শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগর সমবায় মার্কেট ও সরকারি কলেজ প্রসঙ্গ

শাহনুর খান আলমগীর | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 163 বার

নবীনগর সমবায় মার্কেট ও সরকারি কলেজ প্রসঙ্গ

নবীনগর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের মুল সড়কের বামপাশের আধুনিক সমবায় সুপার মার্কেটের সামনের অংশের কয়েকটি দোকান ভেঙ্গে পুনরায় নির্মাণ কাজ করাকে কেন্দ্র করে আলোচনা চলছে পুরু শহর জুড়ে। ইতোমধ্যে কলেজ ক্যাম্পাসের রাস্তার সংরক্ষণ ও সংস্কার চেয়ে নবীনগর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আলমগীর ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছেন।

ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কেটের নির্মানকাজ কতটুকু নিয়মতান্ত্রিক ও পরিবেশ বান্ধব তা আমাদের জানা নেই, তবে আশংকা করছি মার্কেটের অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ কলেজ ক্যাম্পাসের রাস্তাটিকে সংকুচিত করে ফেলতে পারে। এছাড়াও আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, উক্ত কলেজের ৬ তলা বিশিষ্ট (পরিকল্পনাধীন) ভবনের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মালামাল আনা নেওয়ায় ভোগান্তি সহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কারেন অধ্যক্ষ।


আমি মনে করি উক্ত ক্যাম্পাসের স্বার্থে আবেদনের যৌক্তিকতা আছে। আবেদনের কোথাও রাস্তা সরু হচ্ছে উল্লেখ করা হয়নি। তবে মার্কেট কর্তৃপক্ষকে সতর্কতার মাধ্যমে প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।

তবে মার্কেট কর্তপক্ষ বলছেন নিজেদের বৈধ জায়গাতে দোকান নির্মিত হচ্ছে। আগের জায়গাতে পুনঃনির্মাণ মাত্র। এতে ওই রাস্তার কোন অংশে এর প্রভাব পড়বেনা।

এ নিয়ে বিভিন্ন জনের মতামত ফেসবুকে জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থী বেশ সোচ্চার তারাও চান মার্কেট নির্মাণের কারনে কোনভাবেই যেন কলেজ ক্যাম্পাসের প্রবেশের রাস্তাটির প্রসস্থতা না কমানো হোক৷

নবীনগর বাজারের ব্যবসায়ী শাহনুর খান আলমগীর এ বিষয়ে তিনি সরজমিন নির্মাণকাজ এলাক ঘুরে দেখেন। সেখানকার কয়েকটি ছবি পোস্ট দিয়ে তিনি নিজের মতামত জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্টও দেন

পাঠকের জন্য হুবহু তা তুলে ধরা হল।
দু-একদিন যাবৎ সমবায় মার্কেটের কিছু দোকান নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে অভিযোগ হচ্ছে;আমার প্রশ্ন এই দোকানগুলো কি আজ নতুন উঠতে যাচ্ছে ;না আগে থেকে এখানটাই ছিল?অনেকেই নবীনগর সরকারি কলেজের রাস্ত সরু হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন;অভিযোগকারি ভাই ব্রাদারদের সবিনয়ে বলছি কলেজ গেইটের সামনে গিয়ে দেখে আসুন কলেজের রাস্তা বর্তমানে সরু হয়েছে নাকি প্রশস্হ হয়েছে।

ইনবক্সে অনেক ভাই ছবি পাঠিয়েছেন যেন কিছু লিখি বা প্রতিবাদ করি এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ।ধন্যবাদ তাদেরকে। গতকাল সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসি। আগের পাঁচটি দোকান যে সীমানায় ছিল, তার থেকে ১-২ ফুট পিছনে
বর্তমান নতুন দোকানের সীমানা করা হয়েছে।এখানে আগ্রাসনের কিছু নেই,তাহলে সমস্যাটা কোথায়?কলেজের রাস্তার এ অংশটা আগের চেয়ে অনেকটাই প্রশস্তও হয়েছে এখন অভিযোগ কারীদের কাছে আমার প্রশ্ন সমবায় মার্কেট কি অবৈধ জায়গায় দোকান উঠাচ্ছে? আর যদি উঠিয়ে থাকে তাহলে পুরনো দোকানগুলো থাকা অবস্হায় প্রতিবাদ হয়নি কেন? আমি যতোটুকু জানি এবং জেনেছি এটা সমবায় মার্কেটের বৈধ জায়গা। তবে এটা ঠিক, মার্কেটের কর্তাব্যক্তিরা লোভী না হয়ে আরও আগেই সামনের এই জায়গাটা পার্কিংয়ের জন্য খালি রাখতে পারতেন।কিন্তু এটা সম্পূর্ন রুপে একটি ভিন্ন বিষয়। কলেজ রাস্তার প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে।

