শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

পরিবারের অভিযোগ পাশের গ্রামের হত্যা মামলায় প্রতিহিংসাবশত তিন ভাইকে আসামি করা হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 658 বার

পরিবারের অভিযোগ পাশের গ্রামের হত্যা মামলায় প্রতিহিংসাবশত তিন ভাইকে আসামি করা হয়েছে

নবীনগর  উপজেলার গৌরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবু কায়েছ। যিনি শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজে নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গৌরনগর গ্রাম নবীনগর উপজেলার রিমোট এলাকা হওয়ায় কোন শিক্ষক পোষ্টিং নিতে চায় নি। সেই রিমোট এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের পরশ ছড়িয়ে দিতে নিরন্তর ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান অধিকারী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স-মাস্টার্স পাস করা মেধাবী ছাত্র মোঃ আবু কায়েছ। গ্রাম্য রাজনীতির প্রতিহিংসায় তিনি আজ হত্যা মামলার আসামী।

গৌরনগরের বাসিন্দা সোলায়মান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে কায়েছ মাষ্টার আমাদের স্কুলে শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি অত্যন্ত ভদ্র ও নমনীয় মানুষ। তাঁর পাঠদান ও আচার-আচরনে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।


গৌরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শেণীর শিক্ষার্থী ফারিয়া আক্তারের মা জানান, আমাদের গ্রামটি দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় কোন শিক্ষক আসতে চায় না। সেখানে কায়েছ মাষ্টার শিক্ষক সংকটের মাঝেও নিজ উদ্যোগে প্যারা শিক্ষক দিয়ে নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ের পাঠদান নির্বিগ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিত এই মামলা থেকে কায়েছ মাষ্টারকে দ্রুত অব্যহতি দেয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানাই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল পূর্ববিরোধের জেড়ধরে থানারকান্দি-হাজির হাটির দাঙ্গায় দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পা হারান হাজির হাটি গ্রামের মোবারক হোসেন, মারাত্বক আহত অবস্থায় তিনি (মোবারক) তাঁর হত্যার সাথে জড়িতদের নাম ভিডিও ফুটেজে বলে যায়, যা দেশের স্বনামধন্য পত্রিকায় ও মিডিয়ায় ফুটে উঠে। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোবারক মৃত্যবরণ করলে তাঁর চাচাত ভাই চাঁন মিয়া নবীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে, যেখানে প্রতিহিংসামূলকভাবে আবু কায়েছ মাষ্টারকে ১৯ নাম্বার আসামী করা হয়।

এ ব্যাপারে সাতঘর হাটির বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, জগড়া হয়েছে থানারকান্দি-হাজির হাটি গ্রামে এবং যিনি মারা গেছেন তিনি আহত অবস্থায় তাঁর হত্যার সাথে জড়িতদের নাম স্পষ্টভাবে বলে যায়, যেখানে সাতঘর হাটি গ্রামের কারও নাম উল্লেখ করে নি। কিন্তু প্রতিহিংসামূলক ও হয়রানির উদ্দেশ্য সাতঘর হাটির বাসিন্দা নির্দোষ কায়েছ মাষ্টারসহ অনেকের নাম মামলার এজাহারে অন্তভুক্ত করে। আজ নবীনগর থানা পুলিশ কায়েছ মাষ্টারকে গ্রেপ্তার করে। আমরা তাঁর দ্রুত মুক্তির দাবী করছি।

গ্রেপ্তারকৃত কায়েছ মাষ্টারের পরিবারের সদস্যরা আক্ষেপ করে বলেন, একটি সাজানো মামলায় আমাদের সন্তানকে আসামী করা হয়েছে। দাঙ্গা-হাঙ্গামার দিন কায়েছ মাষ্টার তাঁর ভাইদের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌরশহরের বাসায় অবস্থান করেছিল। এই দাঙ্গা-হাঙ্গামার সাথে কোনভাবেই আমাদের সন্তান জড়িত নয়। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ থাকবে সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে যাতে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হয়।

অন্যদিকে নবীনগর থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘কায়েছকে মঙ্গলবার দুপুরে সাতঘরহাটি থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25534 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০