শিরোনাম

প্রচ্ছদ বিচিত্র, স্লাইডার

পতিতাদের সাথে একদিন, অজানা অনেক তথ্য!

অনলাইন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১২ মে ২০১৬ | পড়া হয়েছে 8487 বার

পতিতাদের সাথে একদিন, অজানা অনেক তথ্য!

বন্ধু বান্ধবের মুখে পতিতাদের নিয়ে অনেক কাহিনী শুনেছি। আজই প্রথম তাদের কাছে যাওয়ার সুযোগ হলো। নিজের চোখে সামনে থেকে দেখার সুযোগ হলো।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে সমাজকর্ম ফাইনাল ইয়ারে পড়ি। ফাইনাল ইয়ারে আমাদের একটা মাঠকর্ম (ফিল্ড ওয়ার্ক) থাকে। ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে আমাদের একেক এলাকার একেক প্রতিষ্ঠানে পাঠনো হয় সমাজকর্ম বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। আমাদের গ্রুপকে পাঠানো হয়েছে মেরীস্টোপস এ। মোট ৬০ কর্ম দিবস আমাদের এই মাঠকর্ম করতে হবে। আমরা একেকদিন একেক যায়গায় গিয়েছি। মেরীস্টোপসসের কার্যক্রম দেখেছি। তারা অনেক আন্তরিকতার সাথে তাদের কার্যক্রমগুলো পর্যবেক্ষন করাচ্ছে। আসলে এই মাঠকর্মে না গেলে হয়তো জীবনে অনেক কিছু অজানাই থেকে যেতো। যাই হোক কাজের ধারাবাহিকতায় আজ আমরা গিয়েছি পতিতাদের সাথে কথা বলতে। তাদের জীবন বৃত্তান্ত, সুখ, দুঃখ জানতে। যা দিয়ে আমাদের একটি প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিতে হবে।


sonagachi1

ঘটনার দিন সকাল ১০ টায় কুমিল্লার একটি মেরীস্টোপস ড্রপ ইন সেন্টারে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি আমার আগেই আমার অন্যান্য গ্রুপ মেম্বাররা উপস্থিত হয়েছে। আমরা মোট ৪ জন ছেলে ও ৩ জন মেয়ে। সেখানে প্রতি রবি বার পতিতাদের চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়া তাদের জন্য একটি ওয়েটিং রুম রাখা হয়েছে। পতিতারা প্রতিদিন এখানে এসে গোসল করে, টিভি দেখে, ঘুমায়, রেস্ট নেয়।

বিকাল চারটার মধ্যে সাজুগুজো করে বেড়িয়ে পড়ে কায়েন্টদের খোঁজে। বুঝতে পারছি ব্যপারটা অনেকের কাছে খটকা লাগছে। আমার কাছেও প্রথমে খটকা লেগেছিল। মেরীস্টোপস তাদের ট্রিটমেন্ট করতে পারে কিন্তু তাদের জন্য ওয়েটিং রুম রাখবে কেন? আবার গোসল করার সুযোগ, সারাদিন ঘুমানোর সুযোগ।

ব্যপারটা একটু পরই সমাধান করে দিচ্ছি। ওখানে গিয়ে যা দেখলাম। প্রথমে আমাদের সাথের মেয়েগুলোকে ভেতরে পাঠানো হলো। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে তাদের মত সেজে তাদের সাথে মিশে যায়। এভাবে তাদের কাছ থেকে অনেক কখ্য বের করে। তাদের সুখ-দুঃখ। এই পথে আসার কাহিনী। পরে আমরা ৪ জন ছেলে প্রবেশ করলাম। কয়েকটি পতিতা মেয়ের সাথে কথা বললাম। আমার একটা বদ অভ্যাস হলো লুকিয়ে লুকিয়ে ছবি তোলা বা ভিডিও করা। ওখানেও একই কাজটি করেছি। গোপনে নকিয়ার ৩.২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে ওদের কথাবার্তা ভিডিও করেছি। ওখানে ২০ বছর বয়সী থেকে শুরু করে ৪০ বছর পর্যন্ত মহিলারা রয়েছে।

