শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

প্রসঙ্গ ‘নবীনগর প্রেসক্লাব’

মাহাবুব আলম লিটন | সোমবার, ১৬ মে ২০১৬ | পড়া হয়েছে 750 বার

প্রসঙ্গ ‘নবীনগর প্রেসক্লাব’

নবীনগর প্রেসক্লারে ঐক্য প্রক্রিয়ার লক্ষে সদস্য নেয়া হলো । অনেকে রিপোর্ট করেছেন কিন্তু ঐক্যর শুরুটা কিভাবে হলো তা লিখেননি । জানা দরকার- নবীনগর প্রেসক্লাবের ঐক্য প্রক্রিয়ার ইতিহাসটা আরেকটু পিছনে। ২০১৩ সাল নবীনগর প্রেসক্লাবের নির্বাচনে ভেলটভোটে আমি সভাপতি ও কল্লোল সম্পাদক নির্বাচিত হই । তখন নবীনগরে সাংবাদিকদের তিনটি ক্লাব । নবীনগর প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি ও উপজেলা প্রেসক্লাব। এই সংগঠনগুলোর বাইরে ছিল বেশ কিছু প্রথম সারির জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকরা । আমরা চিন্তা করলাম সাংবাদিকদের মূল সংগঠন নবীনগর প্রেসক্লাব । নামী দামী পত্রিকাগুলো ক্লাবে বাইরে থাকবে এটা শুভণ দেখায় না । ওই সমস্ত নামী দামী পত্রিকার সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র মোতাবেক প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করলো । যথারিতি গঠনতন্ত্র মোতাবেক বেশ কয়েক দফা আলাপ আলোচনা মিটিং, ইন্টারভিউ, সাধরণ পরিষদ মিটিং ইত্যাদি করে যখন প্রক্রিয়া প্রায চুড়ান্ত তখন ব্যাক্তিস্বার্থের প্রতি আনুগত্য কিছু সাংবাদিক নতুন সদস্য ঢুকলে প্রেসক্লাবে তাদের আধিপত্য ক্ষুন হবে ভয়ে নানাহ অযৌক্তিক ইস্যু তৈরী করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিলেন । ফলে ওই সমস্ত সাংবাদিকগন প্রেসক্লাবে ঢুকতে না পেরে আলাদা সাংবাদিক ইউনিয়ন নামে আরেকটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটায । হলো চারটি সংগঠন । প্রতিটি ক্লাবেরই কিছু সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলো । সাংবাদিকদের মূল ফাদার সংগঠন নবীনগর প্রেসক্লাবের নেতা হিসাবে আমরা চিন্তা করলাম সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার উপরে (মফস্বল সাংবাদিকতা) একটি বুনিয়াদী প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা । খবর পেলাম ওই বছরের জুলাই আগষ্টে সম্ভবত আমাদের নবীনগরের কৃতি সন্তান, সাংবাদিকতার গুরু দুরুইল গ্রামের শাহ্ আলমগীর ভাই পি,আই,বি এর মহা-পরিচালক নিযুক্ত হলেন । আমি ও আমার সম্পাদক নবীনগর প্রেসক্লাবের পক্ষে তাকে অভিনন্দন জানাই । এবং আলমগীর ভাইয়ের কাছে আবেদন রাখি নবীনগরের সাংবাদিকদের জন্য সাংবাদিকতার বুনিয়াদী প্রশিক্ষন এর ব্যবস্থা গ্রহন করার । তিনি বললেন, আমি কোথায় প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করব তোমরাতো চতুরধারায় বিভক্ত । আমি একক কোন সংগঠনের জন্য প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে পারবো না । আমরা বললাম চারটি সংগঠনের সাংবাদিকদের নিয়েই প্রশিক্ষন গ্রহন করবো । আপনি দয়া করে ব্যবস্থা করুন আরো বললাম অাপনি নবীনগরের সন্তান হিসাবে, আমাদের প্রতি আপনার দায়িত্ব এড়াতে পারেন না, এই প্রশিক্ষনের সুযোগে আপনি এই চারটি সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে এক