শিরোনাম

প্রচ্ছদ জেলা সংবাদ, শিরোনাম, স্লাইডার

নাসিরনগরে তাণ্ডব : মন্দির, ঘরবাড়ি ভাংচুর-লুটপাট

ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 2734 বার

নাসিরনগরে তাণ্ডব : মন্দির, ঘরবাড়ি ভাংচুর-লুটপাট

ফেসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অন্তত পাঁচটি মন্দির ভাঙা হয়েছে। ভাংচুর-লুটপাট হয়েছে হিন্দুদের শতাধিক ঘর।

রোববার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত এ হামলা চলে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।


এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে র‍্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবি।  বিকালে জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাস শুক্রবার ফেইসবুকে ‘ইসলাম অবমাননা করে’ একটি পোস্ট দেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে। পরে রসরাজকে পুলিশ আটক করে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রসরাজের শস্তির দাবিতে একদল মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রোববার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ দেখায়। আর কয়েকশ লোক সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, অবরোধ থেকে একদল লোক পরে দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাসিরনগর সদরের দত্তবাড়ির মন্দির, নমসুদ্রপাড়া মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, ঘোষপাড়া মন্দির, গৌরমন্দির গুঁড়িয়ে দেয়।

হামলাকারীরা হিন্দুদের বাড়িঘরেও ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় কয়েকজন পূজারী আহত হন বলে এসপি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরে অন্যান্য বাহিনীও যোগ দেয়।

একটি ‘সুযোগ সন্ধানী’ মহল সরকারকে ‘বিব্রত করতে’ এ ঘটনা ঘটিয়েছে মন্তব্য করে এসপি মিজানুর এ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “এ ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রতিটি ভাংচুরের ঘটনায় আলাদা মামলার প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে এসপি মিজানুর বলেন, ইতোমধ্যে ছয় ‘হামলাকারীকে’ তারা গ্রেপ্তার করেছেন।

১২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ আলী জানান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুরোধে আইনশৃখংলা রক্ষায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, “তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।”

নাসিরনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অঞ্জন দেব বলেন, বিকালের পর পরিস্থিতি দৃশ্যত শান্ত হলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান

০৯ মার্চ ২০১৭ | 8112 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০