আমি রুনাকে (ছদ্ম নাম) বারান্দায় একা ডেকে নিয়ে গেলাম। পরিচিত হলাম। নিজেকে ছাত্র বলেই পরিচয় দিলাম। আমাদের সাথের মেয়েগুলো সম্পর্কেও বললাম। যে তারা আসলে তোমাদের মত নয়। তারা আমার মতই স্টুডেন্ট। তার মধ্যে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া নেই। সে জিজ্ঞাসা করল কি জানতে চান বলুন। আমি তাকে বললাম আসলে আমরা এসেছি আপনাদের সম্পর্কে জানতে। আপনি চাইলে সত্যি বলতে পারবেন, আবার মিথ্যা ও। আমি আপনাকে কথা দিলাম আপনার নাম আমি কাউকে বলব না। তবে আপনি সত্যি বললে আমার জন্য উপকার হবে।

এতেও তার মাঝে কোন রকম প্রতিক্রিয়া নেই। আমি তার কাছে এই লাইনে আসার কাহিনীটা শুনতে চাইলাম। সে যা বলল তার সার সংক্ষেপে হলো এই রকম, স্বামী বিয়ের পর দুবাই চলে গেছে। সেও কয়েকবার বিদেশ ভ্রমণ করেছে। তার ২ টা সন্তান রয়েছে যারা ভালো দামী স্কুলে পড়াশুনা করে। বর্তমানে মেয়ে ক্লাশ ফাইভে পড়ে ও ছেলে ক্লাশ ওয়ানে। স্বামী প্রথমে তার খরচ চালালেও পড়ে আর চালায়নি। এক সময় স্বামী তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে এক বান্ধবীর কথা শুনে সে এই পথে পা বাড়ায়। বান্ধবী আগে থেকেই এই কাজ করতো।

শুধু মাত্র টাকার জন্যই এই কাজে নামা?

– আমার মেয়েকে যেন এই কাজ করতে না হয় সে জন্যই এই পথে নেমে নিজের রোজগারের টাকা দিয়ে সন্তানদের মানুষ করছি।

sonagachi2

বর্তমানে সে কুমিল্লা শহরের ভালো মানের একটি বাসায় ভাড়া থাকে। বন্ধু (তারা তাদের সাথের যৌনকর্মীদের বান্ধবী ও কায়েন্টদের বন্ধু বলে সম্বোধন করে) কিভাবে সংগ্রহ করেন জানতে চাইলে সে বলে বন্ধুদের কাছে ফোন নং আছে। তারা যখন কল দেয় তখন যাই।

– রেট কেমন?

-দিনের বেলায় ৮০০ থেকে ১৫০০। যার থেকে যেমন নিতে পারি। পার্টি ভালো পেলে টাকা বেশী। আর কক্সবাজার বা কুমিল্লার বাইরে কোথাও গেলে ৫০০০ টাকা। আর এখন আমি রাতে কাজ করি না। ছেলে মেয়ে বড় হচ্ছে। তাদেরও জ্ঞান বুদ্ধি আছে। রাতে বাইরে থাকলে তারা বুঝে ফেলবে।

কাজ কি হোটেলে হয়?

– না, বেশির ভাগ বন্ধুদের বাসায় হয়। মাঝে মাঝে মেসেও হয়। আর হোটেলেও হয়।

-স্টুডেন্টদের মেস?

– না, ড্রাইভার, চাকরিজীবীদের মেস।

– তার মানে পরিচিত বন্ধুদের সাথেই শুধু হয়, নাকি নতুন নতুন বন্ধু পান?

– না, নতুন অনেক বন্ধু হয়। ক্লায়েন্টরা তাদের বন্ধুদের সাথে যখন আমাদের নিয়ে আলোচনা করে তখন তারাও উদ্বুদ্ধ হয়। এর পর পুরান বন্ধুরা নতুনদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।

– সপ্তাহে কেমন কাজ থাকে?

– ভালই। দিনে কয়েকটাও থাকে আবার মাঝেমাঝে সপ্তাহে দুই তিনটা।

– কোন কোন লোকেরা আপনাদের ডাকে?

