীর বিক্রম আবদুল মান্নানের সমাধী স্থানান্তরিত হয়নি ৫০ বছরেও -এ দায় কার

ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২০ | পড়া হয়েছে 213 বার

নবীনগরে বীর বিক্রম আবদুল মান্নানের সমাধী স্থানান্তরিত হয়নি ৫০ বছরেও -এ দায় কার

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও দেশের সূর্য সন্তানদের একজন বীর বিক্রমের সমাধি স্থানান্তরিত করার কোন উদ্যোগ নেই।
অযত্ন আর অবহেলায় আবদুল মান্নানের মরদেহ চট্রগ্রামের রাউজান থেকে নিজ জন্মভূমিতে নবীনগরে স্থানান্তর কেন হয়নি এ প্রশ্ন এখন অনেকের! যেখানে জাতি হিসাবে আমরা মুক্তিযোদ্ধা বা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি প্রাপ্ত শহিদদের সর্বোচ্চ সম্মান দেই সেখানে সমাধি স্থানান্তর বিষয়টি একজন বীরের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার ঘাটতি ও মূল্যায়নে গাফিলতির প্রকাশ ঘটায়।

পুলিশ কনস্টেবল আবদুল মান্নান বীরত্বের কারনে সমগ্র পুলিশের সুনাম বেড়েছে। দীর্ঘ ৫০ বছরেও অতটা সময়ের মধ্যে একজন বীর বিক্রমের সমাধীস্থল নিজ এলাকায় স্থানান্তরিত না হওয়াটা জাতি হিসাবে আমরাও লজ্জিত কিনা প্রশ্ন থেকে যায়।


দেশের তরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়ে পুলিশের সদস্য আবদুল মান্নান যুদ্ধ স্থল এলাকায় সমাহিত আছেন সেই একাত্তর থেকে। গাছগাছালি পরিবেষ্টিত ঝোপের ভেতর অযত্ন আর অবহেলার পড়ে আছে বীর বিক্রম আবদুল মান্নানের সমাধীস্থল। একি একজন বীরের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার ঘাটতি নয়!

….বিষয়টি অনুধাবন করে বীর বিক্রমের সমাধীস্থলে নিজ পুন্যভুমিতে স্থানান্তরিত করতে প্রানপন চেষ্টা চালাচ্ছেন নবীনগরের তিন স্বপ্নবাজ তরুণ। চলতি প্রজন্মের অনেকেই জানেনা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস,জানেনা একজন বীরের বিশেষ বিশেষ দিনগুলো কত তারিখ। পালন করা হয়না কোন স্বরণ সভা কিংবা দোয়া মাহফিল, তাদের সম্মানার্থে কোন স্মৃতি চিহ্ন কিংবা কোন স্থানসমুহে নামকরণে নেয়া হয়নি জোরালো ভুমিকা। এভাবেই একসময় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অস্তিত্বের হিসেব-নিকেশে বেগ পোহাতে হবে।

৩ জন তরুণদের একজন এম এস কে মাহাবুব তিনি কি ভাবছেন,তার লেখাতেই দেখুন(ভিডিও)

এ দায় কার??

এমএসকে মাহাবুব

আমরা বর্তমান প্রজন্ম নিজের চোখে মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েই একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। চোখে অদেখা ছিল সাধারণ বাঙালির ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন শোষণ নির্যাতন। এরপর ঐক্যবদ্ধ মুক্তিকামী বাঙালির বলিষ্ঠ প্রতিবাদ আর জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া, ফলাফলে প্রিয় মাতৃভূমিকে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা করা। আজ হয়তো মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কাছে কেবলই একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র! মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দিবসগুলো দায়সারা ভাবে বা কোনো একভাবে পালন করেই যেন এই দেশে জন্মাবার দায় এড়াতে চাই।

না হয় স্বাধীনতার ৪৯ টি বছর অতিবাহিত হলেও আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলাবাসী জানতেই পারলাম না, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ সম্মুখ যুদ্ধে ৭ই অক্টোবর শহীদ হয়েছেন নবীনগর নোয়াগ্রামের সূর্য সন্তান কনস্টেবল আবদুল মান্নান। যার কবর এখনো অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে সুদুর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার আবুরখীল গ্রামের গহীন অরন্যে। যিনি বাংলাদেশ পুলিশের মাত্র ৬ জন খেতাবপ্রাপ্তের অন্যতম শীর্ষ অবস্থানের বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত। ৫ দশক পর আজ জেনেও অনেকে উনার শাহাদাত বার্ষিকীকে উপলক্ষে সামান্য স্মরণ বা সম্মান করতেও কেউ সময় পাচ্ছি না।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার হলো এই অবস্থা!
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আমাদের কাছে পৌঁছায়নি বলেই আমাদের পূর্বসূরিদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা আমাদের নাড়া দেয় না, আমাদের মহান বিজয় আমাদের সত্যিকার অর্থে উল্লসিত করে না, উজ্জীবিত করে না। শুধু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসই নয়, আমাদের নবীন প্রজন্মদের অনেকেই জানে না আমাদের নিজ এলাকার বীরত্বের খেতাবপ্রাপ্ত বীর সেনানী কারা? কি তাদের ইতিহাস।
এ দায় কার???