প্লাটফর্মে আনবেন। তিনি রাজি হলেন বললেন, তোমরা আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে ৪০ জনের একটি তালিকা প্রেরনরে জন্য । আমরা সকল সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করি ,আমাদের সাংবাদিকতায় বুনিয়াদী প্রশিক্ষন প্রয়োজন বিষয়টি তুলে ধরে প্রশিক্ষন গ্রহনের আহবান জানাই । সাংবাদিক নেতারা রাজি হলেন, আমরা তালিকা তৈরী করে আলমগীর ভাইয়ের কাছে পাঠাই । ২০১৪ সাল ডিসেম্বরে আলমগীর ভাই নবীনগরে সাংবাদিকদের তিনদিনের বুনিয়াদী প্রশিক্ষনের তারিখ জানালেন । ২৩ থেকে ২৫ ডিসেম্বর, স্থান উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন । উদ্বোধন করলেন স্থানীয় সাংসদ ফয়জুর রহমান বাদল । সমাপনি দিন ২৫ ডিসেম্বর নবীনগরের সাংবদিকদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন । সমাপনিতে আমার সভাপতিত্বে আলমগীর ভাই প্রধান অতিথি । আমারা সবাই আমাদের বক্তব্যে জুড়ালো দাবী তুললাম, “অালমগীর ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা ঐক্য চাই ঐক্য চাই ” । আমাদের এই প্রচন্ড জোড়ালো দাবীর পেক্ষাপটে তিনি সেইদিন নবীনগরে থেকে গেলেন । রাতে প্রেসক্লোবে আলমগীর ভাই আমাদের সবাইকে নিয়ে বসলেন। আনুষ্ঠানিক ওই সভায় আমার সভাপতিত্বে আলমগীর ভাই ঐক্য পত্রিয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরলেন। সভায় বিশদ আলোচনায় ঐক্য প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করা হলো । সিনিয়র হিসাবে আবু কামাল খন্দকার স্যারকে আহবায়ক ও চারটি সংগঠনের ২ জন করে প্রতিনিধি নিয়ে ৯ সদস্য বিশিষ্ঠ এ কমিটি গঠিত হয় এবং একটি রেজুলেশন করা হয় । সেই রেজু্লেশনটি পাঠ করেন গৌরাঙ্গ দেব নাথ অপু । সিদ্বান্ত হয় এবং আলমগীর ভাই ঘোষনা করলেন এ কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে ঐক্য প্রক্রিয়ার সকল কার্যক্রম শেষ করে আমাকে জানাবেন ।আমি জেলার সাংবাদিক নেতা আরজু ভাইকে নিয়ে নবীনগর এসে আনুষ্ঠানিক ভাবে মিলন ঘটাবো । কিন্তু বিধি বাম ১৪ মাস পেরিয়ে গেল খন্দকার স্যার ঐক্য পত্রিয়ার কাজটি নিয়ে এগুতে পারলেন না । বিরোপ সমালোচনা হলো । এরই মাঝখানে একবার ডাক বাংলোয় চার সংগঠনের নেতাদের নিয়ে একটি সভা হয় ওই সভাটি ডেকেছিলেন খন্দকার স্যার নয়, আরজু ভাই । তারপর হবে হবে শুনতে শুনতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল । শেষ অবদি আমাদের বর্তমান ক্লাবের সম্পাদক শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী শ্যামল এর আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় অনেক প্রতিকুলতা ও বাধাঁ অতিক্রম করে গত শুক্রবার ঐক্য পত্রিয়ার চুড়ান্ত লক্ষে পৌছা গেল । এই ঐক্য প্রক্রিয়া অবশ্য কিছু পিপড়ে সারা দেয়নি, অসুবিধা নেই ক্লাবে যারা আসছেন, যারা আছেন তাদের ঐক্যের বন্ধন যদি শক্ত থাকে তবে ওই সমস্ত সামান্য পিপড়েগুলো পায়ের তলায় পিষ্ট হবে যাবে।

লেখক, মাহাবুব আলম লিটন, সাবেক সভাপতি নবীনগর প্রেসক্লাব।।


Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 26223 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০