– ভাইরে জগৎটা অনেক বিচিত্র। আপনারা যাদের সম্মান করেন, দেখলে সালাম দেন তারাও আমাদের ডাকে। উপরে লেবাস পড়ে থাকে ভেতরটার খবর বোঝা যায় না। আমাদের সাথে অনেক বড় বড় লোকেদের কানেকশন আছে। অনেক বড় বড় রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের অনেক বড় বড় কর্মকর্তারাও জড়িত।

– আবার বিয়ে করলেওতো পারেন।

– একটা ছেলের সাথে সম্পর্ক হয়েছিল। সে আমাকে বিয়ে করতে রাজিও হয়েছিল। কিন্তু পরে প্রতারণা করছে। তার জন্য আমার পাসপোর্টটা ও হারাতে হয়েছে। তাছাড়া আমাদের বিয়ে সুখের হয় না। দুই মাস আগে সব কিছু জেনে শুনে একটা ছেলে আমাদের মত একটা মেয়েকে বিয়ে করেছিল। প্রথম দিকে সুখ-শান্তি হলেও পরে কথায় কথায় অতীত নিয়ে টানাটানি করে। পরে এক সময় তাকে বেধে গরম ছ্যাকা দিয়ে ছিল। কুচাইতলী মেডিকেলে সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে যায়।

– সরকার যদি আপনাদের কাজের ব্যবস্থা করে তবে কি এই কাজ ছেড়ে দেবেন?

– এক্ষন এই কাজ ছেড়ে দেব। সরকার যদি ৪ হাজার টাকা বেতনের চাকরিও দেয় তবে ফ্ল্যাট বাসা ছেড়ে কালই টিনের ঘর ভাড়া নিব। ভাই কেউ সখে এই কাজে নামে না।

– এই পর্যন্ত কোন প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েননি? ধরেন, পুলিশ, র‌্যাব?

– যারা শুধু হোটেলে ব্যবসা করে তাদের রেট হলো ১৫০ টাকা। এর মধ্যে আমাদের দেয়া হয় ৫০, হোটেল ম্যানেজারের ৫০, আর র‌্যব, পুলিশ ও মাস্তানদের ৫০। প্রত্যেক মাসে টোটাল কুমিল্লা শহরে আমাদের ইনকাম থেকে র‌্যব-পুলিশেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা দেয়া হয়। তবে মাঝে মাঝে পুলিশ ডিস্টার্ব করে। এই যেমন গত রোজার ঈদের পর পর আমি বাঙলা রেস্তোরায় বসে চাইনিজ খাচ্ছি। সেখান থেকে আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।

– বাঙলা রেস্তোরা তো আবাসিক না। ওখানে কি করছিলেন?

– উপরে আবাসিক আছে। উপরে রেইড দিয়েছিল। পরে আমাকেও নিয়ে যায়।

– ছাড়া পেলেন কিভাবে?

– থানায় নেয়ার পর ২-৩ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেয়। আর টাকা দিতে না চাইলে কোর্টে চালান করে দেয়। সেখানে ২-৩ দিন রেখে মেজিস্ট্রেট ২০০ টাকা জরিমানা রেখে ছেড়ে দেয়।

– কুমিল্লার কোন কোন হোটেলে এই কাজ হয়?

– কোনটাতে হয় না বলেন, সবগুলোতেই হয়।

– শুনেছি কুমিল্লার বিভিন্ন কলেজগুলোর ছাত্রীরাও নাকি এই কাজ করে?

– হ্যাঁ, কুমিল্লা মহিলা কলেজ, ভিক্টোরিয়া কলেজের অনেক ছাত্রীরা আমাদের সাথে কাজ করে। তবে টাউনের মেয়েরা না। গ্রাম থেকে যে সব মেয়ে কুমিল্লা এসে মেসে বা হোস্টেলে থাকে তারা এইসব কাজ করে। কারণ অনেকে গরীব ফ্যামিলি থেকে আসে তাই টাকার প্রয়োজন, আবার শহরে তাদের কেউ চেনেও না।

আমি অবাক হয়ে রুনার কথা শুনছিলাম। সে পুর্ণ সুদ্ধ ভাষায় কথা বলে। ২৮-৩০ বছর বয়সী এই মেয়ের স্মার্টনেসে যে কোন ছেলে প্রেমে পড়ে যাবে। উচ্চ ফিগার, ফর্সা, লম্বা চুল। যে কোন ভদ্র পরিবারের ছেলে তাকে অনায়েসে বিয়ে করবে।

পরবর্তীতে আমরা আরেকটি মেয়ের সাথে কথা বলি। তার কাহিনী হলো একটি ছেলের হাত ধরে সে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। দুই মাস পর ছেলেটি তাকে তাড়িয়ে দেয়। লজ্জায় আর বাড়িতে ফিরে যাওয়া ও সম্ভব হয়নি। তাই কুমিল্লাতে দুঃসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে চলে আসা। আত্মীয়র পুরা পরিবারই এই কাজে জড়িত। তাদের প্ররোচনায় সে আজ এই পথে।

