শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম

নাসিরনগরে মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় কিছু জনপ্রতিনিধি নজরদারিতে

অনলাইন ডেস্ক | বুধবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 934 বার

নাসিরনগরে মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় কিছু জনপ্রতিনিধি নজরদারিতে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার পাশাপাশি স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধির উসকানির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এঁদের মধ্যে অন্তত চারজন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের দুই অংশের সমাবেশে লোকসমাগম করিয়েছিলেন। এমনকি ট্রাক ব্যবহার করেও সমাবেশে লোক পাঠানোর সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ জন্য অন্তত ১৫ জনপ্রতিনিধি পুলিশের নজরদারিতে আছেন বলে জানা গেছে।
নাসিরনগরের ঘটনা তদন্তে গঠিত পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের দুটি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে নাসিরনগরে যে সমাবেশ হয়, সেখানেও এই আলোচনা ছিল।
নাসিরনগরের ঘটনায় গঠিত পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ঘটনার কারণ, পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয় তদন্ত করছি। মামলার অভিযোগপত্রে মূল তদন্তকারী কর্মকর্তা সব বিষয় তুলে ধরবেন। আমরা আমাদের তদন্তে কার কী ভূমিকা ছিল তা তুলে ধরব। ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে অনেক কিছুর সঙ্গে কয়েকজন জনপ্রতিনিধির ভূমিকাও তদন্ত করছি।’ এসব জনপ্রতিনিধি পুলিশের নজরদারিতে আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে, তাঁরা ঘটনার আগে-পরে কী করেছিলেন, তা আমরা তদন্ত করছি। তাঁদের গতিবিধিও নজরদারি করা হচ্ছে।’
অন্যদিকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘নাসিরনগরের ঘটনায় আমরা স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততা পেয়েছি। হামলার জন্য কারা ট্রাক ভাড়া করে দিয়েছে, কারা ছবি পোস্ট করেছে, কারা ছবি প্রিন্ট করেছে তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা যত বড় রাজনীতিবিদ হোন না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না।’
পুলিশ বলছে, রসরাজ দাসের ফেসবুক থেকে ২৮ অক্টোবর পোস্ট করা যে ছবিটি নিয়ে উত্তেজনা, সেই ছবিটি আরও আগেই পোস্ট করা হয়েছিল। ওয়াসিম বিডি নামে একটি আইডি থেকে ২৭ অক্টোবর সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে ছবিটি পোস্ট করা হয়। ২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ওই আইডি থেকে আরও ২০-২৫ বার ওই ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল করিম বলেন, ‘আমরা ওই আইডিটির সন্ধান পেয়েছি। ওই আইডি থেকে আগেও আরও বিদ্বেষমূলক ছবি পোস্ট করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।’
ফেসবুকের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে দুটি প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এতে যোগ দিতে নাসিরনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসেন। এঁদের অনেকেই মন্দির ও বাড়িঘরে হামলায় জড়িয়ে পড়েন। ওই সমাবেশে লোকজন নিয়ে যোগ দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক আবুল হাসেম, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী এবং হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়াকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এই তিনজন ছাড়াও হরিণপুর ইউপির চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমানেরও সম্পৃক্ততা আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রী ছায়েদুল হকের দ্বন্দ্বও এ ঘটনার উসকানিতে ভূমিকা রেখেছিল কি না, সেটিও তদন্ত করছে পুলিশ।
হরিণপুরের স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হরিপুর ইউপির নির্বাচনে ছায়েদুল হক মনোনয়ন দিয়েছিলেন ফারুক মিয়াকে। কিন্তু তাঁর বাবা যুদ্ধাপরাধী এমন অভিযোগে জেলার নেতারা তাঁকে বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য দেওয়ান আতিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেন। ওই নির্বাচনে ফারুক মিয়া সমর্থন দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রাশেদ চৌধুরীকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আতিকুর রহমান জয়ী হন। এরপর থেকেই আতিকুরের সঙ্গে নানা বিষয়ে ফারুক মিয়ার দ্বন্দ্ব চলছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যাঁর ছবিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা, সেই রসরাজ দাস নাসিরনগরের হরিণবেড়, হরিপুর ও আচানপুর মৎস্যজীবী সমিতির নতুন সাধারণ সম্পাদক। সমিতির সভাপতি সুভাষ দাস। অভিযোগ উঠেছে, আগে ওই সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রাধু দাস ও বানেশ্বর দাস। তাঁরাই স্থানীয় বালিঙ্গা বিলের ইজারা নিয়েছিলেন। কিন্তু এই কমিটি ইউপি নির্বাচনে আতিকুরের পক্ষে কাজ করায় ক্ষুব্ধ ছিলেন ফারুক মিয়া। ফলে তিনি ওই কমিটি বাতিল করে সুভাষ ও রসরাজকে নেতা বানান।
ফারুক মিয়ার সমর্থকদের অভিযোগ, রসরাজের ফেসবুক থেকে ২৮ অক্টোবর একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছবিটি রসরাজ না দিলেও এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। রসরাজ যেহেতু ফারুক মিয়ার লোক, তাই দেওয়ান আতিকুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ান। তিনি কয়েকটি ট্রাকে করে জনসমাবেশে লোক পাঠান বলেও অভিযোগ আছে।
তবে আতিকুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো ট্রাক ভাড়া করিনি। লোকজনও পাঠাইনি। বরং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়ার ইটভাটা থেকেই লোকজন সমাবেশে যোগ দিয়েছে।’
আতিকুর রহমানের অভিযোগ, ফারুক মিয়ার চাচাতো ভাই স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক কাপ্তান মিয়া। তিনিই শনিবার এলাকায় উসকানি ছড়িয়েছেন। আর ফারুক মিয়ার ইটভাটা থেকেও লোকজন সমাবেশে অংশ নিয়েছে। ফারুক মিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘রোববারের সমাবেশে আমি যোগ দিলেও কোনো উসকানি ছড়াইনি। বরং নতুন চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক ধাপে মামলার তদন্ত চলছে। ফেসবুকে কীভাবে ছবিটি এল, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। এখন ফরেনসিক বিভাগের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

 


সুত্র- প্রথম আলো

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভালো নেই : আকবর আলি খান

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | 6966 বার

স্বর্ণের দাম কমেছে

২৯ মে ২০১৬ | 3694 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১