যে পাঁচটি দোকানের সীমানা নিয়ে অযথা অভিযোগ করা হচ্ছে সেই দোকান গুলোর পুরনো ভাড়াটিয়াদের কথা একটু ভাবনতো!
এই অহেতুুক আন্দোলনের ফলে যে কয়েকদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আগের দোকানমালিকেরা। তারা কোথায় ব্যবসা করবে?ব্যবসায়িদের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে ভাবুন। উনাদের পাঁচটি পরিবার কিভাবে চলবে এই মুহুর্তে মানুষের জন্য মানুষ আরোও মানবিক হবে মনুষত্ব বাড়াবে। করোনার এ বাজে সময়ে তাদের পাশে থাকুন প্লিজ। উনারাতো বৈধ জায়গায় বৈধ উপায়ে ব্যবসা করে আসছেন বহুদিন যাবৎ। তাহলে কেন ডিষ্টার্ব করছেন। যদি ক্যাম্পাসে প্রবেশের রাস্তার প্রসস্থতা ঠিকই থাকে তাহলে মার্কেটের এ কয়েকটা দোকান নির্মানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ব্যবসায়ীদের পাশে একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। এতে আমার বা আপনার খুব বেশি লাভ না হলেও উপকৃত হবে সাধারণ কিছু ব্যবসায়ী।

গত কয়েক বছর পূর্বে কলেজের রাস্তার উত্তর পাশে নবীনগর থানা নিজেদের সীমানায় আরসিসি পিলার দিয়ে দেয়াল দিয়েছে। কোথায় তখনতো কেউ অভিযোগ করেননি আমাদের সরকারি কলেজের রাস্তা সরু হয়ে যাচ্ছে।নবীনগর থানাকে আমাদের কলেজের রাস্তার জন্য কিছু জায়গা ছাড়তে হবে।
শব্দওতো করেননি কেউ। নাকি তখন কলেজের জন্য কারোও দরদ ছিলনা। একটা বিষয় কিন্তু পরিস্কার সমবায়ের চেয়ে থানা ওয়ালাদের ভোল্ট বেশী।তাই ভয়ে এমন অন্যায় আবদার করার সাহস করেনি তখন কেউ।

প্রতিবাদ হবে মিটিং হবে মিছিল হবে ; হে অবশ্যই যুক্তিক বিষয় নিয়ে হবে। সমবায় মার্কেট তাদের বৈধ জায়গায় ১-২ ফুট ছেড়ে পুরনো দোকান ভেঙ্গে নতুন করার প্রক্রিয়া করছে মাত্র। এখানে অবৈধতার কিছু নেই এখানে অন্যায়ের কিছু নেই তাহলে কেন
প্রতিবাদ করবেন? আমার মনে হয় প্রতিবাদের এ শক্তি নবীনগরের মাদক দূর্নীতি সুদ এর বিরুদ্ধে জমিয়ে রাখুন কাজে আসবে। নবীনগরের জনসাধারণ উপকৃত হবে সেই প্রতিবাদ থেকে।

আমি নিজেও নবীনগর সরকারি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র, সবার মতো আমিও চাই আমার প্রানের বিদ্যাপিঠের রাস্তা প্রশস্ত থাকুক তবে অন্যায় করে অন্য কারোও জায়গা গায়ের জোরে ঠেলে সেই প্রস্তকরণ চাইনা। অবৈধ চাওয়া নিজের জন্য হোক,মায়ের জন্য হোক,কলেজের জন্য হোক তা অবৈধই।

যারা অভিযোগ করছেন সরকারি কলেজে রাস্তা সরু হয়ে গিয়েছে, তাদের প্রতি আবারও বিনিত অনুরোধ করছি স্বচক্ষে কলেজের প্রথম গেইটির ওখানটায় দেখে আসুন। আপনি নিজের ভুল বুঝতে পারবেন।

ধন্যবাদ সবাইকে। সবার সুস্বাস্হ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

মো.শাহনূর খান আলমগীর
ব্যাচ ১৯৯৯-২০০০
নবীনগর সরকারি কলেজ।
ব্যবসায়ি, নবীনগর বাজার

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4458 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2442 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০