শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম, স্লাইডার

নাসিরনগরে হামলার ঘটনায় অভিযোগপত্রে আসামি ২২৮

ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1006 বার

নাসিরনগরে হামলার ঘটনায় অভিযোগপত্রে আসামি ২২৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে তাণ্ডবের একটি মামলায় ২২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছে পুলিশ।

রোববার ওই অভিযোগপত্র আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগে জমা দেওয়া হয় বলে পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান।


তিনি আরো বলেন, “কিছু ত্রুটি থাকায় এবং ব্রিফ তৈরি করতে দেরি হওয়ায় আজ বিচারকের সামনে চার্জশিট উপস্থাপন করা যায়নি।

দুয়েক দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করা হবে।”

নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাস নামে জেলে পরিবারের এক যুবক ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্ট করেছে অভিযোগ তুলে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর তাকে পিটিয়ে পুলিশে দেয় একদল যুবক।

পরদিন (৩০ অক্টোবর) এলাকায় মাইকিং করে উপজেলা সদরে পৃথক দুইটি সমাবেশ থেকে ১৫টি মন্দির, শতাধিক ঘরবাড়িতে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এরপর ৪ নভেম্বর ভোরে ও ১৩ নভেম্বর ভোরে আবার উপজেলা সদরে হিন্দুদের অন্তত ছয়টি ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় মোট আটটি মামলা দায়ের করা হয়। বাকি সাতটি মামলার তদন্ত এখনও চলছে।

দলীয় বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে বেকায়দায় ফেলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সমর্থকরা এ হামলার নেপথ্যে ছিলেন বলে স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য।

নাসিরনগরের এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের সঙ্গে মোকতাদির ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের দ্বন্দ্বই এ হামলার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে একটি অনলাইন সাইটের অনুসন্ধানে।

এই অনুসন্ধানে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখিকে হামলার হোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। পরবর্তীতে আঁখিকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

নাসিরনগর থানার ওসি মো. আবু জাফর জানান, মামলার দীর্ঘ তদন্তে আওয়ামী লীগ নেতা, “বিএনপি নেতা এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের হওয়া আটটি মামলার মধ্যে গৌর মন্দিরে হামলার মামলাটির তদন্ত শেষ হয়েছে।”

আবু জাফর জানান, গৌর মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় এ মামলা (নম্বর ২২) দায়ের করেছিলেন। মামলাটির তদন্ত করেন নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শওকত আলী। দীর্ঘ তদন্তের পর তিনি অভিযোগপত্র তৈরি করেছেন। এতে ২২৮ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

“আসামিদের কয়েকজন হলেন নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ প্রচার সম্পাদক মো. আবুল হাসেম, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাময়িক বরখাস্ত চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি, হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি  ফারুক মিয়া, চাপরতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি  সুরুজ আলী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হান্নান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম চকদার, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মো. জামাল, হরিপুর গ্রামের কাপ্তান মিয়া, বিল্লাল হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর আলম।”

এর মধ্যে আবু হাসেম ও আব্দল হান্নান ছাড়া বাকিরা গ্রেপ্তার হওয়ারপর আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম তাণ্ডবের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে চার্জশিট এখন চূড়ান্ত হয়ে কোর্ট পরিদর্শকের কাছে রয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করা হবে।”

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভালো নেই : আকবর আলি খান

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | 7091 বার

স্বর্ণের দাম কমেছে

২৯ মে ২০১৬ | 3918 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১