শিরোনাম

প্রচ্ছদ টিপস, শিরোনাম, স্লাইডার

ফেসবুকে ঝগড়া ? জেনে নিন কী করবেন !

সত্য রঞ্জন রায় | শনিবার, ২৩ জুলাই ২০১৬ | পড়া হয়েছে 2425 বার

ফেসবুকে ঝগড়া ? জেনে নিন কী করবেন !

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এখন আমাদের জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেকে তো সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের সেলফি দেন, ঘুমোতে যাওয়ার আগে আরেকটা সেলফি দেন। নিজেকে তুলে ধরা, প্রকাশ করা, সেটা শুধু ছবির মাধ্যমে নয় স্ট্যাটাসে, কমেন্টে, শেয়ারে সবকিছুতে আমরা যেন নিজের একটা ছাপ রেখে যেতে চাই। এক প্রকার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা। কিন্তু যত যাই হোক, ফেসবুক কিন্তু আপনার আমার ড্রয়িং রুম নয়! সেখানে চাইলেই সব করা যায় না। ফেসবুকে ঝগড়া, বাক-বিতন্ডা, মতের অমিল সবই হতে পারে। কিন্তু সেখানে নিজেকে কি সবটা তুলে ধরা যাবে? ইচ্ছেমত গালিগালাজ শুরু করে দিলে আপনার ব্যক্তিত্ব কোথায় যাবে ভেবে দেখুন তো! তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝগড়া করতে হলে আপনাকে একটু সচেতন আর কৌশলী হতেই হবে? তাই নয় কি? আগে বুঝুন, তারপর উত্তর দিন আপনার বন্ধুর কোন পোস্ট, শেয়ার বা কমেন্ট দেখে হয়ত আপনি বিরক্ত। কিন্তু তার এই কাজের পেছনে আরও অনেক ঘটনা থাকতে পারে। অনেক কারণ থাকতে পারে যা হয়ত আপনি জানেন না। তাই পাল্টা আক্রমণ না করে আগে ইনবক্স বা ফোনে জেনে নিন, ঘটনা কি! শ্রদ্ধা বজায় রাখুন আপনি যদি অন্যের কাছ থেকে শ্রদ্ধা পেতে চান তাহলে আপনাকে আগে শ্রদ্ধা দিতে হবে। ফেসবুকে যে মানুষটার সাথে আপনার মনোমালিন্য তিনিই শুধু আপনার কমেন্ট দেখছে্ন এমন নয়। দেখছেন আরও অনেকেই। তাই তিনি আপনার সাথে যতই বিরূপ আচরণ করুন না কেন আপনি সংযত ভাষা ব্যবহার করুন, শ্রদ্ধা বজায় রাখুন। দায়িত্বশীল হন আপনার আচরণে দায়িত্বশীল হন। নিজে এমন কোন পোস্ট দেবেন না, শেয়ার করবেন না বা কমেন্ট করবেন না যা আপনি বোঝেন না। আমাদের অনেক রাজনৈতিক সামাজিক ইস্যু আছে, যা নিয়ে ফেসবুকে হয়ত তুমুল তর্ক চলে। আপনি আগে সেগুলো সম্পর্কে পড়াশোনা, বুঝুন। তারপর নিজের মত দিন। আক্রমণাত্মক কথা বলা থেকে বিরত থাকুন কারও উপর আপনার যত রাগই থাকুক না কেন, চেষ্টা করুন সেটা সামনাসামনি মিটিয়ে ফেলতে। ফেসবুকে তাকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি বা ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস দেওয়া, বাক-বিতন্ডায় যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এত আপনারই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করুন ফেসবুকে আপনার কার্যকলাপে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিন। কোন ভাবেই নিজেকে কোন বিশেষ দলের বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার হতে দেবেন না। যে কোন পরিস্থিতিতে আপনার যা মত তা প্রকাশ করুন, কিন্তু সেটা অবশ্যই যেন আপনার একান্ত নিজস্ব ভাবনা হয়। কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অথবা সবাই যে দিকে যাচ্ছে সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে কোন বক্তব্য দেবেন না। ঝগড়া কাউকে বদলায় না আপনি কাউকে ঝগড়ায় হারিয়ে দিলেই যে বদলে যাবে তা তো নয়। লোক সম্মুখে ঝগড়ায় বরং মানুষ অনেক বেশী আত্মকেন্দ্রিক হয়ে লড়াই করে। ইগোকে অনেক গুরুত্ব দেয়। কোনভাবেই সে নিজের ভুল স্বীকার করতে চায় না। এধরণের তর্কে আপনার নিজের ক্ষতি ছাড়া কোন লাভ নেই। মানুষকে যদি বদলাতেই না পারেন তাহলে বৃথাই কেন কথা খরচ করবেন? সাবধান হন মেসেঞ্জারেও লিখে লিখে ঝগড়ায় কখনো সিদ্ধান্তে আসা যায় না। কারণ লেখার মাঝে আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করা খুবই কঠিন। আপনি যা ভাবেন তা বোঝানো প্রায় অসম্ভব। মেসেঞ্জারে এই ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে আরও বেশী। তার ওপর এখন স্ক্রীনশটের যুগ। গোপনে বলছেন, কেউ জানছেন না ভেবে লেখা আপনার প্রতিটি কথাই প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। তাই সাবধান হন।

Facebook Comments


এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সংগঠনের প্রচার করুন নিজেরাই

১০ জুলাই ২০১৬ | 1926 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