শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগরে যৌন নিপীড়নের অভিযুক্ত দুই শিক্ষক পদত্যাগ করলেও এখনো গ্রেফতার হননি

ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | পড়া হয়েছে 360 বার

নবীনগরে যৌন নিপীড়নের অভিযুক্ত দুই শিক্ষক পদত্যাগ করলেও এখনো গ্রেফতার হননি

নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন নিপীড়ন মামলার প্রায় ১০দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। অভিযোগ পাওয়া গেছে,ওই দুই শিক্ষককে বাঁচাতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা । প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার দোহাই দিয়ে তাদের শুধুই পদত্যাগ করিয়েই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্ঠা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

যৌননিপিড়নের মূল নায়ক মামলার ১নং আসামী ওই স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার দাসের (৪০) বিরুদ্ধে আগেও অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা গনমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্র জানায়। ২নং আসামী প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম(৫৫)তা জেনেও তিনি  সেসময়ে কোন প্রতিকার করেননি।


২০১৩ সালে প্রদিপ দাস এ স্কুলে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে প্রার্থী ছিলেন। জনসাধারনের আপত্তিতে তৎকালিন ম্যানেজিং কমিটি স্কুলের ছাত্রীদের নিরাপত্তা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে নিয়োগ দেয়নি। এরপরেও বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির প্রভাবশালী কতিপয় সদস্য সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৭ সালে তাকেই ওই পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।

জনশ্রুতি রয়েছে, ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে প্রদিপ ইতিমধ্যে বিশেষ সুবিধা দিয়ে ম্যানেজিং কমিটিসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে ম্যানেজিং কমিটি গত ১৪জুন স্কুল মিলনায়তনে স্থানীয়দের নিয়ে এক পরামর্শ সভা ডেকে গ্রেফতারের বিষয়টি চেপে গিয়ে পদত্যাগও একটা শাস্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তাদের বাঁচিয়ে দেওয়ার জোর চেষ্ঠা চালানো হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাংসদ, এবাদুল করিম বুলবুল। সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহেল। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ওই শিক্ষকদের পদত্যাগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মানবিক দিক থেকে বিবেচনারও অনুরোধ জানান। দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষক ছাত্রীদের উপর যৌন নিপিড়ন চালিয়ে আসছিল। যৌন নিপিড়িত ছাত্রীদের অভিভাবকরা স্থানীয় ভাবে লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন মুখ খোলেননি।

ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যৌননিপিড়নের ঘটনা গণমাধ্যমে দেখে ওই স্কুলের যৌননিপিড়নের শিকার ছাত্রীরা ফুঁসে উঠে। গত ৭ জুন নিপিড়নের শিকার ফুঁসে উঠা ৩০/৩৫জন ছাত্রীদের একটি দল তাদের অভিভাবকদের নিয়ে মিছিল সহকারে স্থানীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুলের বাড়িতে গিয়ে সাংসদের কাছে ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী জানায়। সাংসদ থানার অফিসার ইনচার্জকে মামলার রজুর নির্দেশ দেন।যৌন হয়রানীর শিকার এক ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে গত ৮জুন মামলা করেন, এরপর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন।

তথ্য অনুসন্ধানকালে কথা হচ্ছিল,মো. রবিউল্লাহ্ ,মোহাম্মদ শাহ্জালাল, মো.মোর্শেদ আলম, আলাউদ্দিন সোহাগ, মো.মাইনুদ্দিন মইন, পল্লব, রমা চন্দ্র দেব ও তার এসব অপকর্মের প্রতক্ষ্যদশীসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে। তাঁদের বক্তব্যে তার অপকর্মের এসব দৃশ্যপট উঠে আসে। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহেল বলেন, অভিযুক্ত দুজনই অপরাধ করেছেন কি করেনি, সমস্ত অপরাধ মাথায় নিয়েই তারা পদত্যাগ করেছেন,আইনি প্রক্রিয়াও চলমান,আপনারা বিবেকবান মানুষ,তারাও মানুষ,আমি অনুরোধ করবো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ,ইলেকট্রন্সিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিষয়টা নিয়ে যেন আর লেখালেখী না হয়।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 26252 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১