শিরোনাম

প্রচ্ছদ ধর্ম দর্শন, শিরোনাম, স্লাইডার

পাপমুক্ত জীবনের প্রতিজ্ঞা চাই

শাহাদাত হুসাইন | শনিবার, ২৫ জুন ২০১৬ | পড়া হয়েছে 2648 বার

পাপমুক্ত জীবনের প্রতিজ্ঞা চাই

রমজানের শেষ দশকে আল্লাহতায়ালা তার অগণিত বান্দাকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দেন। আর এ মুক্তি নিশ্চিত হয় আল্লাহর দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে। বান্দা যখন বিগত দিনে কৃত পাপ থেকে তওবা করে ক্ষমা প্রার্থনা করে তখন তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। বান্দা বিনীত ক্ষমা প্রার্থনা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। এজন্য চাই বেশি বেশি তওবা এবং আল্লাহর প্রতি সর্বতোভাবে নিবেদন। তওবা কবুল হওয়ার জন্য সাধারণত তিনটি শর্ত_ পাপ পরিত্যাগ করতে হবে, পাপের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে ও পুনরায় সেই কাজ না করার অঙ্গীকার করতে হবে। উলেল্গখ্য, যদি বান্দার হক নষ্ট হয়ে থাকে তাহলে প্রথমে সে ব্যক্তির সঙ্গে বিষয়টি ফায়সালা করার পর এ তিনটি শর্ত পালন করা প্রয়োজন। সেই ব্যক্তির হক পরিশোধ করে কিংবা তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার পরই তওবার তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। বান্দার হক আদায় না করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেও তা কবুল করা হবে না। বস্তুত বান্দার দুর্বলতা সম্পর্কে আল্লাহর জানা আছে বলে তিনি চান বান্দার সামান্য অনুভূতি। নিজের পাপ বা অন্যায়কে স্মরণ করে মানুষ যখন অনুতপ্ত হয় এবং মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তখন তিনি ক্ষমা না করে পারেন না। শুধু তাই না, তওবাকারী বান্দার প্রতি তিনি আনন্দিতও হন। রমজান হলো তওবা কবুলের মাস। অন্য মাসগুলোর তুলনায় আরও সহজে বান্দার তওবা কবুল হবে এবং তাকে ক্ষমা করে দিবেন বলে আল্লাহর নবী (সা.) ঘোষণা করেছেন। তাই রমজানের শেষ দশকে এসে নিজেকে পরিচ্ছন্ন ও পাপমুক্ত করার জন্য তওবা ও ইস্তেগফারের প্রতি গুরুত্বারোপ করা এবং এদিকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। কোনো মানুষের ক্ষতি করে থাকলে, কারও জীবন, সম্পদ বা সম্মানে আঘাত করে থাকলে প্রথমে তার কাছেই ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকলে এখনই তা পরিত্যাগ করতে হবে। কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে দখল করে রাখলে অবিলম্বে তা ফেরত দিতে হবে। এরপর নিজের মধ্যে অনুশোচনাবোধ সৃষ্টি হলে আল্লাহতায়ালা বিগত দিনের গোনাহ অবশ্যই ক্ষমা করবেন। যদি অতীতে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হয়ে থাকে তাহলে আবার তওবা করতে হবে। তওবা ভঙ্গ হয়ে গেলেও আবার তওবা করলে আল্লাহতায়ালা তা কবুল করবেন। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান পাওয়ার পরও যারা নিজেদের গোনাহগুলো ক্ষমা করাতে পারল না তাদের চেয়ে দুর্ভাগা আর কেউ নেই।’ রমজানের শেষ দশক দুর্ভাগাদের তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়ার সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগ। আল্লাহতায়ালা রমজানের শেষ দশকে বেশকিছু উপলক্ষ দান করেছেন, যাতে বান্দা তার গোনাহগুলো ক্ষমা করাতে পারে। এজন্য শেষ দশকের বিশেষ আমল বেশি বেশি করে তওবা ও ইস্তেগফার করা। নিজের অতীত কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং পাপমুক্ত জীবন গঠনের প্রতিজ্ঞা করা। তাই নিরাশ না হয়ে আল্লাহর অপার রহমতের প্রতি আশা রেখে বারবার প্রতিজ্ঞা করতে হবে । আল্লাহ পাক আমাদের ক্ষমা করুন। আমিন।


Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রসঙ্গঃ মাহে রমজান

০৩ জুন ২০১৬ | 3738 বার

রমজানের আমল সমূহ

০৯ জুন ২০১৬ | 3406 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১