শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেনের কল্যাণে যুবকের রক্ষা

ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ১৩ মার্চ ২০২১ | পড়া হয়েছে 265 বার

নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেনের কল্যাণে যুবকের রক্ষা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেনের তদন্তে অবশেষে ইয়াবার মামলা থেকে রক্ষা পেলো নিরপরাধ যুবক। যারা যুবকটিকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল উল্টো তারাই এখন আসামি।

শুক্রবার ঘটনার মূলহোতা নবীনগরের ধরাভাঙ্গা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে জুয়াড়ি ও মাদক ব্যবসায়ী জালাল মিয়া আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।


জানা যায়, গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জয়কালিপুর গ্রামের মোহাম্মদ কবিরের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক একটি মোটরসাইকেল বিক্রি করতে চায়। এজন্য পূর্বপরিচিত পার্শবর্তী নবীনগর উপজেলার ধরাভাঙ্গা গ্রামের আবসার উদ্দিন মিয়ার ছেলে চিহ্নিত জুয়াড়ি ও মাদক ব্যবসায়ী মো. ফারুক মোটরসাইকেলটি আত্মসাৎ করার জন্য তাকে ধরাভাঙ্গা গ্রামের নির্জনে মেঘনা নদীর তীরে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে জালাল ও ধরাভাঙ্গার ফারুক মাদক বেচাকেনা করছে। গত বুধবার দুপুরে কল দিয়ে জয়কালিপুরের ফারুককে সলিমগঞ্জ বাজারে ডেকে নেয় জালাল। সেখানে জালাল জুয়ারি ফারুক মিয়াকে ডেকে আনা হয়। বলা হয় হোন্ডা ফারুককে নিয়ে ধরাভাঙায় যেতে। হোন্ডার টাকা দেয়ার কথা বলে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এমপি টিলায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

সেখানে প্রায় ১ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় হোন্ডা ফারুককে। পরে চক্রটি সলিমগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে ফোন দিয়ে পুলিশ ডাকে। পুলিশ আসার ৩/৪ মিনিট আগে হোন্ডা ফারুকের পকেটে ২৯ পিচ ইয়াবা দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে বুধবার সন্ধ্যায় জুয়াড়ি ফারুক বাদী হয়ে জালাল ও হান্নানকে সাক্ষী করে একটি মিথ্যা এজাহার দেয়।

খবর পেয়ে হোন্ডা ফারুকের বন্ধুরা বিষয়টি নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেনকে জানান। তিনি বৃহস্পতিবার সারাদিন তদন্ত করে আসল ঘটনা উদঘাটন করেন। পরে জালালকে ডেকে জিজ্ঞসাবাদ করলে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর কথা স্বীকার করে সে।

পরে বৃহস্পতিবার রাতে সেই হোন্ডা ফারুক বাদী হয়ে তাদের তিন প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করে নবীনগর থানার হাজতখানা থেকে বেরিয়ে আসে। মামলার আসামিরা হলো-নবীনগরের ধরাভাঙ্গা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে জালাল মিয়া, আফসার মিয়ার ছেলে মো. ফারুক ও জজ মিয়া মিয়ার ছেলে লালন মিয়া।

এমন সত্য ঘটনা উদঘাটন করে নিরপরাধ যুবক হোন্ডা ফারুককে মুক্তি দেওয়ায় তার পরিবার ও এলাকাবাসী নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জয়নগরের হোন্ডা ফারুক বলেন, তার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। এমন সৎ পুলিশ অফিসারের জন্য তিনি দোয়া করেন। এলাকার সবাই জানে তিনি কতটা ভালো। পূর্বপরিচিত জালাল হোন্ডা কেনার কথা বলে এতোবড় প্রতারণা করবে এটা ভাবতেও পারেননি।

এ ব্যাপারে নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে যখন বেশ কয়েকজন জানালো একজন ভালো ছেলেকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে, তখন তিনি এক অফিসারকে দায়িত্ব দেন সরেজমিনে গিয়ে ভালো করে তদন্ত করতে। পরে জানতে পারেন আসলেই জয়কালিপুরের ফারুক নামের ছেলেটাকে ধরে নিয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। পরে জালালকে ডেকে এনে জানতে চাইলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25899 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০