তার আরেকটিলেখা

শহীদ আবদুল মান্নান বীরবিক্রম
হোক নবীনগরের আদর্শিক প্রেরণা।

যুগ যুগ ধরে যারা বীরত্ব দেখিয়েছেন তারাই জনসাধারণের ভালোবাসার স্বরূপ উপাধি পেয়েছেন। ইতিহাসে দেখা যায়, মোগল সাম্রাজ্যের শক্তিশালী শাসক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর ‘মহান শাসক’ হিসেবে মানুষের কাছ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন। মহাবীর টিপু সুলতান “শের-এ-মহীশুর” উপাধি পেয়েছেন। কৃষকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে রাজনীতিতে সাহসী ভূমিকার জন্য একেএম ফজলুল হকের সঙ্গে শের-এ-বাংলা’ উপাধি যোগ হয়েছে। মাওলানা আবদুল হামিদ খান বিখ্যাত ভাসান চরে জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে ‘ভাসানী’ নাম পেয়েছেন, মাওলানা আব্দুর রশিদ ছোটবেলা থেকে যুক্তিসঙ্গত তর্ক করে এবং বিভিন্ন তর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়ে ‘তর্কবাগীশ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ১৯৬৯ সাল থেকে ‘বঙ্গবন্ধুু উপাধি পেয়েছেন ।
এতগুলো উদাহরণ উল্লেখের কারণ হলো মুক্তিযুদ্ধের পরে যারা নিজের জীবনের পরোয়া না করে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং যারা জীবিত ছিলেন তাদের যুদ্ধত্তোর কয়েকটি খেতাবে ভূষিত করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরবময় ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সরকার চার ক্যাটাগরিতে খেতাব বা বীরত্ব পদক দেয়।
শহীদ আবদুল মান্নান বীরবিক্রম এমনি এক বীরত্বের সূর্য সন্তান।

শহীদ আবদুল মান্নানের বীরত্ব বন্দুক বা কামান দিয়ে ছিল না ছিল প্রচন্ড সাহস। সবার আগে মান্নান,সবার সেরা মান্নান, ভয় মান্নানের জীবন অভিধানে ছিল না। মৃত্যুর আগেও সহযোদ্ধাসহ গ্রামবাসীকে ধমকের গলায় বলেছিলেন আমাকে দেখার কি আছে যাও যুদ্ধে যাও,পাকিস্তানি হানাদারদের খতম করো…
তাইতো সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন সুলতান মাহমুদ হাজার জনের মধ্যে বেছে নিয়েছিলেন কনস্টেবল আবদুল মান্নানকেই, চট্টগ্রামের হালদা নদীর পশ্চিম তীরে মদুনাঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এই মদুনাঘাট অপারেশনে সেক্টর কমান্ডার সুলতান মাহমুদ আবদুল মান্নানের কাছে মূল আগ্নেয়াস্ত্র আর এল রকেট লাঞ্চার তুলে দিয়েছিলেন। অপারেশনের নেতৃত্ব দিয়ে সর্বপ্রথম আবদুল মান্নান আর কমান্ডার সুলতান মাহমুদ পাকিস্তানি হানাদারদের এরিয়ায় ঢুকে পড়েন কয়েকজন হানাদারকে হত্যা করেন আর আবদুল মান্নান হাতে থাকা রকেট লাঞ্চার নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানে- তিনটি মধ্যে দুটি ট্টান্সফরমার পুরোপুরি ধ্বংস করে দেন। বৃষ্টির মতো গুলাগুলি শুরু হলে প্রায় এক ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধ স্থায়ী হয় হটাৎ একটি গুলিতে আবদুল মান্নানের নাড়িভুড়ি বের হয়ে যায়, আহতবস্থায় খুব ভোরে আবুরখীল গ্রামের ডাঃ পরেশ বড়ুয়ার বাড়ীতে আত্মগোপনে থাকা ডাঃ রেনুকার তত্ত্বাবধানে আপ্রাণ চেষ্টা করেও মান্নানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রক্তের গ্রুপ না জানায় – অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঐদিন দুপুরেই (৭ই অক্টোবর) আবদুল মান্নান শাহাদাত বরন করেন।

আবুরখীল গ্রামের উত্তর ঢাহাখালির পাড়ে তাকে দাফন করা হয়।
ক্যাপ্টেন সুলতান মাহমুদ সহ মুক্তিযোদ্ধা যীশু বড়ুয়া, কিরন লাল আচার্য, ইউসুফ খাঁন,পরিতোষ বড়ুয়া হাটহাজারীর মহসিন দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন।

মদুনাঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র অপারেশন মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শহীদ আবদুল মান্নান ও কমান্ডার ক্যাপ্টেন সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে এ অপারেশন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফলতম যুদ্ধ।

গত মাসে কথায় কথায় একজনের সাথে নিজ উপজেলায় ১৪ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার কথা শুনে খুব অবাকই হই, ১৪ জনকে সার্চ করতে করতে গিয়ে আবিষ্কার করি কনস্টেবল আবদুল মান্নানকে উনার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে। চমকপ্রদ তথ্য পেয়ে যাই – বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত ৬ জনের শীর্ষনাম শহীদ আবদুল মান্নান, পুলিশ বাহিনীর মধ্যে উপজেলা নবীনগরে এত বড় অর্জনের বীরত্বের সূর্য সন্তান! অথচ উপজেলার পুলিশ কর্মকর্তা যারা – কেহই ঘুনাক্ষরে তা জানে না। শহীদ আবদুল মান্নানের বীরত্বের কাহিনী পেয়ে যাই স্বয়ং সেক্টর কমান্ডার সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদের লেখায়,আরও অবাক ই হই, এরপর খোঁজ করি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার আবুরখীল গ্রামে শহীদ আবদুল মান্নানের কবর সন্ধানে…ওয়ার্ড মেম্বার,চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলি, এবার অবাকের সহিত বিস্মিত হতবাক হবার পালা, বীরবিক্রমের কবর গহীন অরন্যে অযত্নে অবহেলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে, সরকারি বেসরকারি কোন উদ্যোগ নেই। নেই কারু কোন দায়..

যাঁরা যুদ্ধে গিয়েছিলেন তাদের সবাইকে আমরা চিনি না। চেনার কথাও নয়। কিন্তু যাঁরা বীরত্বে ইতিহাস হয়ে উঠেছেন তাঁদের না চেনার উপায় কি আছে স্বাধীন বাংলাদেশে ?

একাত্তরের বিজয় ও যুদ্ধকালীন হিরো শহীদ আবদুল মান্নান বীরবিক্রম। অথচ স্বাধীনতার পাঁচ শতক পরেও উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে আমি এম,এস,কে মাহবুব জানিনা এই বীরবিক্রমের কিছুই,শুনিনি একবারও এই শহীদ আবদুল মান্নানের নাম।

পৈতৃক নিবাস, মুক্তিযুদ্ধের দলিল দস্তাবেজ, মুক্তিযুদ্ধের লেখা যত বই, পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, চট্টগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জীবিত সহযোদ্ধা, আবুরখীল গ্রাম ইত্যাদি সার্চ করে যাবতীয় তথ্য উপাত্ত নিয়ে শুরু করে দেই শহীদ আবদুল মান্নান বীরবিক্রম নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন,
পাশে পেয়েছি রসুল্লাবাদের আবৃত্তিকার Pradip Acharjeeও নবীনগর সদর টি & টি রোডের স্বনামধন্য লেখক Mahabub Morshed কে।
এরই মধ্যে অনেকটা ফেরেস্তার মতোই আবির্ভাব যেন থোলাকান্দির মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা Bellal Hossain ভাই, আশীর্বাদ স্বরুপ পেয়েছি রতনপুর ইউনিয়নের আরেক কর্মবীর খলিল স্যারকে, নাসিরাবাদ গ্রামের এডিঃ ডিআইজি Habibur Rahman Khan, ধনাশী গ্রামের পুলিশ সুপার Masum Ahmed Bhuiyan, মহেশপুরের এডিঃ এসপি মোজাম্মেল ভাই সহ সবাই আমার শহীদ আবদুল মান্নানের কবর স্থানান্তরিত করা সহ ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে, স্বপ্রনোদিত হয়ে উদ্যোগী হয়েছে। উপজেলার রাজনৈতিক প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ও ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে, পরিশেষে আমাদের জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব মোহাম্মাদ এবাদুল করিম মহোদয় দেশের বাইরে থেকে এসেই এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে স্মৃতিসৌধ স্থাপনের জায়গা (নোয়াগ্রাম) মাটি ভরাটের জন্য দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা টাকা প্রকল্পের মাধ্যমে বরাদ্ধ ঘোষনা দিয়েছেন,
সবমিলিয়ে কেন জানি মনে হচ্ছে ৫০ বছর আগের ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ রুপান্তরিত হয়ে ২০২০ এসে- উপজেলা নবীনগরে বিজয় নিশান ওড়াবে।
আর শহীদ আবদুল মান্নান বীরবিক্রমের কবর নিজ পৈতৃক নিবাস নবীনগরে আগমনে যেন মুক্তিযুদ্ধের নতুন চেতনায় নতুন সূর্য, নতুন প্রজন্ম, একটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আদর্শের এক নতুন নবীনগর যেন আমাদের সবাইকে হাতছানি দিচ্ছে।

এম,এস,কে মাহবুব
০১৭১১৩৪১৭১৩
নবীনগর।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25604 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১