এবার আসা যাক মেরী স্টোপসের ব্যাপারে জানা যাক। তারা কেন তাদের এত সুবিধা দেয়। আমি এখানকার একজন কর্মকর্তাকে এই প্রশ্ন করাতে তিনি জানান, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সমাজ থেকে এইচআইভি এইডস তাড়ানো। আর এইডস ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম হলো যৌনকর্মীরা। তাই আমরা তাদেরকে রেগুলার ট্রিটমেন্ট দিচ্ছি তারা যেন সঠিক পদ্ধতিতে যৌন মিলন করে। কনডম ইউজ করে। আমরা এখন থেকে ফ্রি কনডমও বিতরন করি। তাছাড়া আমাদের এখানকার সব ট্রিটমেন্ট বিনা পয়সায় করা হয়। এটি বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা ও বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত। আমরা যদি তাদের সাথে খারাপ আচড়ন করি। বা তাদের এই কাজ থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দেই তবে ঘটনাটা যা হবে তা হলো কাজের কাজতো কিছুই হবে না বরং তারা আর ট্রিটমেন্টও নিতে আসবে না। সমাজে এইডস রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। তাই আমরা তাদের আদর দিয়ে, তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে কাউন্সিলিংএর মাধ্যমে তাদের নিরাপদ যৌন মিলন সম্পর্কে ধারণা দেই। কিভাবে এইডস ছড়ায় এবং কিভাবে ছড়ায় না সে সম্পর্কে ধারণা দেই। তবে কাউন্সিলিংএর সময় আমরা তাদের এই কাজে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করি। তারা বলে কাজ দেন, ছেড়ে দেব। এখানে কতজন পতিতা ট্রিটমেন্ট নিতে আসে জিজ্ঞেস করলে জানান শুধু মাত্র এই শাখায় প্রায় ৪শ র মত আসে। কিন্তু কুমিল্লায় পতিতাদের সংখ্যা এর চেয় অনেক বেশী।

এইডস নিয়ে একটা গল্প জানতাম। এক ছেলে বিদেশ থেকে তার বাবাকে ফোন করে বলল বাবা আমি আগামী মাসে বাড়িতে আসছি। বাবা বলে, বাড়িতে আসবি সে তো খুশির খবর। ছেলে বলে, বাবা খুশির খবর না, আমি অনেক কষ্টে আছি, আমার এইড্স হয়েছে। বাবা বলে, তাইলে থাক, ওখানেই থাক, এখন আসার দরকার নাই। বাবার চেহারা কালো হয়ে যায়। পাশে দাড়িয়ে থাকা বাবার বন্ধু জিজ্ঞেস করে, কি হয়েছে, ছেলে মনে হয় দেশে আসতে চাইল, তুমি না করলা ক্যান। বাবা বলে, আর বইল না। হারামজাদার এইড হইসে। ও যদি দেশে আসে, ওর যেই চরিত্র, ওর থেকে এই রোগ যাবে কাজের মেয়ের গায়ে। কাজের মেয়ে থেকে আমার কাছে। আমার থেকে ওর মার। আর ওর মার যদি একবার এই রোগ হয় তবে সারাদেশতো এইডসে শ্যাষ হয়ে যাবে।

কিছু মনে করবেন না। গল্পটা এখানে দেবার প্রয়োজন ছিল না। কারণ বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ আজ এইডস সম্পর্কে দারুন ভাবে সচেতন। আমাদের আগামী কাল হিজড়াদের সাথে সাক্ষাত করার কথা। এর পরদিন মাদকাসক্তদের সাথে। এই মাত্র আমাদের গ্র“পের এক ফ্রেন্ড ফোন করে জানালো আমাদের নিয়ে নাকি মেরীস্টোপস কুমিল্লা হেড অফিসে হৈ চৈ পড়ে গেছে। কেন আমরা সরাসরি যৌনকর্মীদের কাছে গেলাম। তাদের সাক্ষাতকার নিলাম। পরেরদিন সকাল ৯ টায় আমাদের সকলকে হেড অফিসে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। জানিনা কপালে কি আছে। যদি হিজড়াদের কাছ পর্যন্ত যেতে পারি তবে আবার সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব।

সংগৃহীত।

 

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নেশা তার চুল খাওয়া

১৮ মে ২০১৬ | 2310 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০