শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগর শ্যামগ্রামে ইয়াবা আসক্তি কিশোরী শেকলে বন্দী! দ্বায়ভার কার?

এস এ রুবেল | শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০১৬ | পড়া হয়েছে 4344 বার

নবীনগর শ্যামগ্রামে ইয়াবা আসক্তি কিশোরী শেকলে বন্দী! দ্বায়ভার কার?

নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রামে ইয়াবা আসক্তি এক কিশোরীকে শেকলে বেধে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে স্থানীয়রা তাকে বেধে রাখে। ওই এলাকার দক্ষিন পাড়ার ভূমিহীন রিকসা চালক আব্দুল্লার মেয়ে আখি (১৩)। সে এ বয়সে পুরুপুরি মাদকে আসক্তি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরজমিন শুক্রবার (১৯/৮) খবর সংগ্রহে ওই এলাকায় গিয়ে আঁখির জীবন দ্বারার  বাস্তব সমাজের অবক্ষয়ের গল্প প্রকাশ পায়।
নেশার টাকা যোগাতে আঁখি বিভিন্ন বাড়ি থেকে মোবাইল চুরি করে তা বিক্রির টাকায় সে ইয়াবা সেবন করে।
আজ সকালে স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম মিয়া ও বাদশা মিয়ার চুরি হওয়া মোবাইল তার কাছ থেকে উদ্ধার করার পর তাকে বেধে রাখা হয়।
খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিষ্পাপ এক কিশোরীর অন্ধকারে প্রবেশের গল্প শোনা হয়। থলের বেড়াল উন্মোচিত হয়। গ্রামবাসী জানায়, শখের বসে মাদক স্পর্শ করেনি আঁখি। তাকে বাধ্য করে এ পথে আনা হয়েছে। দারিদ্রতার কষাঘাতে পিষ্ট সে আজ । স্থানীয় এক মাদক ব্যবসায়ী অর্থের লোভে তার কোমল হাতে ইয়াবার প্যাকেট ধরিয়ে তাকে দিয়ে মাদক বহন করাত। বিনিময়ে তাকে টাকার লোভ দেখিয়ে ইয়াবার চালান আনা নেওয়ার কাজে আঁখিকে ব্যবহার করেছে ওই মাদক ব্যবসায়ী।
এভাবেই ওই ব্যবসায়ীর সংস্পর্শে থেকে সে ইয়াবা সেবন করা শেখে। এখন সে প্রতিদিন ইয়াবা খায়। ফুটফুটে মিস্টি চেহারার এ মেয়েটি এখন অনেকের চোখে বাজে মেয়ে বলে আখ্যায়ীত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায়, খোয়া যাওয়া মোবাইল তার হাতে দেখতে পেয়েও ভুক্তভোগীদের অনেকেই মোবাইল আনতে গেলে আঁখি তাদের ফাঁসানোর ভয় দেখাত। এ কারনে আজ অবধি এ বিষয়টি ওই এলাকার বাইরে প্রকাশ পায়নি। দরিদ্র রিকসা চালক আবদুল্লার সংসারের মায়া ত্যাগ করে অভাবের তাড়নায় বছর পাঁচেক অাগে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায় আঁখির মা। এক ভাই এক বোনের মধ্যে আখি সবার বড়। তার ছোট ভাইয়ের বয়স ৮। ভূমিহীন আব্দুল্লাহ শ্যামগ্রাম- মাঝিয়ারা সড়কের পাশে পুকুরপাড়ে ছোট্ট একটি খুপরি ঘরে থাকে। অভিভাবকদের শাষন না পেয়ে উন্মুক্ত বিচরনের সুযোগ তাকে অন্ধকারে নিয়ে আসে। আঁখি আজ মাদকের গ্রাসে সমাজের চিত্র কতটা ভয়াবহ এর প্রতিনিধিত্ব করছে।
স্থানীয় সুশীল মহলের কাছে আঁখির বিষয়টি তুলে ধরতেই তারা জানায়, তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করানো দরকার। তারা প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ নিয়া জানায়, এ বয়সী মেয়েরা ইয়াবা কি তা চেনা প্রশ্নবোধক। আর এ বয়সেই আঁখি ইয়াবা আসক্ত। তার করুন ভাগ্য পরিণতির দায়ভার বিবেচনায় এনে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে শ্যামগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন বাবুল বলেন, আঁখির ইয়াবা সেবন ও বহন এবং মোবাইল চুরির বিষয়ে খবর পেয়েছি। খোজ নিতে ওই এলাকায় লোক পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদল ও থানা পুলিশ প্রশাসন মাদক নির্মুলে প্রসংশনীয় ভূমিকা থাকার কথা স্বীকার করে নবীনগরবাসী। এতকিছুর পরেও আঁখির জীবনদ্বারা ওই প্রশংসাকেও হার মানায়।


Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25653 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০