শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগর পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ

মোস্তাক আহাম্মদ উজ্জ্বল | শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭ | পড়া হয়েছে 2308 বার

নবীনগর পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ

নবীনগর পৌরসভার প্রধান সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পৌরবাসি। দীর্ঘদিন ধরে নবীনগর সদরের প্রবেশমুখে এই আবর্জনার কারণে এলাকাবাসির যেন দুর্ভোগের শেষ নেই। আবর্জনার বিষাক্ত বর্জ গিয়ে মিশছে তিতাস নদীতে।

গত ১৫ বছর ধরে ৭ ওয়ার্ডের পৌর কর্তৃপক্ষ এভাবে প্রকাশ্যে আবর্জনা ফেলছে। পৌর কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতাকে দোষারূপ করছে পৌরবাসি। এতে সীমাহীন জনদুর্ভোগের পরও উপজেলা প্রসাশন ও সচেতন নাগরিকরা রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছেন। বৃষ্টির সময় আবর্জনার পঁচা পানি পথচারীদের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দেয়। এতে দুগন্ধের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। ফলে এই পথে চলাচলই কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজারের মাছ, মুরগির পঁচা নাড়িভুড়ি, নষ্ট সবজি, বাসাবাড়ির সবধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এখানে। এতে যাত্রী সাধারণ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পথ চলা দায়।


দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ নবীনগর সদরের মাঝিকাড়া ব্রিজের পূর্বপাশে তিতাস পাড়ে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ পৌরবাসি। নবীনগর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নবীনগর পৌরসভা খ শ্রেণি থেকে বর্তমানে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এখনও যথাযথ উন্নয়নে পৌছাতে পারেনি নবীনগর পৌর কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সালে নবীনগর পৌর এলাকার কনিকাড়া ব্রিজ সংলগ্ন ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ৩৬৫ শতক জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এবিষয়ে নবীনগর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রামিম পাঠান বলেন, “আবর্জনার স্তুপের জন্য আমার গুদামে নৌকা থেকে মালামাল উঠানামা করার একমাত্র ঘাটটিতে দুর্গন্ধে শ্রমিকরা কাজ করতে পারে না। আমার আগের কর্মকর্তা লিখিতভাবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আমিও আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে আবর্জনার দুর্গন্ধের ব্যাপারটি জানিয়েছি।” এব্যাপারে মাঝিকাড়া বাজারের ফার্ণিচার ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, “পৌরসভার ময়লা-আবর্জনার এই দুর্গন্ধে দোকানে বইসা ব্যবসা করতে পারতেছি না। এতো বাজে দুর্গন্ধের কারণে দোকানে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমার মতো সকল ব্যবসায়ীদের একই সমস্যা দুর্গন্ধ। পৌর মেয়র অচিরেই যদি স্থানান্তর না করায় দুর্গন্ধে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু বাড়বে।” এব্যাপারে মাঝিকাড়া গ্রামের অটোরিকসা চালক রমজান মিয়া বলেন, “ময়লার খারাপ গন্ধে আমরা অটো চালাইতে পারি না। আমরা গরিব মানুষ, মুখ খুইল্লা মেয়র, কমিশনারের বিরুদ্ধে কোনো কথা কইবার পারি না। এই ময়লা সড়ানো খুবই দরকার। এখানের ময়লা পানি পাশের নদীতে যাওয়ায় যারা ঘাটলায় গোসল করে অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের রোগ-জীবাণু হইতাছে।” এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নবীনগর পৌরসভার মেয়র মাইনুদ্দিন আহম্মেদ মাইনু বলেন, “পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা ফেলার মতো নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় মাঝিকাড়া সড়কের পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ইতিমধ্যে ১৩ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং টাকাও বরাদ্দ হয়েছে। আর এক বছর এলাকাবাসি এই কষ্ট পোহাতে হবে। ময়লার ডাস্টবিন ও ওয়াটার সাপ্লাই বাবদ সরকার থেকে সাড়ে নয় কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছি।”

এব্যাপারে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহীন তানভীর গাজী নবীনগর টুয়েন্টি ফোর ডটকম’কে বলেন, “ জন চলাচলের গুরুত্বপুর্ন সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় এলাকাবাসির ভোগান্তির কথা শুনেছি। এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দিয়েছি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।”

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25899 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০