শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগর- মুরাদনগরের মাঝখানের অদে সেতু নির্মান লাভ ক্ষতি কার?

দিপু আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই ২০১৬ | পড়া হয়েছে 3283 বার

নবীনগর- মুরাদনগরের মাঝখানের অদে সেতু নির্মান লাভ ক্ষতি কার?

নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের শেষ সীমানায় টানচারা গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকুট ইউনিয়নের শেষাংশে কালীগঞ্জ বাজারের মধ্যখানের অদটি (খাল) দুই উপজেলাকে বিভক্ত রেখেছে। সম্প্রতি দুই উপজেলার সংযোগ স্থাপনে অদের উপর দিয়ে  একটি সেতু নির্মানকে কেন্দ্র করে দুই এলাকায় আলোচনা সমালোচনা চলছে । কালিগঞ্জের বাসিন্দারা সেতু নির্মানের পক্ষে থাকলেও লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন গুটিকয়েক ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের উদ্যেশে সেতুটি নির্মান করছেন । এ পথে ড্রেজারের মাধ্যমে বালির ব্যবসা জমজমাট। কালীগঞ্জের কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির ইন্ধনে বালি আনা নেওয়ায় ব্যবহৃত বড় বোটকে বাধা সৃষ্টি করার লক্ষে এ অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে দাবী করেছেন ব্রিজের এপাড়ের ড্রেজার মালিক ব্যবসায়ীরা। তারা আরো জানান, সুষ্ঠ পরিকল্পনা ছাড়া সেতুটি নির্মানের ফলে পশ্চিমাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নৌ-যান চলাচলে বিঘ্নতা  ঘটবে । সেতুটির দীর্ঘ প্রসস্থ কম থাকার কারনে বর্ষা মৌসুমে এ পথে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্থ হবে। সরকারি বরাদ্ধের টাকায় ইতোমধ্যে সেতুটির পিলার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। বর্ষা মৌসুম থাকায় কাজ স্থগিত রয়েছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাঙ্গরা বাজারের নাম ডাক সেই প্রাচিন কাল থেকেই । এ বাজারের ব্যবসায়ীরা ঢাকা চট্রগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মালামাল কিনে নদী পথে আনয়ন করেন। সেতুটি নির্মান হলে নৌ-পথে মালামাল আনা নেয়া সম্পুর্ন বন্ধ হয়ে যাবে বলে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য পাওয়া গেছে। । এতে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন প্রতিনিয়ত। ক্ষতির ভাবনায় ফুঁসে উঠছেন বাঙ্গরা  বাজারের ব্যবসায়ীমহল। ইতোমধ্যে বাজার কমিটির মাধ্যমে গণ স্বাক্ষর নেয়া শুরু করেছেন । এ কাজে আশপাশের গ্রামবাসীও তাদের পক্ষে গণ স্বাক্ষর দিচ্ছেন।
বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জহর মোল্লা জানান, বর্ষা মৌসুমে পানির উচ্চতা বাড়লে ব্রিজটির নিচ দিয়ে মালবাহী বড় নৌকা, বালির বোট যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পরবে। বাঙ্গরা বাজারের পুবের গ্রামগুলোতে  বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারনে ওই অঞ্চলে ইট, বালি, রড,সিমেন্ট সহ অন্য মালামাল বিক্রি  বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আরো জানান, সংশ্লিষ্টরা সব দিক বিবেচনায় রেখে যাত্রীবাহী বড় ট্রলার ও মালবাহী নৌকা যাতে আসা যাওয়া করতে পারে ওইদিকটা খেয়াল রাখলে আমাদের অমতের কিছুই ছিলনা।  সেতুটির নির্মান কাজ বন্ধে আমরা দুয়েকদিনের মধ্যে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি ।
বাঙ্গরা বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে  সৈনিক ট্রেডার্সের জুয়েল সরকার, উজ্জল এন্টার প্রাইজের উজ্জল মিয়া,শরিফ ট্রেডার্সের বসির সরকার,আব্দুল্লাহ ইলেক্ট্রেনিক্স’র রুবেল মিয়া ও আরিফ ট্রেডিংয়ের মজনু মিয়া জানান অদে বাধা সৃষ্টি করে ব্রিজ নির্মানের পক্ষে আমরা নই।

কালিগঞ্জের এক দোকানী জানান, ব্রিজটির দুই পাশের পিলারের পাশ কম থাকার কারনে এর নিচ দিয়ে বালির নৌকা আসতে পারবেনা ।
এ বিষয়ে সরজমিন ঘটনাস্থল ঘুরে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেতু নির্মানে দুই পাড়ের চলাচলে সুবিধে হবে ঠিকই অন্যদিকে এর খেশারত ভুগবে অনেকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, নৌ-চলাচলে বাধার সৃষ্ঠি করতেই এটি এমন পরিকল্পনা করে করা হচ্ছে।  এতে করে ওই অঞ্চলের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি আড়ালে থেকেই ড্রেজারের মাধ্যমে বালির ব্যবসা জমজমাট করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মদ সরকার জানান, এটি নির্মান করা হচ্ছে আন্দিকুট ইউনিয়নের অধীনে। তারা কিভাবে করছেন আমি জানিনা। তবে সেতুটির বাস্তবায়ন হলে নৌ চলাচলে কিছুটা প্রভাব পরবে এটা সত্য।
আন্দিকুট ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক সরকারের মোবাইল ফোনে সংযোগ না পাওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।


Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25654 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০